গল্পগুচ্ছতে প্রকাশিত লেখার বিষয়ভাবনা বা বক্তব্যের দায় লেখকের । সম্পাদক কোনভাবেই দায়ী থাকবেন না ।

Saturday, November 3, 2018

৮ম বর্ষ ২য় সংখ্যা ৪ নভেম্বর ২০১৮ ।

এই সংখ্যায় ১০টি গল্প । লিখেছেন অমিতাভ দাশ, সুবীর রায়, নীহার চক্রবর্তী, চন্দনলৃষ্ণ পাল, অঞ্জন সরকার, পার্থ রায়, সুদীপ ঘোষাল, কৃষ্ণা দাস, ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী ও তাপসকিরণ রায় ।

          সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করে পড়ুন

অমিতাভ দাশ

কৌয়াপুত্তর


গ্রামছাড়িয়ে ধানখেত, তার ওপারে হুই দূরে পাহাড়, সেইখানের কোথাও একটা জায়গা থেকে আসত ভীমলি -- আমাদের গ্রামের স্কুলে...
আসত মানে রোজ, -- ঝড়জলেও কামাই নেই, -- এবং সবার আগে সকাল আটটা সাড়ে আটটা নাগাদ -- একটা ছোটব্যাগে বইখাতা আর শালপাতায় মোড়া বজরার রুটি কয়টা নিয়ে।

সুবীর কুমার রায়

তোমার হলো শুরু

সকাল বেলা মেয়ের বাড়িতে গিয়ে আমি তো অবাক। ছয় বছরের নাতনি তার স্কুলের প্রজেক্ট নিয়ে মায়ের সাথে এতো ব্যস্ত, যে আমার আগমনে দুজনের কেউই বিশেষ খুশি হলো বলে মনে হলো না।  একটা খাতায় পাঁচটা ফল, পাঁচটা ফুল, ও পাঁচটা পাখির ছবি এঁকে রঙ করে আগামীকাল স্কুলে নিয়ে যেতে না পারলে নাকি দেশ, দশ, তার, ও তার স্কুলের ভবিষ্যৎ এক্কেবারে অমাবস্যার মতো অন্ধকার হয়ে যাবে।
আজ কপালে এক কাপ চাও জুটবে না বুঝে, চুপ করে বসে, তাদের কর্মযজ্ঞ অবলোকন করতে লাগলাম। বাচ্চাটা এই বয়সেই বেশ ছবি আঁকে। গোলাপ, জবা, ও পদ্ম ফুল আঁকা ও রঙ করা হয়ে গেছে, এখন গাঁদা ফুল আঁকার পর্ব চলছে। ছবি দেখে আমি তো রীতিমতো বিষ্মিত। স্বীকার করতে লজ্জা নেই, যে হাজার চেষ্টাতেও ওই গোলাপ আমি আঁকতে পারতাম না। আমার আঁকা গোলাপকে লাল বা গোলাপি রঙ না করে সাদা রঙ করলে, স্বচ্ছন্দে গন্ধরাজ বলে চালিয়ে দেওয়া যায়।

নীহার চক্রবর্তী


বসন্তসখা 
পুস্পেন দত্ত উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মচারী । প্রতিবছর সে তার পরিবার নিয়ে দেশ-ভ্রমণে বেরোয় ।
এবার বেরনোর আগে সে তার বড় ছেলে প্রসূনকে জিজ্ঞেস করলো ।
-- কোথায় গেলে ভালো হয় ?
সে বলল ।
-- কাশ্মীর ।
বড় মেয়ে পিউকে বলল ।
-- তুই ?
সে বলল ।
 

চন্দনকৃষ্ণ পাল

মন্টি পিসির আহাজারি

মন্টি পিসির কথা একটু বলি

মন্টি পিসির আপনজন বলতে পৃথিবীতে কেউ নেই। দুটো বিড়াল আর একটা কুকুরকে আপনজন বললে আপনজন, না বললে নাই। আসলে পিসু আর মন্টি পিসি এই দুজনকেই আমরা জন্ম থেকে চিনি। একদিন হুট করে মন্টি পিসির বাড়ীতে কান্নার রোল। আমরা ছোটরা দৌড় লাগালাম পিসির বাড়ীর দিকে। সবাই বললো পিসু নেই। এটুকুই। তারপর পিসি খালি পূজা পার্বণ নিয়ে ব্যস্ত। অনেক জমি জমা, ফলাদীর গাছ। পিসির অনেক টাকাও। কিন্তু পিসি খরচ করতে রাজী না। তিনি টাকা ভালোবাসেন, ফল ও। বাচ্চাদের ফল পাড়তে দেখতে পিসি বকা ঝকা করেন। বাচ্চারা কষ্ঠ পায়। সারা গ্রামের সব বাচ্চারা কষ্ট পায়। টসটসে পেয়ারা, পাকাঁ আম, আমলকি, জামরুল সব পেকেঁ গাছে বসে থাকবে। গ্রামের ছেলেরা খেতে পারবে না! একদিন দোকানদাররা সব গাছ খালি করে সমস্ত ফল বাজারে নিয়ে যাবে, এটা কষ্টের বিষয়। সব ছেলেদের জন্য কষ্টের।

অঞ্জন সরকার


একটি সাক্ষাৎকার 

তেইশ বছরের দ্বীপেন সান্যাল, দিল্লির কাশ্মীরি গেট বাস টারমিনাসের ওয়েটিং হলে এক কোনে বসে।হলের উল্টোদিকে, এসক্যালেটরের কাছেই, একটি উগ্রপ্রসাধন সজ্জিতা মেয়ে পর্যাপ্ত যৌবন প্রদর্শন করে বসে আছে। দ্বীপেনের নজর ঘনঘন মেয়েটির দিকে চলে যাচ্ছিলো, আর চোখাচোখি হওয়ার মুহূর্তেই নজর সরিয়ে নিচ্ছিল। মেয়েটি বেস স্মার্ট দেখতে, অধুনা চলতি ফ্যাশানের চটকদার অফ্-শোলডার টপের সঙ্গে আঁটোশাটো জীন্স পরেছে। যেন, সঙ্গ ইচ্ছুক পুরুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই বসেছে।

পার্থ রায়

গন্ধ


ঘুম থেকে উঠে বাথরুমের কাজ সেরে এক কাপ চা নিয়ে ব্যাল্কনিতে বসা বাসবদত্তার অনেক দিনের প্রিয় শখ কিন্তু আজকাল সকালবেলা ফ্ল্যাটের ব্যাল্কনিতে দাঁড়ালেই ওর মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। শখ করে লাগানো হ্যাঙ্গিং ফুলের টবগুলোর পাশে নানা রঙের চুলের কুণ্ডলী ঝুলতে ঝুলতে, দোল খেতে খেতে ওকে গুড মর্নিংবলে। ডিসগাসটিং! বেশির ভাগই

সুদীপ ঘোষাল

ঘুঁটে পোড়ে


একবার তোর ছেলে নরেনের কথা ভাবলি না। দেহের খিদে মেটাবার জন্য বছর না ঘুরতেই আবার বিয়ে করলি। বন্ধুকে, রমেন বললো।
----
কি করবো বল।  সমাজে নোংরামি করতে আমার ভালো লাগে না।  মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি প্রশমন তো করতে হবে।  নকল সাধু হয়ে লোক ঠকাতে পারবো না। তাই আবার বিয়ে করলাম।
----
ভালো করেছো।  এবার সৎমার অত্যাচারে ছেলেটা ভু গবে।শুধু বাতেলা।  কালকে তোকে হাড়কাটা  গলিতে দেখলাম।  বিয়ে করেছিস তবু স্বভাব গেলো না।

কৃষ্ণা দাস

চম্পা

            সারাদিন ট্রেনে মোবাইল কভার চার্জার বিক্রী করে রাতে স্টেশনে নেমেই প্রথমে বিশে চাকলাদারকে পাওনা বুঝিয়েই বিপুল তড়িঘড়ি স্টেশন ছেড়ে বেরল । স্টেশনের ঘড়িতে তখন নটা পঁয়ত্রিশ।
            স্টেশনের পাশেই বুড়ো মন্টার সাইকেল সারানোর দোকান । তারই পাশে কচু গাছের জঙ্গলের ধার ঘেঁসে রাঙচিত্তের বেড়া দেওয়া এক ফালি জমিতে আজ বছর পাঁচেক সাইকেল জমা রাখার উপরি ব্যবসা ফেঁদেছে মন্টা । সাইকেল জমা রাখার দরুন মাস গেলে বিপুলকে পঁচিশ টাকা ভাড়া দিতে হয় । দোকানের পাশে এখন শুধু বিপুলের সাইকেলটাই দাঁড়িয়ে । মন্টার দোকান এখন টিমটিমে হলুদ আলোয় যেন ঝিমুচ্ছে । সামনে নীল প্লাসটিকের পর্দার ফাঁক দিয়ে ভেতরের কুপির আলো দপদপ করছে ।

ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী

জোঁক

মিতা মাসি আমাদের বাড়ির সামনেই থাকেন একটা ছোট্ট ঘরে । আপন জন বলতে তাঁর মেয়ে দোলা তার দুই ছেলে মেয়ে এবং জামাই নন্টে । নন্টে কাজ প্রায় কিছুই করে না.একটা ইলেকট্রিক দোকানে কাজ করত । ছোট খাটো কাজ ধরুন সিলিং ফ্যান লাগানো,টিউব ফিটিং,পূজোর সময় লিচু বালব লাগানো ইত্যাদি.বড় ধরনের কাজ করতে গেলে মাথার দরকার.সেটা নন্টের নেই । এই নন্টের খপ্পরে পড়ে দোলার জীবন ওষ্ঠাগত.এক ছেলে এক মেয়ে কে মানুষ করতে দোলা যায় বুটিকের দোকানে.মিতা মাসির হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম আর দোলার রোজগারে ওদের সংসার চলে।