গল্পগুচ্ছতে প্রকাশিত লেখার বিষয়ভাবনা বা বক্তব্যের দায় লেখকের । সম্পাদক কোনভাবেই দায়ী থাকবেন না ।

রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

১০ম বর্ষ ৭ম সংখ্যা ।। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

এই সংখ্যায় ৮টি গল্প । লিখেছেন : তাপসকিরণ রায়, সুধাংশু চক্রবর্তী, সজল কুমার মাইতি, কৃষ্ণা মালিক, কাজী লাবণ্য।মনোজিৎ কুমার দাশ, জয়দেব সূত্রধর ও গোপেশ দে ।

তাপসকিরণ রায়

 হ্যান্টেড কাহিনী--৫৭

আক্রান্তকাল 



--ভ্যাকসিন তো বেরিয়ে গেল--
 

কে? কে?? রোহিত চমকে উঠলোl 

খানিক স্তব্ধতার পর বাতাসে ইকো সাউন্ডের মত ভেসে এলো, আমি রে রোহিত, তোর দাদু--

রোহিতের দাদু পরেশ বাবুর বয়স সত্তরের কাছাকাছি। রেস্টিকসানে থাকা সত্ত্বেও কি ভাবে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তা জানা নেই।

সুধাংশু চক্রবর্তী


 পদ্মার ইলিশ


 

মাছের থলেতে চোখ বুলিয়ে নিয়ে অর্ধাঙ্গিনী ঝঙ্কার দিয়ে উঠলেন, মাছের থলি ফাঁকা কেন ? মাছ পাওনি ? নাকি সব টাকা সবজীর পিছনে ঢেলে এসেছো ?

কৃষ্ণা মালিক


 বোবা


খদ্দের সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে মানিক। হাটের দিন সকালে, চাকের চারপাশে মৌমাছিদের ওড়াউড়ির মতো দোকানে ভিড়টা জমেছেও খুব। যত ব্যস্ততা বাড়ছে তত লোকটা বেকুব বনে যাচ্ছে।কখনও এর মাল ওকে, ওর মাল তাকে দিচ্ছে ; নয়তো সংখ্যায় কমবেশি। মালিক একবার গম্ভীরসে আওয়াজ ছাড়লেন, এই মানকে -! যেন সাবধানবানী।যাইই হোক, তিনি হলেন ভদ্রলোক। তাই দাঁতমুখ যতই খিঁচুন না কেন , বাঞ্চোত , জানোয়ার শূয়ার – গালাগালগুলো বিড়বিড় করে বর্ষণ করেন। যার উদ্দেশ্যে বলা সে হাজার বোবা হোক , শুনতে পায় পরিষ্কার। মালিক যত দাঁত খিঁচোন , তার দাঁত তত খুলে যায়।

সজল কুমার মাইতি

 


গ্রামের নাম শিয়ালমারি


" এই প্রজাপতি, তোরা এইদিকে বোস ফড়িং, তোরা প্রজাপতিদের ডানদিকে সারিবেঁধে বোস ফুলেরা তোরা মাঝখানে থাক কাঠবেড়ালি, তোরা আমার বাঁদিকটায় বোস মৌমাছি, তোরা কিন্তু ফুলেদের কাছে বসবি না পাখিরা, একদম ফাঁকি দিবি না দূরে দৃরে থাকবি না আজ যা পড়াব, কাল সেগুলো সব পড়ে আসবি আমি কিন্তু কাল সবার পড়া ধরবো কোন ফাঁকি চলবে না" ছোট্ট মিলির ক্লাসে এরাই ছাত্রছাত্রী রোজ নিয়ম করে এদের সঙ্গে পড়ানোর ছলে খেলা করে মিলি মিলি শিয়ালমারি গ্রামের পাঠশালার মাস্টার স্থিতধীর মশাই এর একমাত্র কন্যা ছোট্ট মিলির ছাত্রছাত্রী রূপী খেলার সাথী এরা মিলির এক ডাকে এরা সবাই হাজির হয় মিলি এদের নয়নের মনি শিয়ালমারি মিলির কল্যাণে যেন ছবিছড়ার দেশ এর একদিকে তীর্ণা অন্য দিকে তপস্যা দুই নদী ঘিরে রেখেছে শিয়ালমারিকে

জয়দেব সূত্রধর


 মাথা


বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টিতে গা বাঁচাতে যতটুকু আশ্রয় পেয়েছিলাম তাও সবার ঠেলাঠেলিতে হারানোর মতো অবস্থা। সন্ধ্যে নেমেছে অনেকক্ষণ হল।শহরের ল্যাম্প পোস্টগুলো জ্বালানো হয়নি, অন্ধকারে দু একটা কাক এই বৃষ্টিতে ভিজে চলেছে। এক কাপ চায়ের উদ্দেশ্যে বেরোতে এই নাজেহাল।ছাতা মাথায় দিয়ে পথচারীদের কেউ কেউ গন্তব্যে পৌছোচ্ছে। আমার গন্তব্য এখানেই। বাতাসে বৃষ্টির ছিট, প্যান্ট হাঁটু পর্যন্ত মুড়িয়ে নিয়েছি, গোড়ালী থেকে বাকিটুকু ভিজে চলেছে, যতটুকু পারা যায় রক্ষা করছি।এরই মধ্যে রাস্তায় একজন বয়স্কার পদস্খলন হয়েছে, আমি টের পাইনি, সেদিকে লক্ষ্য করিনি, গরম চায়ের গন্ধটা নাকে আসতেই ছট ফট করছি, এইতো আর একটু।

কাজী লাবণ্য


 দ্বৈরথ


 

অন্ধকারের উৎস থেকে উৎসারিত যে আঁধার, উদ্ভাসিত যে আভা, সেই আভা বা আলো আঁধারির মধ্য দিয়ে, মহাকাশের বুক চিরে অসম্ভব দ্রুত গতিতে ছুটে চলেছে- বিশাল জাম্বো জেট। পেছনে ফেলে এসেছি জন্মভূমি, স্বদেশ। যাত্রী ক্রু মিলে প্রায় ৪ শত মানুষ নিজ নিজ সিটে দীর্ঘ যাত্রায় কারো চোখ সামনের নীলাভ স্ক্রিনে থাকলেও বেশীরভাগই ঝিমুচ্ছে বা ঘুমুচ্ছে। কেবিন ভর্তি শ্রান্তির ঘুম। আকাশে আধ খানা চাঁদ ঝলমলে আনন্দে নরম আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে অবিরাম।  কেবল ঘুমের লেশমাত্র নেই, আমার দু চোখে। আমি সজাগ, সম্পূর্ণ সজাগ। পাশের সিটেই আমার ৪ বছরের সন্তান, আমার স্বামী নিশ্চিন্ত গভীর ঘুমে অচেতন। হয়তোবা সে জানে আমিও ঘুমাচ্ছি। কিন্তু আমার চোখে ঘুম নেই। ঘুম নেই আজ কয়েক দিন ধরেই। হয়ত আরো অনেক দিন আমি ঘুমুতে পারব না।   

মনোজিৎকুমার দাস


 প্রজাপতির লিখন                   

                                                  

শীতকালটা ছোটবেলা থেকেই ললিতা’র ভাল লাগে । লেপের ভেতর থেকে উঠার পর উঠোনের এক কোণে আগুন পোহানোর কথা এখনো তার মনে পড়ে । ঠাকুরদার আমলে পাড়ার মধ্যে ঠাকুরবাড়ির মানসম্মান ছিল আলাদা। ঠাকুরবাড়ির বড়গোসাইকে লোকে গন্নিমন্নি করার কথা ললিতা এই বয়সেও মনে আছে। সে সময় ললিতা ভাবত , ঠাকুরবাড়ির বড়গোসাই আমার ঠাকুরদা, তাই আমাদের একটা আলাদা সম্মান আছে ।

গোপেশ দে


শুকদেবের বেঁচে থাকা




সুকদেবের বয়েস ত্রিশ প্লাস।এই ত্রিশ বছর বয়েসে হঠাৎ একদিন তার মনে হল, মানুষ একটা স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকে।প্রতিটা মানুষের মধ্যেই স্বপ্ন আছে, আশা আছে, সেটাই তার বাঁচার অনুপ্রেরণা। কিন্তু সে কয়েকদিন ধরে অনেক ভেবে দেখেছে তার কোনো স্বপ্ন নেই, আশা নেই, তাহলে সে বেঁচে আছে কেন ?

বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২১

১০ম বর্ষ ৬ষ্ঠ সংখ্যা । ২৯ জানুয়ারি ২০২১

 

এই সংখ্যায় আটটি গল্প লিখেছেন : সজল কুমার মাইতি, সুধাংশু চক্রবর্তী, জয়িতা ভট্টাচার্য, নীহার চক্রবর্তী, গোপেশ দে, সুদীপ ঘোষাল, ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী মনোজিৎ কুমার দাস 

সজল কুমার মাইতি


 মর্নিং ওয়াক


এদের মর্নিং ওয়াকের একটা গ্রুপ আছে। তাতে অনেক চরিত্র। চারদিক ঘেরা ওয়েলমেন্টেন্ড সল্টলেকের এফ সি পার্ক। সকাল সন্ধে নারী পুরুষ অনেকেই এখানে আসে শরীর চর্চা করতে। শুধু এফ সি ব্লক নয় অন্যান্য ব্লকের লোকজন ও আসে। এখানে বসার সাধারণ জায়গা ছাড়া ও সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য একটি শেড আছে। সেটাই এদের আড্ডা মারার জায়গা। এই গ্রুপের এক সদস্য হল কাঞ্জিলাল। কিংশুক কাঞ্জিলাল। সদস্যরা ওকে 'কাঞ্জি' বলে ডাকে।

সুধাংশু চক্রবর্তী

 

ভাসছি আতঙ্কের স্রোতে

 

দেশ জুড়ে লকডাউন চলছে । আমি একজন সামান্য ব্যবসায়ী । ছোটোখাটো খেলনার দোকান চালাই । পড়াশোনা করেও একটা চাকরী জোটাতে পারিনি । স্ত্রী ঋতমার বড় হয়ে ওঠা এবং পড়াশোনা সবই এলাহাবাদে । সেখান থেকেই হিন্দিতে এম এ করেছে । ছোটখাটো  দোকানের সামান্য আয়ে সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে দেখে ঋতমা স্বেচ্ছায় বেশ কিছু ছাত্রছাত্রীকে হিন্দি ভাষার কোচিং দিতে শুরু করে । ছাত্রছাত্রীদের ভাগে ভাগে শেখায় । এক একটা ভাগকে সপ্তাহে তিন দিন সময় দেয় । এতে উপার্যন ভালোই হচ্ছিলো । কিন্তু লকডাউন যে তাতেও থাবা বসিয়েছে । 

জয়িতা ভট্টাচার্য

 


ঘাসফড়িং 


 চুম্বনের প্রায় কাছাকাছি এসে হঠাৎ চোখে পড়ল সেই

ঘাসফড়িংটা!

সে দুলে দুলে দুব্বো ঘাসের গা থেকে পিছলে গেল,হারিয়ে গেল। আবার টুকুস করে জানলায় উঁকি।

আর অমনি সামনে বিরাট প্রান্তরটা ভেসে উঠল।ঘাসফড়িং দেখছে সৃজা একদৃষ্টে। 

মুহূর্তে উপসর্গবিহীন হয়ে যায়।

শৈবালের ঠোঁট অনুভব করতে পারে না এত সূক্ষ্ম তফাত।  ঠোঁট ইজ ঠোঁট।  জোরে টেনে নেয় কাছে। দুপুরের এই অনুষ্ঠানে সৃজার তেমন আপত্তি নেই, কিন্তু  আজ মনটা ফড়িং এর ডানায় চড়ে বেড়াতে চলে গেছে তার। 

নীহার চক্রবর্তী

 


গোবিন্দ-বিজয়


 অসম্ভব-অসম্ভব কথা সব মাথায় আসে গোবিন্দর ।

সেদিন ও বন্ধুদের বলে,'ভারত থেকে এরপর কেউ মহাকাশে গেলে আমিই যাবো ।'

ওর কথা শুনে বন্ধুরা অবাক ।

বন্ধু নিমাই বেশ বিস্ময়ের সুরে ওকে বলল,'সে কী করে সম্ভব,শুনি ? তুই তো ঘেঁষটে-ঘেঁষটে ক্লাসে পাস করিস ।'

অন্য বন্ধুরা শুনে বেশ জোরে হেসে উঠলো ।

বন্ধু ফটিক আবার টিটকারি দিতে ছাড়ল না ।

সে গোবিন্দর দিকে তাকিয়ে মুচকি-হেসে বলল,'তুই পারবি । রাকেশ শর্মা শুনেছি বেশিদূর পড়েনি ।'

গোবিন্দর মাথা বেশ ঠাণ্ডা ।

স্মিত-হেসে উত্তর দিলো,'দেখাই যাক তবে ।'