গল্পগুচ্ছতে প্রকাশিত লেখার বিষয়ভাবনা বা বক্তব্যের দায় লেখকের । সম্পাদক কোনভাবেই দায়ী থাকবেন না ।

বুধবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১৯

সুধাংশু চক্রবর্ত্তী


 মনীষা

কেকা সেন


স্মৃতি-রেখা

সুবীর কুমার রায়


একবার,শুধু আর একবার

সমীরণ চক্রবর্তী


মানবিক

ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী


মাঠ
  

দেবাশিস কোনার

আফরোজা অদিতি


একটি দিন ও ছিনতাইয়ের গল্প

পলাশ কুমার পাল


 রঙ

তাপসদাস


সাক্ষী

সুদীপ ঘোষাল


অনিবার্য অন্তর্জলির আগে

তাপসকিরণ রায়


ধারাবাহিক হ্যান্টেড কাহিনী--৩৬

আসানসোলের সেন্ট প্যাট্রিক এইচ এস স্কুলের রহস্য কথা



আসানসোলের সেন্ট প্যাট্রিক এইচ এস স্কুলকে ভুতুড়ে স্কুল বলে মনে করা হয়। কোন অলৌকিক রহস্য একে নাকি গ্রাস করে আছে।
রুনা এই স্কুলের ক্লাস এইটের ছাত্রী। সে সে দিন দুপুরে তার অফ পিরিয়ডে নিজের ক্লাসে বসে ছিল। অন্য ছাত্র-ছাত্রীরা তখন ক্লাসের বাইরে ছিল। রুনা মনোযোগ দিয়ে ইতিহাসের বই পড়ছিল। কারণ ছিল ভয়--ইতিহাসের মাস্টারমশাই ভারী বকাবকি করেন, এমন কি বেত চালাতেও তিনি পিছু পা হন না। বয়সে তিনি বৃদ্ধ আর বৃদ্ধ হলে বোধহয় কিছুটা রগচটা স্বভাবের হয়। সেই ইতিহাসের মাস্টারমশাই ক্লাসে ঢুকলে সবাই ভয়ে একেবারে চুপ মেরে যায়। তাঁর পিরিয়ডে পড়া না পারার জন্য ভানু ও অরুণকে একদিন কি পেটান টাই না তিনি পিটিয়ে ছিলেন। এ সবের জন্য স্কুলের সব ছাত্র-ছাত্রীরাই তাঁর ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকে। ব্যাস আর পাঁচ সাত মিনিট পরেই তিনি এসে তাঁর ইতিহাসের ক্লাস শুরু করবেন। আর একটু পরেই মাস্টারমশাই আসবেন, কথাটা ভেবে রুনা পড়ায় গভীর মনোযোগ দিয়ে ছিল আর ঠিক এমনি সময় হঠাৎ তার সামনের শিক্ষকের চেয়ারটা কেমন যেন নড়েচড়ে উঠলো। প্রথমটায় রুনা বিশেষ গায়ে লাগায় নি, তারপরে তার চোখ পড়ল, তার সামনের শিক্ষকের টেবিলটাও কেমন যেন ঠকঠক শব্দ করে নড়ে যাচ্ছে !
--কে? কে?? বলে, রুনা নিজের জায়গা থেকে ভয়ে উঠে দাঁড়াল।
এ কি ! কি হচ্ছে কি ? রুনা তখন ভয়ে চারদিকে রাখা বেঞ্চ ডেস্ক পার করে বাইরে বের হতে পারছিল না। তারই মধ্যে এক এক করে ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রবেশ করছিল। ওরা কিছুই লক্ষ্য করেনি। সামান্য পরে সবাই যার যার জায়গায় গিয়ে যখন টেবিল চেয়ারের নাড়াচাড়া লক্ষ্য করল তখন ওরা ভয়ে থ মেরে দাঁড়িয়ে পড়ল। শিক্ষকের টেবিল-চেয়ার দস্তুর মত থরথর করে কেঁপে উঠছে। ছাত্রছাত্রীদের কেউ কেউ এবার ভয়ে চিৎকার করে উঠছে। একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে, ভয়ে ওদের মধ্যে কেউ কেউ কেঁপে কেঁপে উঠছে। ভয় আর কাঁপা-কাঁপির মধ্যে হঠাৎ ইতিহাসের মাস্টারমশাই ক্লাসে এসে ঢুকলেন আর ছাত্র-ছাত্রীদের চেঁচামেচি থামাবার জন্যই তিনি চিৎকার দিয়ে উঠলেন, কি হচ্ছে ? কি হচ্ছে কি ? দাঁড়া তোদের সবকে চাপকে আমি সিধা করছি।
এবার মাস্টার মশাই তার চেয়ার টেবিলের কাছে এসে থমকে দাঁড়ালেন। তার চেয়ার টেবিল তখন মেঝে থেকে তিন চার ফুট উপরে উঠে ঝুলছে! এমনি ঘটনা ছাত্র-ছাত্রীদের ও টিচারদের সামনে এই প্রথম ঘটলো। এর আগে স্কুলের চৌকিদারদের মুখেও অনেক বার এমনি ধরনের ঘটনা শোনা গেছে বটে--স্কুলে নাকি ভূত আছে, ওরা নাকি রাতে চেয়ার টেবিল নাড়াচাড়া করে। 
একজন চৌকিদার কদিন আগে এসে তো হেড স্যারকে বলেই ফেলল, স্যার স্কুলে ভূত আছে। রাতে আমি আর যতীন দুজন স্কুল চৌকিতে ছিলাম। হঠাৎ ক্লাস এইট এর রুমে খটখট শব্দ হতে লাগলো, সে সঙ্গে আমরা একটা গুমগুম আওয়াজ পাচ্ছিলাম। আমাদের মনে হচ্ছিল যেন দিনের বেলার মতই ওই ঘরে ক্লাস চলছে--ছেলে-মেয়েদের কোলাহল গুঞ্জন সবকিছুই যেন চলছিল !
স্যার জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমরা ক্লাস ঘরের দরজা খুলে দেখনি ?
--হ্যাঁ স্যার, ভয়ে ভয়ে আমরা যেই ওই ক্লাসের দরজার তালা খুলেছি ওমনিই একটা হু হু করা হাওয়া আমাদের পাশ থেকে বেরিয়ে গেল।
--ঘরের ভেতর তোরা কিছু দেখতে পেলি? হেড সার জিজ্ঞেস করেছিলেন।
--আমরা দেখলাম, কাঁপা গলায় চৌকিদার বলল, আমরা দেখলাম, কিছু ডেস্ক বেঞ্চে ঠক ঠক করে শব্দ হচ্ছিল, আর তার পাশেই দেখি শিক্ষকের চেয়ার-টেবিল দুটো শূন্যে ঝুলছে! একেবারে ছাদের দেয়াল ঘেঁষে লেগে আছে !
--তারপর? হেডস্যার আশ্চর্য চোখ নিয়ে চৌকিদারের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন।
--তারপর দেখি যতীন ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে পড়ে গেল আর আমি কোন মত তাড়াতাড়িতে চেয়ার-টেবিলে ধাক্কা খেয়ে ক্লাস রুম থেকে বেরিয়ে এলাম।
এই ঘটনার পরই ইতিহাস টিচারের ক্লাসে এমনি ঘটনা ঘটলো। ইতিহাস শিক্ষক তখন দিশাহারা--কি করবেন, কি না করবেন, কিছুই তিনি বুঝতে পার ছিলেন না। অন্য দিকে হৈ-হল্লা শুনে অন্য ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষকরা সবাই এসে হাজির হল। হেড টিচার ক্লাসে ঢুকে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। তাঁর মুখ থেকে কোন শব্দ উচ্চারিত হচ্ছিল না। তিনি দেখলেন, ক্লাসে শিক্ষকের চেয়ার-টেবিল শূন্যে ভাসছে। হেড সার বুঝতে পারছিলেন না--এ কি দৃশ্য ! এ কি ম্যাজিক রে বাবা ! এক অলৌকিক দৃশ্য সে দিন দিবালোকে স্কুলের সবাই প্রত্যক্ষ করলেন। হেড স্যার বুজতে পারলেন, সে দিন চৌকিদার সত্যি কথাই বলেছিল। 
আসানসোলের সেন্ট প্যাট্রিক এইচ এস স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা এমনি অদ্ভুত সব ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছিল। এমনি ভৌতিক অলৌকিক ঘটনায় উদবিঘ্ন হয়ে পড়েছেন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা, শিক্ষক ও স্কুল কর্তৃপক্ষও, সে সঙ্গে খুব দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরাও। তবে এটাই রক্ষে যে সেই ভূত বা অলৌকিক শক্তি যাই হোক না কেন কারও কোন ক্ষতি কিন্তু করছে না। তবুও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে--শিক্ষকরা না পারছেন ভালোভাবে ছাত্রছাত্রীদের পড়াতে, ছাত্র-ছাত্রীরাও না পারছে মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করতে।
এমনি ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষী হয়ে আজও সে স্কুল চলছে। ভয় সবার মনেই অনেকটা সহন হয়ে গেছে।   ভূত বা অলৌকিক শক্তি তার ভেলকি খেলা দেখিয়ে যাচ্ছে আর তার মধ্যে দিয়েই চলছে স্কুলের পড়ালেখা পর্ব।  


মঙ্গলবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮

৮ম বর্ষ ৫ম সংখ্যা ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ।। ১০ই পৌষ ১৪২৫

এই সংখ্যার লেখকসূচি : অরুণিমা চৌধুরী, সুবীর কুমার রায়, রিমি মুৎসুদ্দি, তাপসকিরণ রায়, স্বরাজ দত্ত, পার্থ রায়, সুদীপ ঘোষাল, মনোজিৎ কুমার দাস, ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী ও দেবাশিস কোনার ।

সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করুন

অরুণিমা চৌধুরী

মন জানালা খুলে দে না

তখন সেজোদিদার কাছে থাকতুম। সক্কাল সক্কাল ঘুম থেকে তুলিয়ে মা দিদার জিম্মায় দিয়েই ছুটতো বাস ধরতে। আর আমি বগলে চারটি এবিসিডির প্লাস্টিক ছাঁচ, বই টই কিছু একটা, একটা ইজের অতিরিক্ত- নিয়ে ঢুকে পড়তুম দুকামরার ব্যারাক বাড়িটায়। বাড়িটার বারান্দায় গোল লোহার পাইপ, দুহাতে ধরে ঘুরেঘুরে দোল খাওয়া যায় বেশ, অবশ্য দিদার নজরে এলেই বকবে অতএব সবটাই চুপিচুপি। নীলুমাসি, শিলুমাসি, ইলুমাসি সব্বাই ঘুম থেকে উঠে পড়লেও নিপুমামার তখনো ঘুম ভাঙেনি। ঘুম ভাঙলে তবে চা হবে। আর তাইতে আমার খুব লোভ। কেন! না, দিদা নোনতা বিস্কুট দেবে, যত দেবে আমি সওব চায়ে ডুবিয়ে দেবো। খাবো না। বলবো, "আরো বিস্কুট দাও!" তারপর সবটা চায়ে ভিজে, বিস্কুট কাদাকাদা হয়ে, আমার ছোট্ট কাপ উপচে উঠলেই চামচ চাইব। কি আরাম চায়ে ভেজানো বিস্কুট খেতে! তারপর মাসিরা বই খুলে বসলে আমিও আমার সম্বল খুলে বসবো। মাসিরা খবরদারি করবে আমার উপর। আমি কিন্তু অপেক্ষায়, কখন ইস্কুলের রিক্সা আসবে ওরা বেরিয়ে পড়লেই আমি চৌকির নীচ থেকে ইলুমাসির পুতুলের বাক্স হাঁটকাব।
এমনি করে সকাল কিছুটা পাতলা হবে, দিদা রান্নাঘরে চাল ভিজিয়ে বারান্দায় আসবে। আমি ঠিক ফাঁকতালে গিয়ে ভেজা চালের ভিতর মুঠো ডুবিয়ে খলবল করব। আমার কি যে ভালো লাগতো চাল খাবলাতে! অথচ এখন রোজই চাল ধুচ্ছি, রান্না করছি, সেই অনুভূতি নেই তো!
সে যাইহোক, সেজোদাদুর বাড়িতে থাকত আরেক দিদা,মায়ের এক সম্পর্কিত বালবিধবা পিসি, যাকে আমরা ডাকতুম "কোদাল দিদা" বলে। অমন সুন্দরী, ফর্সা, ছেলেদের মতো করে চুল কাটা, কোমর পড়া মানুষটিকে কেন যে আমরা ভাইবোনেরা সবাই "কোদালদিদা" বলেই ডাকতুম,তার কোন হদিশ আজ আর দিতে পারব না।
কোদাল দিদা নিরামিষাশী, বারান্দায় এইটুকু একটা পিঁড়ি পেতে সবজি কাটতো। এমনিতে ভালোই, কিন্তু আমি তাকে এড়িয়ে চলতুম। কেন না কোদাল দিদার ভারী ছড়াকাটার অভ্যেস। আমায় দেখলেই তার প্যারোডি করার ঝোঁক( এখন প্যারোডি বুঝলেও, তখন কি ছাই বুঝতুম!) দিদা সুর করে গাইতো, "অমিতার বর এসেছে ল্যাংটা লো ল্যাংটা, অমিতা মাথায় দেলো ঘোমটা "..
এর পিছনের গল্পটি একটু জানা দরকার, আমাদের পাড়ায় একটি পাগল আসতো। হাঁটতে পারতো না, পাছু ছেঁচড়ে রাস্তা দিয়ে যেতো। কাউকে মারাকোটা করেনি কখনো। গরমের দিনে আম কাটলে,প্রায়ই মা আমার হাত দিয়ে তাকে আম পাঠাতো। তাতেই সবাই আমায় ক্ষেপাতো, আমি রাধুপাগলাকে বিয়ে করব। বলা বাহুল্য, পাছু ছেঁচড়ে চলার কারণে রাধুর প্যান্ট ছিল ছেঁড়া।
 
এবার বলুন, ছোট বলে আমার কি একটা মান সম্মান নেই! খুব রাগ হতো কোদালদিদার উপর।
তবে সে বুড়ির অনেক গুণ, অবসরে পুরনো কাপড়ের পাড় থেকে সুতো খুলে এমন সুন্দর নক্সি কাঁথা সেলাই করতে আর কাউকে দেখিনি।
বেলা আরেকটু গড়ালে, মাসিরা আমায় নিয়ে খেতে বসতো। সেই ছোট্ট রান্নাঘরেই সেজোদিদার উনুন একদিকে, আরেকদিকে সার বেঁধে নীলুমাসি, শিলুমাসি ইলুমাসি আর আমি। আমি তখন কোদালদিদার পিঁড়িটি কায়দা করে দখল করেছি।
এইবার খেতে বসে আমার অনেক শিক্ষেদীক্ষে হতো। শিলুমাসি যা শেখাবে, ইলুমাসি ঠিক তার উল্টো কথা কইবে। এই যেমন খেতে বসে আমি ছোট মানুষ, থালার বাইরে ভাত ছড়াতুম ঢের। শিলুমাসি হয়ত বল্লো, "ভাত কুড়িয়ে নে, নষ্ট করতে নেই। " আমিও লক্ষ্মী মেয়ের মতো যেই না কুড়িয়ে নিয়ে খেতে যাব, অমনি ইলুমাসি হাতে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে বলবে, 'মাটির থেকে কুড়িয়ে খাচ্ছিস, পেট ব্যথা করবে না!"দিদা বলতো, " অমন জিভ বের করে, হাঁ করে খেতে নেই, বিয়ে হলে লোকে নিন্দে করবে"... তখন বুঝিনি, এখন বুঝি, বিয়ে ব্যাপারটা শিলুমাসি ইলুমাসির দ্বন্দ্বের মতো, যাই করো জিভ নাড়াও বা নাই নাড়াও, দোষের। এই দ্যাখো! আবার অফ দ্য ট্র‍্যাক কইতে বসে গেছি..
মাসিরা যেদিন ইস্কুলে যেতো,সেদিন তো যেতোই, তারপর সেজোদিদার মাথায় ছোট ছোট হাতে তেল থাবড়ে বাচ্চা মতো ত্যাড়াবেঁকা একটা বিনুনি বেঁধে দিতুম। দিদা চানে যাবার আগে খবরের কাগজটি মেলে বসতো। সেরকমই একদিন পাতা জুড়ে ছবি এলো উত্তম কুমার আর নেই। যেদিন মাসিরা ইস্কুল যেতো না, তিনজনেই বাড়ি থাকতো, সেদিন অবধারিত ভাবে আচার চুরি করতো। নীলুমাসি তিনজনের মধ্যে বড়, তাই কিছু দায়িত্ববোধ ছিল। তেঁতুল, কুলের আচার আমার মুখে ঢুকিয়ে বীজ গুণে রাখতে হতো তাকে। তা সত্ত্বেও আমি ও কম্মোটি করতুম। বীজটি গিলে ফেল্লেই ভয় দেখানো হতো, "পেটে গাছ হবে".. আমি পুকুরের পাড়ে ভাবতে বসতুম, তাইতো! মাথার উপর দিয়ে ডালপালা উঠছে, পা দিয়ে শিকড় নেমে যাচ্ছে, আমি মা যাব কেমন করে! মা! ব্যস! মায়ের কথা মনে পড়লেই তো কান্না গিলে কাঠ হয়ে থাকা.. মা কেন ইস্কুলে যায়! যায় যদি, আমায় কেন নেয় না! 
এমনি দুপুরের দিনে ঘুলঘুলি দিয়ে অন্ধকার ঘরে আলো আসতো, রাস্তার ধারের ব্যারাক বাড়ি, দুপুরভর তাতে লোক চলাচল করে। আর চৌকির উপর শুয়েশুয়ে তিন মাসির সঙ্গে আমি উলটো মুখো লোকের চলাচলের সিনেমা দেখি..
এখনো অবসরে সেই মানুষগুলো চোখের সামনে দিয়ে হেঁটে যায়, সবাই উল্টোমুখো। আয়নায় ছায়া পড়ে। অনেকদিন চুলে কলপ করিনি। কেমো নেবার পরে আমার প্রায় সব চুল সাদা হয়ে গেছে। আর নীলুমাসি! অনেক অনেক বছর আগে যখন দেখেছি, তার বিয়েটাও দোষের হয়ে গেছে, অথচ সে কোনদিন মুখ হাঁ করে সপসপ করে ভাত খায়নি। আমার অসুন্দর নীলুমাসির সুন্দর মেসোমশাই এ বাড়িতে আসা যাওয়ায় আগল পরিয়েছেন। শিলুমাসির বাচ্চাটা সেরিব্রাল পলসিতে মাত্র সাত বছর বয়সে চলে গেছে.. কোদালদিদা তো আমার সেই ইস্কুলে ভর্তির আগের বয়েসেই নেই হয়ে গেলো। একদিন রাতে ঘুমিয়ে আর উঠলোনা। সেজোদিদার কোমর পড়ে গেছে। বাড়িটা এখনো আছে, কিন্তু স্থান সঙ্কুলান হয়নি কারো..
সময় এগিয়ে যায়,আমি পিছিয়ে আসি.. শীতকাল কবে ফুরোবে, আমার কবিতা আসেনা বড় ডিপ্রেশন হয়।


সুবীর কুমার রায়

সুখস্মৃতি

জীবনে চলার পথে এমন ছোট ছোট কিছু ঘটনা ঘটে, সারাটা জীবন যা মনের কোণে সুখস্মৃতি হয়ে রয়েই যায়। আমার জীবনে এরকম অনেক, অনেক ঘটনা ঘটেছে। আজও হঠাৎ কোন বিশেষ ঘটনার কথা স্মৃতি হঠাৎ করে মনে করিয়ে দিলে, খুব ভালো লাগে, দিনটা ভালো কাটে। আজ হঠাৎ এরকমই একটি পরিবারের কথা মনের কোণে ভেসে উঠলো। তাঁরা কোথায় আছেন জানি না, তবু সেই দিনের সুখস্মৃতির জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানানোর জন্যই এই স্মৃতিচারণা।
বিয়ের কয়েক মাস পরেই আমরা হিমাচল প্রদেশে ঘুরতে যাই। আমার এক সহকর্মী, তার স্ত্রী, আড়াই বছরের শিশু কন্যা, ও শ্যালিকাকে নিয়ে আমার সাথে ভ্রমণ সঙ্গী হিসাবে গিয়েছিল। দু-একটা জায়গা ঘুরে আমরা পালামপুরে এসে হাজির হলাম। এখনকার অবস্থা আমার সঠিক জানা নেই, কিন্তু সেই সময় পালামপুরে রাস্তার ওপরেই একটা সম্ভবত তিনতলা বড় হোটেল ছিল। সেই সময় এই হোটেলটাকেই নিরাপদ ও সুন্দর মনে হওয়ায়, আমরা সেই হোটেলে দুদিনের জন্য দুটো ঘর নিয়ে দিব্যি গুছিয়ে বসলাম। পরের দিন সকালের দিকে পাকা রাস্তা ধরে চা বাগানের মধ্যে দিয়ে অনেকটা পথ হেঁটে নিউগল্ পার্কের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময়, জায়গাটার সৌন্দর্য দেখে অবাক হয়ে গেলাম। একসাথে হাঁটা শুরু করলেও, আমার বন্ধুটি সম্ভবত আমাদের একটু একা হাঁটার সুযোগ দেওয়ার জন্যই, ধীরে ধীরে সপরিবারে অনেকটা পথ পিছিয়ে পড়লো। অবশ্য তাদের সাথে একটা বাচ্চা ছিল, এটাও ধীরে হাঁটার একটা কারণ অবশ্যই ছিল। সে যাহোক, নিউগল্ পার্কে আমরা অনেকক্ষণ সময় শুয়ে বসে আড্ডা দিয়ে কাটিয়ে হোটেলে ফিরে স্নানাহার সেরে একটু বিশ্রাম নিচ্ছি, এমন সময় হোটেলের একজন কর্মচারী আমায় এসে জানালো, যে আমার একটা ফোন এসেছে। আমি একটু অবাক হয়ে বললাম যে, আমাকে এখানে কেউ চেনে না, তাছাড়া আমি যে আজ এখানে থাকবো ও এই হোটেলে উঠবো তাও কারও জানার কথা নয়, কাজেই আমায় কেউ ফোন করতে পারে না, তার নিশ্চই কোথাও কোন ভুল হচ্ছে। হনহন্ করে নীচে ফিরে যাওয়ার আগে সে শুধু জানালো, যে একজন ডাক্টার সাব আপনার রূম নাম্বার ও নাম জানিয়ে ফোনটা করেছেন, নীচে গিয়ে ফোনটা ধরুন।
এবার  আমার ঘাবড়াবার পালা। বাড়িতে টেলিফোন নেই, অবশ্য তখন হাতেগোনা দু’-একজনের বাড়িতেই টেলিফোনের দেখা মিলতো। যে দু’-চারজন ডাক্তার আমার পরিচিত, তারা আমার অফিসেও আজ পর্যন্ত কোনদিন ফোন করেননি। তাহলে কি বাড়িতে কোন বিপদ ঘটায় কোন ডাক্তার আমায় ফোন করে জানাচ্ছেন? কিন্তু তিনিই বা এই হোটেলে আমার উপস্থিতি, এমনকী আমার রূম নাম্বার জানবেন কিভাবে। নীচে যাওয়ার সময় পাশের ঘরে বন্ধুকে ডাকতে গিয়ে শুনলাম, যে সে সম্ভবত সিগারেট কিনতে বেড়িয়েছে। অগত্যা একা একাই নীচে গিয়ে রিসেপশনে ফোনটা ধরলাম। অপর প্রান্ত থেকে এক পুরুষ কন্ঠ আমায় আমার নাম উল্লেখ করে জানালেন, যে তিনি ডক্টর অআকখ (এতবছর পরে আর তাঁর নাম মনে নেই) বলছেন। আমি তাঁকে জানালাম যে তাঁর বোধহয় কোথাও কোন ভুল হচ্ছে। কারণ এখানে, এই পালামপুরে আমি গতকালই এসেছি, এবং এখানে আমার কোন পরিচিত ব্যক্তিও বসবাস করেন না। উত্তরে তিনি শুধু বললেন, যে তাঁর কোন ভুল হচ্ছে না। আমি আমার বন্ধুটিকে জিজ্ঞাসা করলেই তাঁর পরিচয় পাবো। আমার বন্ধুর নাম উল্লেখ করে তিনি জানালেন, যে আজ সন্ধ্যায় যদি আমি সপরিবারে বন্ধুর পরিবারকে নিয়ে তাঁর বাসায় আসি, তাহলে তিনি খুব খুশি হবেন। সন্ধ্যায় দেখা হলে জমিয়ে আলাপ হবে জানিয়ে, সন্ধ্যার সময় তাঁর বাড়িতে যাবার জন্য আর একবার অনুরোধ জানিয়ে, তিনি ফোনটা ছেড়ে দিলেন।

সিগারেট কিনে বন্ধুটি হোটেলে ফিরলে, তাকে সব জানালাম। সে জানালো যে নিউগল্ পার্ক যাওয়ার পথে একটা ছবির মতো সুন্দর ছোট্ট বাড়িতে একজন বাঙালি ডক্টোরেট ভদ্রলোক থাকেন, যিনি সম্ভবত এখানকার কোন এনিমেল হাজবেন্ড্রী এন্ড ভেটেরিনারি সায়েন্স্ কলেজের প্রিন্সিপাল। আরও জানলাম যে যাওয়ার পথে তাঁর সাথে ওর আলাপ হয়েছিল, ভদ্রলোককে সে আমাদের কথা, আমরা এখানে কোন হোটেলে উঠেছি, কোথা থেকে এসেছি, এখান থেকে কোথায় কোথায় যাবো, ইত্যাদি সবকিছুই বলেছিলএতক্ষণে বুঝলাম, যে নিউগল্ পার্কে তাদের পৌঁছতে বিলম্ব হওয়ার তৃতীয় কারণটা কি।
যাইহোক বিকালের শেষভাগে আমরা ভদ্রলোকের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। নিউগল্ পার্ক যাওয়ার পথে, পার্ক থেকে অনেকটা পথ আগে, রাস্তার ডানদিকে সত্যিই একটা ছবির মতো সুন্দর ছোট্ট বাড়ি। বাড়ির সামনে ফুলগাছে সুন্দর সুন্দর ফুল ফুটে আছে। বার দু’-তিন কলিং বেল বাজানোর পরে দুটো ফুলের মতো সুন্দর বাচ্চা দরজা খুলে আমাদের দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। ছেলেটা বড়, বছর আষ্টেক বয়স, মেয়েটা বছর দুয়েকের ছোট। বাবাকে ডেকে দিতে বললে তারা নিজেদের মধ্যে চোখ চাওয়াচাওয়ি করে জানালো, বাবা বাড়ি নেই। বাধ্য হয়ে মাকে ডেকে দিতে বললে, তারা মাম্মি মাম্মি করে  চিৎকার শুরু করে দিলো। তাদের ডাকাডাকিতে বাচ্চা দুটোর মা এসে আমাদের সোয়া পাঁচজনের বিরাট অচেনা দলটাকে দেখে একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “কাকে চাই”? সর্বনাশ, আমাদের অত দূর থেকে ডেকে এনে এ কি রসিকতা! আমার বন্ধুটি আমাদের আসার কারণ জানাতে ভদ্রমহিলা আমাদের বসার ঘরে নিয়ে গিয়ে বসালেন। কিছুক্ষণ কথাবার্তায় বুঝে গেলাম, ভদ্রলোক আমাদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও তাঁর বাড়িতে আমাদের আসার অমন্ত্রণের কথা স্ত্রীকে বলতে সম্ভবত ভুলে গেছেন। আমরা চা খেয়ে আরও কিছুক্ষণ গল্পগুজব করে কেটে পড়ার ধান্দা করছি, এমন সময় ভদ্রলোক এসে হাজির হলেন। জানা গেল কি একটা কাজে গিয়ে তিনি আটকে গেছিলেন।
ভদ্রলোক আমাদের পাশে বসে জমিয়ে নানারকম গল্প শুরু করলেন। বুঝলাম ভদ্রলোক কথা বলতে বেশ  ভালবাসেন। তাঁর হাতে ও পায়ের পাতার বিভিন্ন জায়গায় দেখলাম  লাল লাল রঙের ছোপ। জিজ্ঞাসা করে জানা গেল, খরগোশের কামড়ের জন্য মারকিউরোক্রম লাগিয়েছেন। ওষুধ লাগিয়েছেন বেশ করেছেন, তা বলে সারা হাতে পায়ে? উনিই জানালেন, যে তাঁর অস্ট্রেলিয়া না কোথাকার যেন খরগোশের একটা ছোট্ট ফার্ম আছে। এই প্রজাতির খরগোশের লোম থেকে অত্যন্ত মূল্যবান উল তৈরি হয়। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে নাকি সেই উল। ওই খরগোশগুলো ভীষণ কামড়ায়, এবং তাদের কামড়ের জন্যই, এতো জায়গায় ওষুধ লাগাবার প্রয়োজন হয়েছে। শুনলাম ভদ্রলোক দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন এবং বিদেশ থেকেই তিনি দু’-দুবার ডক্টোরেট করেছেন। তিনি জানালেন, যে এখানকার মানুষের বিশ্বাস যে এই অঞ্চলে মাছ চাষ করা সম্ভব নয়। তিনি কিন্তু মাছ চাষ করে দেখিয়েছেন, যে এখানেও মাছ চাষ সম্ভব। হিমাচলে ব্যবসা করতে গেলে হিমাচলের একজন মানুষকে পার্টনার হিসাবে নিতে হবে, না এরকম কি একটা নিয়ম আছে। তিনি বোধহয় সে ব্যবস্থাও করে ফেলেছেন। ইতিমধ্যে একপ্রস্ত চা জলখাবারের আয়োজনও সম্পন্ন হয়ে গেছে।
ওনার স্ত্রী জানালেন যে তাঁর বাপের বাড়ি কলকাতার গরচায়। দীর্ঘদিন এই ফাঁকা জায়গায় থেকে থেকে ওনার স্বামীর কলকাতার রাস্তাঘাট ও যানবাহনের ভীড়ভাট্টার ওপর একটা আতঙ্ক এসে যাওয়ায়, তিনি সহজে আর কলকাতামুখো হন না, ফলে তাঁরও বাপের বাড়ি বিশেষ যাওয়া হয়ে ওঠে না। প্রসঙ্গক্রমে আমি বললাম যে গরচায় আমি অনেকবার গিয়েছি, কারণ আমার এক আত্মীয় দীর্ঘদিন গরচায় বসবাস করেন। আমার কথা শুনে ভদ্রমহিলা জানতে চাইলেন, যে আমার সেই আত্মীয় গরচার কোথায় থাকেন। রাস্তার নাম উল্লেখ করতেই তিনি জানালেন, যে তাঁর বাড়িও গরচার ওই একই রাস্তায়। বাড়ির নম্বর জানতে চাওয়ায় তাঁকে বাড়ির নম্বর বলতেই, তিনি উল্লাসিত হয়ে জানালেন, যে তিনিও ওই একই বাড়ির বাসিন্দা। সত্যি কি অদ্ভুত যোগাযোগ। এবার তিনি আমার আত্মীয়র নাম জিজ্ঞাসা করলেন। শিবপুর বি.. কলেজ থেকে পাস করা, অবিবাহিত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বৃদ্ধ ভদ্রলোকের নাম শুনে তিনি হাতজোড় করে কপালে ঠেকিয়ে নমস্কার করে বললেন, “শচীন কাকা আপনার আত্মীয়? উনি আপনার কে হন? আমার জীবনে লেখাপড়া শিখে বড় হওয়ার পিছনে সমস্ত অবদান ওনার। জিওগ্রাফি ভালবাসলেও ওই সাবজেক্টটার ওপর একটা ভীতি আমার ছিলই। উনি আমায় জিওগ্রাফি বুঝিয়ে দেওয়া শুধু নয়, আমি জিওগ্রাফিতে মাস্টার্স করার সময়, উনি আমার সমস্ত নোট তৈরি করে দেন। এবার আমার বিষ্মিত হবার পালা। অবাক হয়ে তাঁকে বললাম,“উনি সম্পর্কে আমার দাদু হন, লেখাপড়ায় উনি খুবই ভালো ছিলেন শুনেছি, কিন্তু উনি তো সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, উনি আপনাকে জিওগ্রাফির নোট কিভাবে তৈরি করে দিতেন বুঝলাম না উত্তরে ভদ্রমহিলা জানালেন যে উনি যতটা সময় পেতেন, নোট তৈরি করে দেওয়ার জন্য আমার জিওগ্রাফির বইপত্র পড়তেন। পরবর্তীকালে আমি আমার ওই দাদুর কাছ থেকে শুনেছিলাম, যে তিনি ওই ভদ্রমহিলাকে জন্মাতে দেখেছেন। পড়াশোনায় খুব ভালো হলেও, জিওগ্রাফির প্রতি ভীতিতে মাস্টার্স পড়া ছেড়ে দেবার উপক্রম হওয়ায়, তিনি তাঁকে সাহায্য করেন। অবশ্য এর জন্য তাঁকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছিল।
যাইহোক এইসব নিয়ে আড্ডা আলোচনায় বেশ একটু রাতই হয়ে গেছিল। এবার আমরা হোটেলে ফেরার জন্য উঠে দাঁড়াতেই, ভদ্রলোক হঠাৎ বললেন এখন হোটেলে ফিরে গিয়ে রাতের খাবার না খেয়ে, এখানে দুটো ডাল ভাত খেয়ে গেলে হতো না”? এক মুহুর্ত সময় অপচয় না করে আমি সরাসরি বললাম, “এই কথাটা   শুনবার জন্য আমি অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করে ছিলাম। কয়েকদিন ধরে লাউকি, আলু গবি, আর আলু মটর খেয়ে খেয়ে জিভে চড়া পড়ে গেছেআমার কথায় ভদ্রলোক হেসে ফেলে বললেন, এতো লজ্জা পেলে চলে? তিনি তাঁর স্ত্রীকে চটপট্ কিছু আয়োজন করে ফেলতে বললেন। আমিও আমাদের সঙ্গের তিনজন মহিলাকে ওনাকে একটু সাহায্য করতে বললাম।
অল্প সময়ের মধ্যেই খানা প্রস্তুত। খুব সুন্দর কি একটা চালের গরম ভাত, সুন্দর ঘি, ডাল, আলু চোখা, বেগুন ভাজা, আর ভদ্রলোকের চাষের সেই বাটা মাছের মতো দেখতে, কি একটা মাছ ভাজা। আহা ঠিক যেন অমৃত খেলাম। ভদ্রলোক অবশ্য একটু দুঃখ করেই বললেন যে এতো রাতে ভালো কিছু জোগাড় করা মুশকিল,  আপনাদের হয়তো খেতে একটু কষ্টই হলোআমরা জানালাম, যে বেশ কয়েকদিন পরে বাঙালি খানায় যেন অমৃতের স্বাদ পেলাম।
এবার ওঠার পালা। ভদ্রলোক বললেন এই পথে রাত হলেও কোন ভয় নেই। নিশ্চিন্তে চলে যান, কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলে, আমার নাম বলবেন আর হোটেলে পৌঁছে আমায় একটা ফোন করে জানাবেনধীরে ধীরে একসময় আমরা হোটেলে ফিরে এসে তাঁকে আমাদের পৌঁছানো সংবাদ জানালাম।  
এবার আপনারাই বলুন, এই দিনটাকে কি ভোলা যায়? প্রার্থনা করি ওনারা যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন।