এই সংখ্যায় ৪টি গল্প লিখেছেন মেঘ অদিতি , দুপুর মিত্র, তন্ময় ভট্টাচার্য ও পাভেল আল ইমরান
গল্পগুচ্ছতে প্রকাশিত লেখার বিষয়ভাবনা বা বক্তব্যের দায় লেখকের । সম্পাদক কোনভাবেই দায়ী থাকবেন না ।
শুক্রবার, ৩ মে, ২০১৩
মেঘ অদিতি
রঙপালকের ডাকে
হলুদ আলোমাখা একটা বিকেল কিশোরীর লাল সালোয়ার কামিজে রঙ
বুলিয়ে গেলে সে শেষবারের মতো লিখে রাখতে চায় রঙের কথা। শুধু কী সালোয়ার-কামিজ, রঙ পরশ
বুলিয়েছে কিশোরীর সর্বাঙ্গেও। বারবার সে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে সেই স্পর্শে, কখনও কলম
তুলে নিয়ে ভাবে, লিখে যাব এই বিকেলটুকুর কথা। হলুদ রঙে পেখম মেলে ধরাকে সে বন্দি করতে চায় আশ্চর্য কারুকাজময় রঙবিকেলের
শব্দে।
কিছুক্ষণ পর কিশোরীর চন্দ্র অভিযান। কিছু আঁকিবুকি কাটে সে
পাতা জুড়ে আর ভাবে লিখে যাওয়া পাতা থেকে এই বিকেলটা উঠে এসে তার চলে যাবার কথা বলে
দেবে,সবাইকে।
ধীরে ধীরে আলো মরে আসে। কিশোরী কলম থামিয়ে অপলক দেখে সে ম্লান
আলোয় সমস্ত ঘরে নৃত্যরত জলপরিদের আবছায়া। ঘোর লাগা চোখে অপার্থিব আলো খেলে, দূর
থেকে ভেসে আসে সুললিত সুর। কিশোরী বিমোহিত। সে ভাবে চন্দ্র অভিযানের এই তো সময়, জলপরিরা
বুঝি তাকে ডাকতেই এসেছে। আচ্ছন্নের মতো চেয়ারে ঝুলে থাকা ওড়নাটাকে সন্তর্পণে গলায় পেঁচাতে থাকে আর পরির হাত ধরার
চেষ্টায় সে ঘরের চারদিকে ঘুরপাক খায়। পরি তাকে ইশারায় ডাকে ঘর থেকে দরজার বাইরে..
সিঁড়ি পেরিয়ে সিঁড়িঘরে, সিঁড়িঘর পেরিয়ে রেলিংবিহীন ছাদে, ছাদ থেকে ছাদের কিনারায়,
যার বাইরে পা ফেললেই অপেক্ষমাণ এক পুষ্পরথ। তাতে করে সে পাড়ি দেবে চন্দ্রপথ। স্বপ্নাবিষ্ট
কিশোরী তার ডান পা-টি মেলে ধরে শূন্যে ভেসে থাকা পুষ্পরথের দিকে।
আচমকা হাওয়া ওঠে তখনই আর পাশে এসে দাঁড়ায় এক ছায়ামূর্তি, তার
সহোদর। বজ্র কঠিন দু’হাত কিশোরীর কাঁধ খাঁমচে ধরলে তার পুষ্পরথে পাড়ি দেবার
সম্ভাবনা বিনষ্ট হয় আর সেই ক্ষোভে কিশোরী কামড়ে দেয় সহোদরের হাত। আঁচড়ে দেয় তার বুক,
মুহূর্তে সে যেন অশরীরী শক্তির অধিকারী। সহোদর সমস্ত সামলে নেয় শান্তভাবে। অবশেষে
হার মানা নিঃশেষিত শক্তিটুকু দিয়ে আর্তস্বরে সে জানায় তার ভ্রমণ পরিকল্পনার কথা।
ততক্ষণে পাঁজাকোলা করে ভাই তাকে নামিয়ে এনেছে ঘরে।
ঘরে নেমে এসেছে মানসিক বৈকল্যের রাত। ওষুধের ওভারডোজে তার
চোখ ঢুলুঢুলু, দ্রুত। বোনের জন্য শঙ্কিত ভাই সদা যত্নবান মা-কে তার বেখেয়ালিপনার
জন্য ভর্ৎসনা করতে করতে ফোন করে মনোচিকিৎসকের নাম্বারে।
অস্থির মা তখন এলোমেলো পা
ফেলে এঘর ওঘর করে আর বিনবিন করে কাঁদে। মেয়েটা তো তার সুস্থ হয়েই উঠছিল ক্রমে,
নিজের ভেতর থাকলেও টুকটাক কথা বলত, ছবি আঁকত, গুনগুন করত.. এমনকি নিজে হাতে ওষুধ
খেতেও শিখেছিল। সময়মতো হাতে ওষুধ তুলে দিলে নিজেই খেয়ে নিত। ঘরের বাইরে একা একা
যেত না কখনও। তাহলে ভুল হলো কোথায়...
কোথাও কোনো চিহ্ন! কিছুই তো
পড়ে নেই কিশোরীর হঠাৎ ভায়োলেন্ট হয়ে ওঠার পিছনে। মুখে নানা প্রশ্নচিহ্ন তুলো এবার
ওরা খুঁজতে থাকে চিহ্ন।
সাদা বৃত্তের আসল রহস্যটুকু
চাপা পড়ে থাকে পড়ার টেবিলের বইয়ের ফাঁকে, পেনহোল্ডারের ভেতর আর ফুলের টবে...
দুপুর মিত্র
রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনী
অধ্যায়- ১
একদিন গভীর রাতে করিম একটি বাস স্ট্যান্ডে নেমেই দেখতে পেল বাস স্ট্যান্ডটির একটি কোনায় দাঁড়িয়ে একটি মেয়ে কাঁদছে। এত রাতে বাস স্ট্যান্ডে তেমন মানুষ-জন নাই, একা একা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে একটি মেয়েকে কাঁদতে দেখে প্রথমে তার মেয়েটির কাছে যেতে ইচ্ছে হলেও পরে ভয়ে পিছিয়ে আসল। ভয়টা তেমন কিছু না। মানে বাস স্ট্যান্ডে একা একা জিন-পরীরাই থাকে, এই জাতীয় পূর্বধারণাই তাকে ভয়ের ভেতরে ফেলে দেয়। কিন্তু সে এই ঘটনা এড়িয়েও যেতে পারছে না। এত রাতে একটি মেয়ে কাঁদছে, লোকজন তেমন নাই, যারাও আছে, তারাও কেউ এই ঘটনায় এগিয়ে যাচ্ছে না। আমার কাছে মনে হল মানে গল্পকারের কাছে মনে হল করিমের যাওয়াই উচিত। মানে আমি নিয়ে গেলাম বিষয়টা এরকম নয়, করিমই মেয়েটির কাছে গেল। তারপর যা ঘটল, তাতে আমার বিন্দুমাত্র হাত ছিল না। মানে গল্পকার হিসেবে আমারও ধারণা ছিল না যে রাতে অনেক বাস স্ট্যান্ডে মেয়েরা এরকম কান্নার অভিনয় করে ছিনতাইয়ের মত কাজ করে। করিম দেশের বাড়ি থেকে এই মাত্র ঢাকায় ফিরেছে মানে বাস স্ট্যান্ডে নেমেছে। এর মধ্যে এরকম একটি ঘটনা ঘটবে কে জানত। আবার একমও নয় যে করিমের ঢাকায় কোনো আত্মীয়-স্বজন আছে, ছিনতাইকারীরার তাকে সর্বস্বান্ত করলেও তাতে করিম খুব একটা সমস্যায় পড়বে না। কিন্তু ঘটনা যেটা ঘটল, করিম সর্বস্বান্ত হল। মেয়েটির কাছে যেতেই কয়েকজন ছেলে তাকে ঘিরে ধরল। বলল- কোনও কথা না বাড়িয়ে সব কিছু দিয়ে চলে যেতে। তা না হলে এই রাতে এখানেই মরে পড়ে থাকতে হবে। এত রাতে কেউ তাকে বাঁচাতেও আসবে না। আর এখানে যারা আছে, সবাই তাদেরই লোক। চিল্লাচিল্লি করলেও কাজ হবে না। আমার অবশ্য একবার মায়াও হল। ভাবলাম বেচারা করিমের ঘারে এরকম একটা ঘটনা কি না ঘটালেই নয়। কিন্তু গল্প কি আর গল্পকারের কথা মানে। মানে করিম সর্বস্বান্তই হল। যা নিয়ে এসেছিল, এমন কি ঢাকায় এসে করিম যার বাড়িতে গিয়ে ওঠবে, সেই টাকাটাও নিয়ে নিল। এত দূর হেঁটে হেঁটে এখন করিম কিভাবে সেই বাসায় যাবে, আর বাসে ঢাকায় চড়ে গেলেই হয়, জায়গা চিনতে হয় না। কিন্তু এখন তো করিমের হাঁটতে হবে। হেঁটে হেঁটে চিনে করিম কি আর সেই বাড়িতে যেতে পারবে? আসলে পারবে না।
অধ্যায় -
২
করিম পারল না। মানে হাঁটতে হাঁটতে করিম সাভার বাস স্ট্যান্ডের মানে কাঁচাবাজারের পাশের একটি রাস্তা ধরে চলে এসেছে রাজা হরিশ্চন্দ্রের ঢিবিতে। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে করিম ঢিবিটির এক পাশে গিয়ে বসল। হঠাৎ সে দেখতে পেল একজন লোক এত রাতে ঢিবির পাশ দিয়ে হাঁটছে। তার শরীরের পোশাক থেকে এত ঘন কালো রাতেও নানান রঙ ঝলমল করছিল। করিম একটু ভয় ও সংকোচের সাথেই তার কাছে গেল। যাওয়া ছাড়া আর উপায়ও ছিল না করিমের।
কারণ এত রাতে কোনও মানুষ খুঁজে
পাচ্ছিল না করিম। আর কোথায় যাবে, কিভাবে
যাবে, কি করবে এই জাতীয় প্রসঙ্গ কার সাথে
আলাপ করবে সেই সিদ্ধান্তও নিতে পারছিল না। করিম প্রথমে ভেবেছিল লোকটি দরবেশ টাইপের
কেউ একজন হবে। এবং এই লোকটিই সত্যিকার অর্থে তাকে সাহায্য করতে পারবে। করিম কি
বলবে কি বলবে এরূপ ভাবতে ভাবতে লোকটিকে গিয়ে জিজ্ঞেস করল- আপনি যদি কিছু মনে না
করেন, একটা কথা
আপনাকে জিজ্ঞেস করতে চাই। লোকটি বলল- কর। করিম বলল- আপনি এত রাতে এখানে পায়চারি করছেন।
আপনার ঘরবাড়ি নাই। লোকটি বলল- ঘরবাড়ি। সবই তো আমার
ঘরবাড়ি। এটাও আমার ঘর। তুমি বোধহয় আমাকে চিনতে পার নি। আমি রাজা হরিশ্চন্দ্র। কি
হয়েছে তোমার বলতে পার। আমি তোমাকে সাহায্য করতে চাই। করিমের কাছ থেকে হরিশ্চন্দ্র সমস্ত কাহিনী শোনার পর বললেন এবার আমার কথা শোন ।
ইন্দ্রের সভায় নাচার সময় তাল কেটে
একবার এক নর্তকী অভিশাপ পেয়ে এলেন মর্ত্যে। মর্ত্যে এসে সে বিশ্বামিত্রের তপোবনে
রোজ ডাল ভাঙত। তাই দেখে একদিন মুণি ফাঁদ পেতে রাখলেন। যথারীতি পরের দিন এসে সেই
নাচুনি ধরা পড়ল ফাঁদে। সেদিনই আবার আমি বনে শিকার আসি। মেয়েগুলো আটকে আছে দেখে আমি
ছেড়ে দেই। সকালে বিশ্বামিত্র এসে দেখেন হ্যাঁ, কেউ তো বাঁধা পড়েছিল তার ফাঁদে, কিন্তু
কেউ একজন তা মুক্ত করে দিয়েছে। খবর নিয়ে তিনি আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি বললাম, দেখুন মুণি, আমি তো রাজা, সবার ভালো করাই আমার কাজ-তাই ওই মেয়েটা মুক্তি
চেয়েছে বলে আমি তাকে মুক্তি দিয়েছি। আমি তো জানতাম না, সে যে আপনার শিকার। আমার তেমন দোষ
নেই। মুণি বললেন, তোমার কাছে মুক্তি চাইল আর তুমি
দিয়ে দিলে? আমি তোমার কাছে যা চাইব তা তুমি
দিবে? মুণি তখন আমার কাছ থেকে রাজ্য চেয়ে
বসেন। আমি আমার অযোধ্যা রাজ্য কিন্তু দিয়ে দিয়েছি। এখন নিজেরই আর থাকার জায়গা নাই।
সেই থেকে আমি এভাবে ঘুরে বেড়াই। তোমার আর আমার ঘটনার মধ্যে তেমন কোনও পার্থক্য
নাই। পার্থক্য একটাই, আমি মুণির ফাঁদে পড়েছিলাম আর তুমি
ছিনতাইকারীদের ফাঁদে। তাতে কি। তোমার যদি কোনও আপত্তি না থাকে তো তুমি আমার সাথে
থাকতে পার। সেই দিন থেকে করিম হরিশ্চন্দ্রের সাথে থাকতে শুরু করল।
তন্ময় ভট্টাচার্য
প্রমাণপত্রের খোঁজে

বারান্দায় বসে ইউনিভার্সিটির খাতা দেখছিল হিরন্ময়। অন্যান্যবার চাপ কম থাকে,এবার যেন রাজ্যের প্রেশার একার ঘাড়ে। বেলের শব্দে তাই বিরক্তির মুখ করে দরজা খুলেই দেখে,গোপলা। কথা বলার সুযোগ না দিয়েই একছুটে উঠে গেলো ছাদে। কবিতা ভাঁজবে হয়তো। নাহ...ছেলেটার মধ্যে গুণ ছিলো অনেক...কেন যে সব অবহেলায় নষ্ট করে!
"চেহারাটা ভেঙে গেছে কেন রে?" ছাদ থেকে নামার সময় গোপলাকে পাকড়াও করলো হিরন্ময়। লুকিয়ে সিগারেট খাওয়া ঠোঁট চেটে গোপলার উত্তর..."ওই...কলেজের দৌড়ঝাঁপ...শরীর আর দেয় না।" হালকা হেসে আবার প্রশ্ন-
"বলেছিলাম যে,আহ্নিক করিস ঠিকমতো?"
-"না গো...মানে...ওই আর কি...হয়ে ওঠে না।"
-"কেন বাবা? খুব সময় নষ্ট হয় কি? ধৈর্য ধরে করে দ্যাখ না,আনন্দ পাবি।"
-"মানে না বুঝেই করবো? অর্থ যদি ক্যাচই না করতে পারি,রিলেট করবো কি করে?"
- "আরে তুই যখন কোনো ওষূধ খাস, তখন কি জানিস এই ওষূধের প্রোডাক্ট কি কি? ভরসা করেই তো খাস। ঠকিস কি?"
আমতা আমতা করতে লাগলো গোপলা সিঁড়ির রেলিং এ বসে। নিস্তিক মন কিছুতেই যেন সায় দিচ্ছে না এই কথায়। পৈতে ঝোলে ঘরের হুকে। বহু ভেবে ভেবে যে বিশ্বাস খাড়া করেছে ঈশ্বরবাদের বিরুদ্ধে,এত সহজে ভাসিয়ে দেয়া যায় নাকি?
আবার জানতেও ইচ্ছে করছে সব,কবিতার খাতিরে...জ্ঞানের খাতিরে...
ঢোঁক গিলে বললো- "আচ্ছা কাকান,রবীন্দ্রনাথের কবিতায় যেমন দর্শন আছে,তেমনি শাস্ত্রকার-দের শ্লোকেও তো দর্শন...সেটা কি উনাদের সাহিত্যকর্ম নয়? আমরা ঐশ্বরিক চিন্তা আনবো কেন?"
-"না,মোটেই শুধু সাহিত্যকর্ম নয়। গায়ত্রীজপের আগে বিশ্বামিত্র ঋষির নাম নেয়া হয় কেন? উনি দিব্যদৃষ্টি তে সব দেখেছিলেন..."
-"সে তো ভানুসিংহের পদাবলী'তেও আছে...লালনের গান,মঙ্গলকাব্য,বিদ্যাপতি...সবাই তো নিজের রচনায় নিজের নাম ঢুকিয়েছিলেন...নামটা অমর করার জন্যে নয় কি?"
-"একদমই নয়। দুর্গাপূজার আগে রামচন্দ্রের আরাধনা করে হয়...সামবেদের প্রতিটা ক্রিয়াকর্মের আগেই ঋষিদের স্মরণ করা হয়...যারা রচয়িতা...উনাদের কি স্বার্থ ছিলো? টাকা-পয়সা? নোবেল প্রাইজ পাবেন?"
-"জনসেবা"
-"ঠিক তাই। জানিস তো,ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য শূদ্রের মধ্যে কেবল..."
-"আচ্ছা এই শ্রেণীবিভাগ আসছে কেন? বাকিদের কি শাস্ত্রচর্চার অধিকার নেই?"
-"শ্রেণীবিভাজন নয়। প্রত্যেকটা ক্রিয়ার নির্দিষ্ট কারণ আছে। ব্রাহ্মণরা এই যে 'ওঁ" উচ্চারণ করেন, স্ত্রীলোক অথবা অন্যান্যদের মানা, কেন বল তো?"
-"ওই যে 'ওঁ' কারের সাথে নাভি থেকে সুষুম্নাকান্ড দিয়ে কি একটা ভাইব্রেশন..."
-"হ্যাঁ। সেই ভাইব্রেশন সকলে নিতে পারবে না বলেই তাদের 'ওঁ'কার জপ মানা। এই জন্যেই মহাপ্রভু বলেছিলেন, অক্ষরব্রহ্ম নাম নিলে সমান ফল পাওয়া যায়"।
-"এই যে বললে,ব্রাহ্মণ ছাড়া অন্যদের ক্ষতি হবে, কি ক্ষতি?"
- "আরে বাবা সূক্ষ্মতাকে তুই দৈনন্দিন জীবনে বুঝতেই পারবি না। এই যে তুই জপ করিস না, লক্ক্য করে দেখবি, মন চঞ্চল হয়ে যায়। একাগ্রতা আসবেই না। ঋষিরা এমনি এমনি বলেছিলেন নাকি? তাদের কথার কোনো ভিত্তি নেই?"
আমসি মুখে ভাবতে লাগলো গোপলা,কি বলা যায়... যতটা জানার নিংড়ে নিতে হবে আজ...
-"আচ্ছা কাকান,হিন্দুশাস্ত্রমতে মানুষের সৃষ্টি কি করে?"
-"আদি পিতা ব্রহ্মা পৃথিবীতে তাঁর প্রজা পাঠিয়েছিলেন প্রাণসঞ্চারের জন্যে...জানিস তো, চৌষট্টি লক্ষ জন্মের পর মানব্জন্ম প্রাপ্তি হয়।"
-"তাহলে ডারউইন যে বলেছেন বিবর্তনবাদ,সেটা মিথ্যে?"
-"দ্যাখ,একটা ধর্মতত্ত্ব,একটা বিজ্ঞানতত্ত্ব। বিজ্ঞান কি? বিশেষ জ্ঞান...ধর্মচেতনা না থাকলে, দর্শন না থাকলে কোনো কিছুর গভীরে যেতে পারবি?"
মহা ফাঁপরের মধ্যে পড়লো গোপলা। কি করে যায়! মনটা নরম হয়ে আসছে যে!
-"আচ্ছা এখন চলি গো...পরে আসবো আবার।"
-"পালাবি? আয়। ভালো থাকিস।"
বাড়ি ফিরে পৈতেটা সাইডব্যাগের মতো গলায় ঝুলিয়ে বিড়বিড় করে গায়ত্রী জপ শুরু করলো গোপলা। পাঁচ...ছয়...সাত...ধুর শালা! কি হবে এই বোরিং প্রলাপ বকে? সূক্ষ্ম আনন্দের ঠ্যাকা নাই। যা আছে বেশ আছি।
শুতে যাওয়ার আগে গোপলা শুনতে পেলো হালকা কন্ঠস্বর...ঠিক যেন মধ্যরাতের আকাশবাণী...পাশের বাড়ি থেকে ভেসে আসছে হিরন্ময়ের রবীন্দ্রনাথ-
"যাহা যায় আর যাহা কিছু থাকে,
সব যদি দিই সঁপিয়া তোমাকে
তবে নাহি ভয় সবই যেগে রয়
তব মহামহিমায়..."
পাভেল আল ইমরান
হাত ফসকানো আলো
পিস্তলটি
হাতে নিয়ে নিপুণ চালকের মতো দোকানে হাঁটা লোকজনের দিকে তাক করলো সান্তস । স্কুলের
বিজ্ঞান কক্ষে স্যারকে দেখেছেন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে এক চোখ বন্ধ করে অন্য চোখের
পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করে লক্ষবস্তু নজরের দখলে আনতে। সান্তস তেমনি চোখ ছোট করে
নিশানা পোক্ত করল। ট্রিগারে চাপ দিতে আঙ্গুল প্রস্তুত করলো। চাপ দিলো নিশানা
বরাবর- ডিরেক্ট দোকানীর বুক ! তারপর ফিরিয়ে নিয়ে নলটি মুখের কাছে এনে ফুঁক দিয়ে
নিল। তৃপ্তির মুচকি হাসিতে ভাবল - এতদিনে আমি
আসল জিনিসটা হাতে পেলাম। এটা দিয়ে
তার অনেক কাজ। ভোরে স্কুলে যাবার বেলায় এলিভেটর থেকে নামলেই পচামুখা
ক্যারাল্লিয়ান বুড্ডাটাকে দেখতে হয় । এলিভেটরে চারজন বয়স্ক লোক চড়তে পারে।
একদিন চারজন বয়স্ক লোকের সাথে সান্তসসহ পাঁচজন উঠতেই ক্যারাল্লিয়ান বুড্ডা
চ্যাঁচানো শুরু করল...
- চার আদমি ব্যস, চার আদমি। এক আদমি নিকালো। ... সান্তস অসহায় মুখে বলল
- চার আদমি ব্যস, চার আদমি। এক আদমি নিকালো। ... সান্তস অসহায় মুখে বলল
- ম্যায় ছোটা আদমি হায়। কয়ি
মুস্কিল
নেহি হোগা । কিন্তু বেরসিক বুড্ডা তবুও তাকে কান ধরে
নামিয়ে দিলো ! বাম হাতে
কানের লতিটা ধরে সান্তস ভাবল আজ রাতেই সে ওটাকে সরিয়ে দেবে। কাল সকালে আর নাক সিটকে
দিন শুরু করতে হবে না। সময় সুযোগ
বুঝে মুটকি সুদখোর বুড়িটার পিলে চমকে দিবে , যে কিনা
সারাক্ষণ মাংসের গন্ধ ছড়িয়ে গেইটের কাছেই ঘুরতে থাকে। সবচয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন যে মিশনে তার এই পিস্তল, তার শিকার হচ্ছে তার আব্বু ও আম্মু। তার আব্বু ভূমিহীন রঞ্জন চট্টোপাধ্যায় কলকাতা হতে সেই ৯৫'তে এসে এখন কলকাতা’র 'ক' পর্যন্ত এমিরেতি ক্যামিকেলে সাফাই করে নিয়েছে । ভাগ্য
ফিরিয়ে নাসিরিয়া মানি এক্সেঞ্জে জব করছে । আম্মু -জুলিয়েট-
এসেছেন ফিলিপিন থেকে।
দেশে
কখনো ফিরবে এমন চিন্তা শারজাহতে বৃষ্টি হবার চেয়েও অবাস্তব। সেও একটি বিজি সুপার
মার্কেটের ক্যাশিয়ার। দু' মুখী
স্রোতে সারাদিন ঘোত্তা খেতে থাকে তারা। কাজের গভীর অরণ্যে ভুলেই থাকে যে, অরণ্য প্রারম্ভে একটি খোপে দরজা বন্ধ একটি প্রাণী রেখে
এসেছে- যে কিনা তাদের প্রতীক্ষায়। আব্বু-আম্মু শূন্যতায় সান্তস এখন ক্লান্ত।
মাঝে মাঝে ওর ভেতর বিকল্প চিন্তা খেলে। এই আব্বু-আম্মুকে বদলিয়ে আনার যদি কোনো
ব্যবস্থা থাকত ! রোবটের এখন বহুমাত্রিক ব্যবহার। কাছের মানুষজনের অভাব বুঝতে
দেবেনা রোবট। অর্ডারকৃত স্বামী-স্ত্রী মিলে। তেমনি প্যারেন্টসও। মনের মতো
আব্বু-আম্মু কিনে নিয়ে আসবে সে। সারাক্ষন কাছে রাখবে। আহ্লাদ মিটাবে। এই দু'টোকে ঘরে ধরে রাখার বহু ব্যর্থ চেষ্টায় পরাজিত সান্তসের
শেষ ভরসা এই পিস্তলন দিন শেষে রঞ্জন-জুলিয়েট তাদের শারজায় ভাড়া নেওয়া বাড়িতে
ফিরবে। বেল চাপতেই নিতিদিন সান্তস দরজা খুলে দেয়। আজ দরোজা থাকবে খোলা। ক্লান্তি
তা গোচর করে ঘরে নিয়ে যাবে। এসিটাকে বাড়াবে- সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে গন্ধ মাখা
পোশাক ছাড়বে- জাঙ্গিয়াটা নাকের কাছে এনে পরক্ষনেই নাকছিটকে ধুরঃ বলে দূরে ছুড়ে
ফেলবে। ঝুলন্ত কণ্ঠে রঞ্জন বলবে - সান্তস। রিমোটটা কোথায় রেখেছিস বাবু? দিয়ে যাবি? আব্বু টিভি
দেখবো... জুলিয়েট
ফ্রেস হয়ে আয়নার পাল্লাতে নিজের রূপের সর্বশেষ আপডেট পরখ করবে । সকলে এতক্ষণ
যাবত তার কোন অবস্থাটা দেখে হাঁ খুলে তাকিয়ে ছিল, সে
অবস্থাটা কি দৃষ্টির জন্য আরামদায়ক ছিল ? এমন ভাবতে
ভাবতে হাঁকডাক দেবে
- সান্তস, সান্তস। হয়ার আ ইউ ? আ ইউ
স্লিপিং ? সাড়া না
পেয়ে এদিক ওদিক তাকাবে, খুজবে, খোঁজার গতি বাড়াবে। ব্যর্থ হয়ে ব্রেক ফেল হওয়া গাড়ির
মতো দিক্বিদিক গলার আওয়াজ চালাবে চোখ বড় বড় করে। রঞ্জন প্রকাণ্ড স্বরে বলে উঠবে
-দরজা খোলা
ছিল... সরি, ডোর ওয়াজ ওপেনড ! রুমের অগোছালো জিনিসপত্রের দিকে চেয়ে জুলিয়েট -হয়াই
আনটাইডি রুম? ভড়কে
যাওয়া রঞ্জন- জুলিয়েট ঘটে যাওয়া ঘটনায় নিজেদের দোষী ভাবতে থাকবে আর নিজেদের
প্রবোধ দেবে
- "যদি ওকে সাথে নিয়ে যেতাম- ওকে একা রুমে রেখে যাওয়া ঠিক হয়নি- ফিরে পেলে এমন ভুল আর হবে না..." চোর গেলে বুদ্ধি বাড়ে। অসতর্কভাবে রাখা জিনিসপত্র চুরি হবার পরে গেরস্ত ভাবে- হয়তো ওই রকম করে রাখলে চুরি হতোনা, অমন কাজটা না করলেই মালগুলো চুরির হাত থেকে বাঁচানো যেত। - এমন রোগে ভুগতে থাকা আতঙ্কিত ত্রস্ত রঞ্জন-জুলিয়েট কে আরও ক' ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে তাদের পিঠে ঠেকানো পিস্তলের নল। সংশয় কাটিয়ে তারা নিশ্চিত হবে যে- সান্তস দুষ্কৃতিকারীদের দ্বারা অপহৃত। এবং তারা এখন ওদেরও পটল তুলবে। হায়রে, যেখানে এখন পটল ভাজা মেখে জম্পেশ রাতের খাবার হতো- সেখানে পটল তুলতে ব্যস্ত থাকতে হবে অগৌরবে! কয়েক সেকেন্ডে তারা নিজের কৃতকর্মে চূড়ান্ত দোষ স্বীকার করে স্বতিরস্কার করবে। আর প্রতিজ্ঞা করবে - এই বিপদ মুক্তি পাক শুধু, কখনোই আর বাবুকে একা বাসায় রেখে যাবো না । ঠিক তখনি সান্তসের আসল চেহারা দেখবে তার দুনিয়ার সব অদ্ভুত ও চমকপ্রদ খেলনায় বোঝাই এই কিড হাউজে দাড়িয়ে পিস্তলটি মুঠোয় পুড়ে ভাবছিল সান্তস।
- "যদি ওকে সাথে নিয়ে যেতাম- ওকে একা রুমে রেখে যাওয়া ঠিক হয়নি- ফিরে পেলে এমন ভুল আর হবে না..." চোর গেলে বুদ্ধি বাড়ে। অসতর্কভাবে রাখা জিনিসপত্র চুরি হবার পরে গেরস্ত ভাবে- হয়তো ওই রকম করে রাখলে চুরি হতোনা, অমন কাজটা না করলেই মালগুলো চুরির হাত থেকে বাঁচানো যেত। - এমন রোগে ভুগতে থাকা আতঙ্কিত ত্রস্ত রঞ্জন-জুলিয়েট কে আরও ক' ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে তাদের পিঠে ঠেকানো পিস্তলের নল। সংশয় কাটিয়ে তারা নিশ্চিত হবে যে- সান্তস দুষ্কৃতিকারীদের দ্বারা অপহৃত। এবং তারা এখন ওদেরও পটল তুলবে। হায়রে, যেখানে এখন পটল ভাজা মেখে জম্পেশ রাতের খাবার হতো- সেখানে পটল তুলতে ব্যস্ত থাকতে হবে অগৌরবে! কয়েক সেকেন্ডে তারা নিজের কৃতকর্মে চূড়ান্ত দোষ স্বীকার করে স্বতিরস্কার করবে। আর প্রতিজ্ঞা করবে - এই বিপদ মুক্তি পাক শুধু, কখনোই আর বাবুকে একা বাসায় রেখে যাবো না । ঠিক তখনি সান্তসের আসল চেহারা দেখবে তার দুনিয়ার সব অদ্ভুত ও চমকপ্রদ খেলনায় বোঝাই এই কিড হাউজে দাড়িয়ে পিস্তলটি মুঠোয় পুড়ে ভাবছিল সান্তস।
মা
জুলিয়েটের আজ ছুটির দিন , তাই ওকে ঘুরাতে নিয়ে এলো শারজাহ সিটি সেন্টার। ভেবে
সান্তস আরেকবার তৃপ্ত রঙের হাসি ভাসাল মুখে। ও মুখেই পাশ ফিরে দেখে পাশের মহিলাটি
তাঁর আম্মু নয়।যাকে নির্ভর করে সে নিশ্চিন্ত মনে খেলনা পিস্তলটি ঘুরিয়ে ঘারিয়ে
দেখে কল্পনার জগত সৃষ্টি করছিল।জুলিয়েটের সাথে হাটতে হাটতে কখন যে সে খেলনার
দোকানে ঢুকে পড়েছে, বুঝতেই
পারেনি; সাথে জুলিয়েট ঢুকেনি। এতক্ষণ দাড়িয়ে
থাকা খেলনার দোকান, বিভিন্ন
রঙের বাতিগুলো মুহূর্তে কেমন অচেনা আর তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল। কান দুটো বন্ধ হয়ে আসছে, শব্দগুলো অদ্ভুত আকার ধারণ করে চোখে একটা আবছা চশমা খাবলে
ধরেছে তার। থমকে থাকা ভাব নিয়ে ঝিম ধরা পায়ে সে এগিয়ে চৌদিকে তাকাল। কোথাও তার
মাকে দেখা যাচ্ছে না। শারজাহ সিটি সেন্টারে হাজার লোকজন আসে। অসংখ্য ফিলিপিনোও আসে
যাদের সবাইকে তার মায়ের মতো লাগে; কিন্তু কেউ
তাঁর মা নয়- এই ভেবে তার মাথার ভেতর জল ঘোলা হতে লাগল। ক্রমেই সে কাঁদো কাঁদো
হয়ে এদিক ওদিক দৌড়াতে লাগল। সে হারিয়ে গেছে ! তার আব্বু আম্মুর কাছ থেকে অনেক
দূরে সে , কম করে হলেও দুই পৃথিবী দূরে- হাঁটলে যে পথ
শেষ হবে না। তাই সে দৌড়াচ্ছে। উদ্দেশ্যহীন ছুট আর কান্নায় কৌতূহলি মানুষজন
" কী হয়েছে?" জানতে
চাচ্ছে চোখের ভাষায়। এমতাবস্থায় খপ করে কেউ একজন তার হাত ধরে ফেলে। ক্যারিফরের বিজ্ঞপ্তি মাইকে কিছুক্ষণ পরপর ফিলিফিনো কর্মী
অস্পষ্ট ইংলিশে বলে যাচ্ছে
- উয়ি'ভ গট আ ফেসলেস কিড নেমড সান্তস। ইফ এনিওয়ান কেন গিভ
আপ্রপ্রাইট এভিডেনচ, কেন টেক
হিম। ক্যারিফরের সারভিচ সেলে দাড়িয়ে আছে সান্তস কান্নায় ক্লান্ত মুখ। টি-
শার্টের হাতা দিয়ে ঘষে চোখ আর নাকের পানি মুচ্ছে। একজন বাংলাদেশি তাকে ঠিকানা
বৃত্তান্ত জিজ্ঞেস করছে। কন্টাক্ট ওয়ে জানতে চাচ্ছে; কিন্তু সে কিছুই বলছেনা। তার কাছে এই জায়গাটি গহীন জনহীন
জঙ্গল লাগছিল। যার ভূমিটা কাদা-জল আর স্যাঁতস্যাঁতে। চারদিকে প্রচণ্ড ঠান্ডা। এমন
ঠান্ডায় শুধু মায়ের উষ্ণ আদর প্রয়োজন। সে ভাবতে লাগল আম্মুর আদরের কথা।
ক্লান্ত- শ্রান্ত জুলিয়েট ঘরে এলে সান্তস তাকে জড়িয়ে ধরত। আর বলত-
- হোয়াট বট ফর মি ? আম্মু তাকে জড়িয়ে কোলে নিয়ে ছোট্ট গালে চুমু এঁকে বলত
-মাই ডিয়ার বয় ! আই'ভ বট আ ডিফারেন্ট টাইপ চকলেট ফর ইউ। কিচেনে রান্নারত মাকে সারাক্ষন জ্বালাত আর লাফিয়ে লাফিয়ে বলত
- হোয়াট বট ফর মি ? আম্মু তাকে জড়িয়ে কোলে নিয়ে ছোট্ট গালে চুমু এঁকে বলত
-মাই ডিয়ার বয় ! আই'ভ বট আ ডিফারেন্ট টাইপ চকলেট ফর ইউ। কিচেনে রান্নারত মাকে সারাক্ষন জ্বালাত আর লাফিয়ে লাফিয়ে বলত
- হোয়াট আর
ইউ কুকিং, ,হোয়াট আর ইউ কুকিং ? আই'ল সি।
ছয় বছরের
সান্তস মেঝেতে দাড়িয়ে রান্না দেখার মতো লম্বা হয়নি, তাই জুলিয়েট ছোট টুলের উপর দাড় করিয়ে দেখাত তার রান্না, কতক্ষণ পরপর একেকটা লবিস্তার ভাঁজা সান্তসের মুখে পুড়ে
দিত। কান্নার বায়ু বেলুনের মতো পেট ফুলিয়ে
বুকের উপর হাতির কদম ফেলল। গলাটা যেন ফেটে বেরুবে সেই বায়ু, অমনি সে মুখ দিয়ে নির্গমন করে দিলো কান্নার বাজ। বিব্রত
স্টাফরা ওই বাজের উৎস খুঁজে পাওয়ার পূর্বেই সে দিলো ভোঁ দৌড়। পাগলের ভঙ্গিতে
চারপাশ তাকিয়ে জুলিয়েটকে খুঁজচ্ছে। পিচ্ছিল মেঝেতে বার কয় পরে গিয়ে হাঁটুতে
রক্তারক্তি। কিন্তু সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই। খুঁজতে খুঁজতে আবার কল্পনায় তার
আব্বুর কোলে গিয়ে পড়ল। প্রতিদিন
বাপ-বেটা একসাথে গোসল করত। দুষ্টুমি -পানি ছুড়াছুড়ি- হাসাহাসি- আর তুমুল চিৎকারে
বাড়িটা যেন উঠে যেত শুন্যে। রঞ্জন শাওয়ারের নিচে গা ভেজাতে ব্যস্ত যখন, সান্তস একটানে তার তোয়ালে খুলে নিতেই জমত আবার যুদ্ধ।
গোসল শেষে গা মুছে সান্তস ভদ্রজনের মতো বাথরুম ত্যাগ করবে,এমন সময় রঞ্জন এক গাদা সোপফোম ওর শরীরে মাখিয়ে দিতেই
সান্তস রেগে মেগে সিংহের মতো রঞ্জন-হরিণের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তো। এই ভাবনাগুলো ক্রমেই তাকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করছে। এই
মুহূর্তে খুব করে চাচ্ছে আবার সেই সময়গুলোতে ফিরে যেতে। আম্মুর সেই জড়াজড়ি মাখা
চুমু- নাক ঘষাঘষি। আব্বুর সাথে
দাপাদাপি - তা যতো স্বল্প সময়ের জন্যই হোক-না কেন, তাই তো তার
আধি- অরন্যের জোনাকি।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)

