গল্পগুচ্ছতে প্রকাশিত লেখার বিষয়ভাবনা বা বক্তব্যের দায় লেখকের । সম্পাদক কোনভাবেই দায়ী থাকবেন না ।

মঙ্গলবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮

তাপসকিরণ রায়

ধারাবাহিক হ্যান্টেড কাহিনী--৩৫

 উল্টোডাঙার রানীকুঠি রহস্য

 শশীভূষণ অনলাইনে খুঁজে পেলেন এক নতুন ভুতুড়ে জায়গার সন্ধান। উল্টোডাঙ্গার এক পড়ো বাড়ি, তার ইতিহাস হারিয়ে গেছে। সে এক মহলই বলা যায়--তার নাম রানীকুঠি। প্রায় আধ কিলোমিটার দূরত্বে এই কুঠির উত্তর দিকে রয়েছে এখানকার বার জুটমিল। রানিকুঠিতে রাতের বেলায় ঘটে যায় নানা প্যারানরমাল এক্টিবিটিস।  আনন্দবাজার পত্রিকার এক টিম এখানে এসে ভূতের অবস্থানের কথা স্বীকার করে গেছে। এ ব্যাপারে শশীভুশণ ইউ টিউবে খুঁজে পেলেন এক বিডিও। বিডিও অন করে তিনি শুনতে ও দেখতে  লাগলেন রাণীকুঠির রহস্য কথা--
‘’রানিকুঠিতে ছিল নানা রকম অত্যাচারের কাহিনী। এই কুঠিতে বহুদিন আগে নাকি এক রাজার বাস ছিল। রাজা ছিল ভীষণ অত্যাচারী ও খামখেয়ালী। সে রানীদের প্রতি ভীষণ অত্যাচার চালাত। তার মন ভোগ লালসায় পূর্ণ ছিল। রানিকুঠির পাশে ছিল এক বাইজী বাড়ি, রাজা বাইজিদের নাচ দেখত, হোই হুল্লোড় করত। কোন কোন বাঈজীর ওপর একঘেয়েমি এসে গেলে  রাজা তাকে হত্যা করে সেখানেই মাটির তলায় নাকি পুঁতে রাখত। এ সব ঘটনার পর একশ বছরের বেশী কেটে গেছে। শোনা যায়, রাতের বেলায় যারা রানিকুঠির রাস্তার আশপাশে যাতায়াত করে তারা নানা রকম শব্দ শুনতে পায়। এখানে আমাবস্যার গভীর রাতে নাকি এই বাইজী বাড়িতে জলসার মত গান নাচ আনন্দ উৎসব বসে। জায়গাটা যেন আবার জেগে ওঠে। এ জায়গায় নাকি রাতে কোথাও ঠাণ্ডা, আবার কোথাও গরম অনুভূত হয়। এই জঙ্গল দিয়ে কখনও কেউ হেঁটে গেলে শুনতে পায়, কেউ যেন ডেকে বলছে, বাবু এদিকে একটু শুনে যান--কেও যেন পাশ কাটিয়ে চলে যায়, কাউকেই দেখতে পাওয়া যায় না। আবার কখনও মনে হবে কুঠির কোন ঘরে আলো জ্বলছে, সেখানে গেলে আপনি কিছুই দেখতে বা শুনতে পাবেন না।  এক সময় ক্ষীণ ঝুমুরের শব্দ আপনি শুনতে পাবেন। চারদিকে তখন অন্ধকার অলৌকিকতার মাঝে কিছু যেন জেগে উঠেছে ! সাবধান--এখানে অনেক সাপের উপদ্রব রয়েছে, অসাবধানে অঘটন ঘটে যেতেই  পারে। নানান প্যারানরমাল এক্টিভিটিজ গ্রুপও এখানে এসে তাদের মেশিন ইনস্ট্রুমেন্টস দিয়ে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গেছেন। তাঁদের মতে, এখানে আছে কিছু এবনরমাল এক্টিভিটিস।’’
শশিভূষণ উল্টোডাঙা যাওয়ার ব্যাপারটা একরকম ঠিকই করে ফেললেন। জাগাটা বেশী দূরে না। তিন বন্ধু মিলে  ঠিক করলেন তাঁরা নিজেদের কারেই সেখানে যাবেন। শশীভূষণ ও তাঁর বন্ধুদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় এমনি--শশীভূষণ অকৃতদার। অর্ণব বিপত্নীক আর জনান্তিকের স্ত্রী আছেন কিন্তু ছেলেপুলে না হওয়ায় সংসার নিয়ে তিনি তত জড়িয়ে পড়েননি। কাজেই একমাত্র তাঁদের দ্বারাই সম্ভব এ ধরনের মিস্টিরিয়াস ঘটনার পেছনে ছুটে ফেরা। ওঁরা প্রত্যেকে কলকাতায় থাকেন, ওঁদের নিজস্ব পেশা থাকা সত্যেও নেশা হিসাবে এই কাজটা তাঁরা মাঝে মাঝেই চালিয়ে যান।
রাত নটার দিকে শশীভূষণ দুই বন্ধুকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন উল্টোডাঙার রানীকুঠির দিকে। রাস্তায় তখনও অল্প বিস্তর জ্যাম হয়ে আছে তবু আধ ঘণ্টার ভেতরেই ওরা উল্টোডাঙ্গাতে পৌঁছে গেলেন। খুঁজে খুঁজে জুটমিল পেতে তাঁদের দেরি হল না। এখানে কিছু লোকের যাতায়াত দেখতে পাওয়া গেল। এক জনকে শশী বাবু সামনের রাস্তার দিক থেকে কাছে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা বলতে পারেন,এটাই তো বার জুটমিল ?
--হ্যাঁ, তবে জুটমিল অনেকদিন বন্ধ আছে, লোকটা বললেন।   
শশীভূষণ আবার জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা আপনি কি এখানকার রানীকুঠি কোথায় আছে বলতে পারেন ?
লোকটা মনে হল শুরুতে চট করে বুঝে উঠতে পারলেন না,তারপর হঠাৎ তাঁর মনে পড়াতে বলে উঠলেন, ও মানে সে তো পরিত্যক্ত দালানকোঠা, তাও বেশ জঙ্গলের মধ্যে আছে।  
জনান্তিক এবার বললেন, হ্যাঁ আমরা সেটারই খোঁজ করছি।
--সেটার--! আশ্চর্য বোধক প্রশ্ন টেনে লোকটা বললেন। লোকটা এবার শশীবাবুর কাছে এসে দাঁড়ালেন। তাঁর কৌতূহল যেন আরও বেড়ে গেল, রানিকুঠি দিয়ে আপনারা কি করবেন ? লোকটা ভয়ের গলা নিয়ে বলে উঠলেন।
শশী এবার সামান্য ভূমিকা সহযোগে ওদের এমনি আসার উদ্দেশ্যর কথা লোকটাকে বললেন। লোকটাকে বেশ সাহসী ও কৌতূহলী বলেই মনে হল। তিনি হঠাৎ প্রস্তাব করে বসলেন,আমারও আপনাদের মত প্রবল ইচ্ছে ছিল--যদি বলেন--আমি কি আপনাদের সঙ্গে যেতে পারি ?
অর্ণব বলে ওঠেন, হ্যাঁ হ্যাঁ, আমাদের কোন আপত্তি নেই, দল একটু ভারী হলে অসুবিধাটা কি ?
জনান্তিক ফিসফিসিয়ে শশীর কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে উঠলেন, আবার জীবনের কোন রিক্স থাকবে না ত?
লোকটার কান অব্দি কথাগুলি হঠাৎ পৌঁছে গেল, তাই তিনি বলে উঠলেন, না না, এমন ধরনের ঘটনার সাক্ষী আমি আগেও থেকেছি।
এবার ওরা চারজন শশীভূষণের কারে গিয়ে বসলেন। এখানে ড্রাইভার শশীভূষণ স্বয়ং আর তার পাশে নতুন লোকটা বসেছেন। পেছনে অর্ণব ও জনান্তিক বসেছেন।
মাত্র দশ মিনিটের মধ্যে ওরা রানীকুঠির ধারে কাছে গিয়ে পৌঁছে গেলেন। লোকটা বললেন, এখানে নামতে হবে,জঙ্গলের ভেতরে গাড়ি যাবে না, তবে একেবারে ঘন জঙ্গল নয়, দু-একজন মানুষ এক সাথে চলাফেরা করার মত পথ আছে।
অর্ণব বললেন, শুনেছি, এখানে অনেক সাপ আছে !
লোকটা বললেন, হ্যাঁ, আছে ত--
শশী তার পকেট থেকে মোবাইল বের করে জঙ্গলের সরু পথে টর্চ ধরতে লাগলেন। সবাই ধীর পায়ে এগিয়ে চলেছেন। সঙ্গের লোকটা বেশ সাহসী আছেন বোঝা যাচ্ছে। তিনি আগে আগে হাঁটছেন। তিনি নাকি আগেও দু- একবার এই রানীকুঠিতে ঘুরে গেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, ঘন অন্ধকারের মাঝে এখানে একটাও জোনাকি নেই।  কিংবা ঝিঁঝিঁ পোকার ঝিঁঝিঁ রবও আসছে না। হঠাৎ সবাই থমকে দাঁড়ালেন।
--আমাদের সামনে কোথাও শুকনো ডালপালা নড়েচড়ে উঠছে, লোকটা বললেন।
অর্ণব বললেন, রানীকুঠি থেকে এ শব্দ আসছে না তো?
লোকটা উত্তর দিলেন--না তো
অর্ণব বললেন, না তো বললেন, কিন্তু হতেও তো  পারে ?অর্ণব সাবধান হলেন, চারদিকের সুরক্ষা ব্যবস্থা দেখে নেবার চেষ্টা করলেন।  হ্যাঁ, তাঁর তিন দিকে সুরক্ষা আছে, অর্ণবের মনে হল, পিছন দিক থেকে চাইলে তাকে কেউ টেনে ধরে নিয়ে যেতে পারে কিন্তু না দেখার আগেই অর্ণব নিজের শরীরে কেমন একটা কাঁপুনি অনুভব করতে লাগলেন!
জনান্তিক অর্ণবকে বললেন, তুই এখনই ভয়ে কাঁপাকাঁপি শুরু করে দিলি নাকি ?
অর্ণব মুখে কোন কথা বা শব্দ উচ্চারণ করলেন না।
--রানীকুঠি ওই যে--লোকটা সামনের দিকে হাত তুলে দেখালেন।
বন্ধুরা সমান্তরালে সবাই দাঁড়িয়ে আছেন। সামনে অস্পষ্ট ছায়ার ভেতর ছাইরঙা ধোঁয়াশা মত দীর্ঘ প্রাসাদ দেখা যাচ্ছে।বিশাল তার দ্বার ও গম্বুজ দেখা যাচ্ছে। দরজার কোন পাট নেই। দেওয়াল ভাংচুর হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আছে।
দীর্ঘ দরজা-জানালাহীন প্রাসাদটা মস্ত এক ফাঁকা হয়ে ভেতরে প্রবেশের যেন নির্দেশ দিচ্ছিল। জনান্তিক বললেন, প্রাসাদটা একেবারে নিঝুম হয়ে পড়ে আছে, কোন অলৌকিক অস্তিত্বের কথাই যেন আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে--জনান্তিকের কথা শেষ হল না, রানীকুঠির ভেতর থেকে ক্যাঁচ ক্যাঁচ করে দু বার শব্দ হল--যেন জালনা বা দরজার পাট ধীরে ধীরে হাওয়ায় খুলে যাচ্ছে বা কেউ বুঝি  খুলে দিচ্ছে। সামান্য দাঁড়িয়ে এবার ওঁরা রানীকুঠির দরজার সামনে এসে দাঁড়ালেন। জনান্তিক বলে উঠেন, হঠাৎ আমাদের ঠাণ্ডা লাগছে কেন বলত ? হ্যাঁ সত্যি। ওদের চারজনেরই বেশ ঠাণ্ডা লাগতে লাগলো। অথচ এত রাস্তা পার হয়ে আসার সময়  তাদের শীত আদৌ অনুভব হয়নি।
শশী বাবু বললেন, হ্যাঁ ভয়ের এমন ব্যাপারের কথা আমি পড়েছি, চল, আমরা এবার ভেতরে যাই--
একটা জিনিস সবারই নজরে পড়লো। বাইরেটা অন্ধকার হলেও রানীকুঠির ভেতরের দিকটা চোখ রাখার পরেই বোঝা গেল অতটা অন্ধকার সেখানে নেই। মনে হচ্ছে ভেতরে কোন কম পাওয়ারের আলো জ্বলছে। সেই আলো চাপা দেবার চেষ্টার পর যেন চাপা ছাইরঙা একটা আলো অন্দর মহলে ছড়িয়ে পড়েছে। সন্তর্পণে চারজন এগিয়ে গেলেন। সবাই চুপ করে আছেন, চরম উত্তেজনা ওদের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। একের পর এক বিশাল ঘর পার হয়ে যাচ্ছেন ওঁরা। বড় বড় ইট সিমেন্টের চাই প্লাস্টার চারদিকে ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে আছে। চারদিক হাঁ করা সব দরজা-জানালাশুন্য ফাঁকা জাগাগুলি হঠাৎ চোখে পড়লে ভয়ের উদ্বেগ হয়। আট দশটা ঘর পার হয়ে ওরা বোধ হয় কুঠির পেছন দিকে এসে পড়েছেন। এখানে হঠাৎ ওরা দেখলেন একটা দীর্ঘ কালো ছায়া জানালার পাশ থেকে ঝুলে ছাদ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অর্ণব দেখেই ভয় পেয়ে  গোঁ গোঁ শব্দ করে উঠলেন। হ্যাঁ ছায়াটা দস্তুর মত নড়ছে চড়ছে--যেন ওদের দিকেই কিছু ইশারা করার চেষ্টা করছে ! শশী বাবু আর দাঁড়াতে পারলেন না, পকেট থেকে তিনি বড় চাকুটা বের করে চীৎকার দিয়ে উঠলেন, কে ? কে ? তখনও  তেমনি ছায়াটা দাঁড়িয়ে আছে। সঙ্গের লোকটা সাহসী বটে, সে দু পা এগিয়ে দেখে বললেন, মনে হচ্ছে বাইরের কোন গাছের ছায়া ভাঙা জালনা দিয়ে এসে পড়েছে।
অর্ণব ভয়ে কাঁপছিলেন। জনান্তিক ও লোকটা এবার অর্ণবকে সামলাবার জন্যে ধরে থাকলেন। শশী বাবু কপা এগিয়ে এসে ছায়ার ওপর ছুরির ফলা চালাতে লাগলেন। হ্যাঁ, বোঝা গেল ওটা আসলেই গাছের ছায়া।
রানীকুঠি থেকে বেরিয়ে এলেন ওঁরা। না, প্যারানরমাল কিছুই পাওয়া গেল না, এখন অর্ণব সুস্থতা ফিরে পেয়েছেন। শশী বাবু লোকটাকে বললেন, আচ্ছা বাঈজী  বাড়িটা কোথায় বলতে পারেন ?
লোকটা বললেন, আমি জানি, যাবেন ?
--হ্যাঁ ওখানে হয়ত কিছুর দেখা মিললেও মিলতে পারে, শশী বললেন।  
--চলুন তা হলে, লোকটা আগে আগে হাঁটতে লাগলেন। দেখা গেলো লোকটা মোবাইলে টর্চ জ্বালিয়েছেন, সাপের ভয়ে এখানে এটুকু সতর্ক হতেই হবে। শশীভূষণ মোবাইলের ঘড়ির দিকে তাকালেন, ওরে বাবা--রাত বারোটার কাছাকাছি !হাঁটতে হাঁটতে কিছুটা জায়গা গরম বোধ হচ্ছে। গরমের পর আবার ঠান্ডা, জাগাটাই অদ্ভুৎ, একই জাগায় বিস্ময়কর ঠাণ্ডা-গরম আবহাওয়ার পরিবেশ।
লোকটা বললেন, ওই তো বাইজী বাড়ি দেখা যাচ্ছে। ওরা এগিয়ে গেলেন বাইজি বাড়ির দালানের দিকে। এখানেও প্রকাণ্ড গেট, দালানও নেহাত কম বড় নয়, প্রকাণ্ড উঁচু ভাঙাচোরা দালান। একদম হাট হয়ে দরজা-জানলার জায়গাগুলি হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছে। চারজন ভয়ে ভয়ে পা টিপে ঢুকে গেলেন বাইজি বাড়ির ভেতরে। কিছু দেখা যাচ্ছে না, মাঝে মাঝে টর্চ ফেলতে হচ্ছে। কেন যেন এই জায়গাটা ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে আছে। হঠাৎ মনে হল ঘরে কেউ যেন বড় বড় শ্বাস ফেলে চলেছে। শ্বাসের শব্দ স্পষ্টতর হয়ে চলেছে। এবার ওরা ভয়ে থমকে দাঁড়িয়ে পড়লেন। কিছু সময় পরে শশী বাবুর মনে হল, না এটা বাতাসও হতে পারে। এখন হয়ত বাইরে বাতাস চলছে, সে বাতাস কোন এক অ্যাঙ্গেলে এসে ঘরে ঢুকে পড়ছে। আর তা এ ঘর ও ঘর করার সময় শ্বাস ফেলার মত শব্দ তৈরি হচ্ছে। না আর কিছুই দেখা হল না। তার মানে কি কিছুই নেই এখানে ? অলৌকিক কেউ কোন দিন কিছুই তা হলে দেখেনি ? তবে যে বলা হয় পত্র-পত্রিকা ও বিভিন্ন প্যারানরমাল এক্টিভিটিস গ্রুপরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখে গেছে--ওরা স্বীকার করেছে যে এখানে প্যারানরমাল এক্টিভিটিস সত্যিই আছে ! আর একটু এগোলেই জঙ্গলের শেষ হবে।  অর্ণবের ভয় অনেকটা কেটে গেছে। তিনি বললেন, ভয়ের তো কিছুই দেখলাম না! এখানকার সব ঘটনা কি তা হলে বুজরুকি বলে বুঝবো ?
সঙ্গের লোকটা হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন, চুপি চুপি কান পেতে ভয় ভয় চেহারা নিয়ে বলে উঠলেন, এ কি ! জঙ্গল থেকে ঘুঙুরের আওয়াজ আসছে না ?
--কোই ? কোই ? বলে শশীভূষণ কান পেতে থেকে ফিসফিস করে বলে চললেন, এ তো শব্দ বেড়ে চলেছে ? ঠিক তাই। কোথাও যেন মহফিল বসেছে, ঘুঙুরের আওয়াজ, বাইজিদের হাহা হিহি হাসির শব্দ, পুরুষদের মাতাল জরানো গলা, সব মিলিয়ে একটা শব্দ বনের দিক থেকে গুঞ্জরিত হয়ে আসছিল। শশী বাবু হঠাৎ বলে উঠলেন, চলুন আমরা এগিয়ে দেখি--
অর্ণব ভয়ে কিছু বলতে গেলেন কিন্তু ভাষা তার মুখ থেকে ফুটল না। জনান্তিক শশীকে প্রশ্ন করলেন, ওখানে যাবি নাকি?
লোকটা বড় রোমাঞ্চিত বলে মনে হল, বললেন, চলুন না,একটু একটু করে এগিয়ে গিয়ে দেখি--
অর্ণব দুদিকে দুহাতে শশী বাবু ও জনান্তিককে আঁকড়ে ধরে আছেন। লোকটা এখন সবার সঙ্গে এগোচ্ছেন। কপা এগিয়েই ওরা সবাই  এসে থমকে দাঁড়ালেন।  ওদের সামনে এক অলৌকিক দৃশ্য দৃশ্যমান হয়ে চলছে ! বাইজি বাড়ির অন্দর মহলের আলোর আভাস মনে হচ্ছে, বেশ কিছু লোক ওখানেই হই-হুল্লোড় করে বেড়াচ্ছে আর তারই মাঝে ভাঙ্গা ভাঙ্গা শব্দে হঠাৎ হঠাৎ ঘুঙুরের আওয়াজ বেজে উঠছে। সে সঙ্গে বাঈজীর নাচ ভঙ্গীর দু চারটে স্লো মোশান দৃশ্যের পটভূমি চোখ জুড়ে রয়েছে। তারপর আর কিছু মনে নেই, কখন যেন সামনের বাইজি বাড়ির আলো হৈ হুল্লোড় থেমে গেছে, ওঁরা চারজন কত সময় ধরে এখানে দাঁড়িয়ে আছেন তাঁরা  নিজেরাই যেন তা জানেন না ! ওঁরা তা হলে কি নিজেদের সম্বিৎ হারিয়ে ফেলেছিলেন ? বাস্তবিকই কি ওঁরা এত সময় ধরে এত সব দেখেছেন ? যখন ওরা স্বাভাবিক হলেন তখন আর কিছু নেই। চারদিকে বনের অন্ধকার আর নিস্তব্ধতা। মাঝে মাঝে ওঁদের মনে এ সবের সমস্ত কিছুই ভ্রম বলে মনে হল। কিন্তু সত্যি কি তাই ? চারজন ব্যক্তি এক সঙ্গে একই ভ্রমিত দৃশ্য অবলোকন করতে পারেন কি ?
লোকটা আর তিন বন্ধু ওঁরা সবাই এবার ফিরে আসছেন। যাই হোক, অলৌকিক কিছু তো ওঁরা দেখতে পেয়েছেন, তার মানে আজকের দিনটা তাঁদের একেবারে নিষ্ফলা যায়নি।



স্বরাজ দত্ত

দীপান্বিতা

    প্রতিদিনের মতো আজও প্রায় ফাঁকা হয়ে যাওয়া স্টেশনে নেমে একবার মোবাইল ফোনে সময়টা দেখে নিলো দীপান্বিতা। আজও প্রায় পঁচিশ মিনিট লেট করেছে ট্রেনটা। ক্লান্ত অফিস পাড়ার শেষ মানুষগুলোকে টানতে টানতে ট্রেনটাও বুঝি ক্লান্ত হয়ে পরে রোজ। বিবাদিবাগ ছেড়ে হাওড়া ব্রিজের তলায় ঢুকতেই, সমস্ত অন্ধকার যেন হুড়মুড় করে ঢুকে পরে ট্রেনের কামড়ায়। আরো, আরো বেশী ক্লান্তি এসে বসে পাশের ফাঁকা সিটে। বয়ে যাওয়া গঙ্গার ভেজা হাওয়া জড়িয়ে দেয় ঘুমের চাদর। অনেক কষ্টে চোখদুটো খোলা রাখে দীপান্বিতা। গঙ্গাকে বাঁপাশে রেখে ট্রেনটা ডানদিকে ঘুরতেই একটা কেন্দ্রীভূত টান অনুভব করে সে, এ টান ঘরে ফেরার টান। এ টান দরজার দিকে স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে থাকা বন্ধ মিলের অকাল বুড়িয়ে যাওয়া বাবা আর ক্রমাগত দুশ্চিন্তার জাল বুনে যাওয়া মায়ের চোখকে স্বস্তি দেওয়ার টান। এ টান একটা দিন শেষ করে, আরেকটা দিন শুরু করার লড়াইয়ের টান।
    লক-আউট মিল স্বপ্ন থামিয়ে ছিল আগেই। গ্রাজুয়েশনটা করতে করতেই নিজের হাতে চ্যানেল সার্ফ করে ঢুকে পতে হয়েছে অ্যাডভেঞ্চার আর ডিসকাভারি ছেড়ে রুজি-রুটি ডিসকভারের রাজ্যে। ক্যুরিয়র কোম্পানির ব্যাক অফিস ছেড়ে বর্তমানে এক মাড়ওয়ারি ফার্মে। রোজকার খাতা লেখা থেকে শুরু করে কাস্টমার অ্যাটেন্ড। সকাল দশটার মধ্যে গদির সাদা চাদরে তাঁর পায়ের ছাপ নাকি মালিকের লক্ষ্মী নিয়ে আসে। আর, সব শেষ করতে করতে রাত আটটা প্রায়। কোনোক্রমে দৌড়ে স্টেশনে পৌঁছতে হয়। কারণ, শেষ ট্রেনটা মিস্‌ করলেই আবার দু-কিলোমিটার হাঁটা। মরা অফিস পাড়ার ছায়া ভূত, আর ফুটপাথের প্লাস্টিক বাধা দোকানগুলো যেন একসাথে হেসে ওঠে, পিছু নেয়, গায়ে হাত দিতে চায়। ধর্মতলা কে সি দাশের সামনেটা এলে তবেই একটু শ্বাস ছারে সে। অন্যথায় প্রশ্বাসে অন্য কিছুর গন্ধ আসে। এরপর আবার বাসের জন্য অপেক্ষা।
    রক্ষে একটাই, শনিবার দিনটা হাফ-ডে দেয় ওরা। রবিবার পুরো বন্ধ। রবিবারটা সমস্ত কিছু ব্যাল্যান্স করতে গিয়ে কোথা দিয়ে যে চলে যায়, কিছুতেই বুঝতে পারেনা দীপান্বিতা। তাই শনিবারের হাফ-ডে টা ওর একার। স্বপ্নের সব বাতিগুলো একটা একটা করে নিভিয়ে দিতে দিতেও, একটা বাতি শেষ অবধি নেভাতে পারেনি ও। অনেক যত্নে বাঁচিয়ে রাখা সেই মৃদু আলো আজকাল মাঝে মাঝেই পথ দেখায় তাঁকে। আসা-যাওয়ার পথের নিত্যসঙ্গী হেড-ফোনের তারগুলো দিয়ে কানের ভিতরে সেঁধিয়ে যাওয়া সবকটা সুর, তাল এখন আলাদা আলাদা করে প্রকট হচ্ছে ওর কাছে। এ এক অন্য ভুবন। যেখানে শুধুই শান্তি।
    লক-আউটের ধাক্কায় সেকেন্ড ইয়ারেই ছাড়তে হয়েছিল গানের স্কুল। তবু গান ছাড়েনি ওকে। শনিবারের হাফ-ডে টা এক নতুন আশা দিয়েছে। অফিস শেষ করেই ক্লান্ত শরীরটাকে বুঝিয়ে পড়িয়ে, বেলেঘাটার শান্তনু স্যারের কাছে ছোটে সে। বাসের জানালা দিয়ে সব ক্লান্তি নামিয়ে দিয়ে যায় সি আই টি রোডের দুপাশে। ওর অদ্ভুত সুন্দর গলা, উচ্চারণ, আলাদা করেছে ওকে অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে। স্যারও পরম মমতায় নিজের মতো গড়ে নিচ্ছেন ওকে একটু একটু করে।
    ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের হুইসল ছিন্ন করল চিন্তাসূত্র। অফিসের ছোটো মালিকের দেওয়া বিকৃত প্রস্তাব, এক ধাক্কায় স্যালারি উল্লম্ফনের প্রস্তাব, কাজের সময় কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব সব ভেসে গেল আলহাইয়া বিলাবল-এ। শেষদিন ক্লাসে কিছুতেই কোমল আর শুদ্ধ নিকে বাগে আনতে পারেনি সে। স্ট্যান্ডিং নোটের পাও মাঝে মাঝেই ঢলে পরেছে মা-এর কোলে। আরোহণের সময় যদি বা লেগেছে, অবরোহণের সময় কিছুতেই দীপান্বিতা ছুঁতে পারছিলনা শুদ্ধ নিঅনেক বকেছেন স্যার। কিন্তু! কিন্তু, শুধু দীপান্বিতাই জানে এই নিশব্দটি বারবার অপদস্থ করেছে তাঁকে। ভেঙ্গেছে স্বপ্নের মিনার। পারিনি, করিনি, হয়নিবারবার পিছু টেনে ধরেছে তাঁর চলার পথ। এক মুহূর্তে মনে পরে গেলো বাবার বন্ধ হয়ে যাওয়া বিখ্যাত মিলের নামটার শেষেও সেই নি, বেলঘরিয়ার বিখ্যাত – ‘মোহিনী মিল শুদ্ধ আর কোমলের ফাঁকটা তাই চিরকাল অস্পষ্ট থেকেছে ওর কাছে। ওর সব নি-ই নেতিবাচক।
    টালা স্টেশন থেকে ওদের বাড়ি হাঁটা পথে বেশ খানিকটা। স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে এসে ডানদিকে উঠে আসতে হয় হেমন্ত সেতুর দিকে। তারপর বি টি রোড বরাবর খানিকটা এগিয়ে বাঁদিকের খাল পার ধরে যেতে হয় আরো প্রায় পনের মিনিট। জায়গাটা সন্ধ্যের পর থেকেই এড়িয়ে চলে সাধারণ মানুষ। খাল ধারে সার সার পার্ক করা লড়ি মৃত জন্তুর মতো দাঁড়িয়ে থাকে এক পাশেমাঝে মাঝে দু-একটা ঝুপড়ি। পিছনে বয়ে চলা খালের নিকষ কালো জল অন্ধকারকে আরও আরও গাঢ় করে তোলে। ঝুপড়িগুলোতে কে বা কারা থাকে, তা নিয়ে কখনো আগ্রহ তৈরি হয়নি দীপান্বিতার মনে। ছোটবেলা থেকে শুধু জেনেছে, এ জায়গাটা ভালো নয়। এই ফাঁকা জায়গাটায় এলেই জোরে জোরে সুর ভাজতে শুরু করে সে। নিজেকে নিজের সাথে নিয়ে হেঁটে যায় সুরের পথে। ও অনুভব করতে পারে, সমস্ত কালোয় হালকা একটা আলো জ্বলে। সুরের ঝর্নায় সমস্ত নৈশব্দ আর ভয় পিছলে পরে বয়ে যায় খালের জলে।
    আজ স্টেশন থেকে ডানদিকে উঠে আসতেই হালকা বৃষ্টি এলোথেমেও গেল। বৃষ্টির খুনসুটিতে রাস্তার কুকুরগুলোও আজ অন্য কোনো আশ্রয়ে। অন্যদিন একটা লাল রঙের কুকুর ওকে নিশ্চুপে এগিয়ে দিয়ে আসে খাল পার অবধি। দীপান্বিতা বুঝল, আজ তাঁকে একাই পার করতে হবে এই বিজন রাস্তা। সামনে বি টি রোডটা দেখতে পেয়েই একটু জোড়েই চেঁচিয়ে উঠল দীপান্বিতা- আজ নিষাদের পালা। আজ তোমায় ছারছিনা নি। আজ তোমায় নিয়ে পার হব এই নিকষ কালো অন্ধকার। হঠাৎ বৃষ্টি এলো জোরে। দুরের দোকানের আলোটা এতটাই দূরে যে, সেখানে পৌছতে গেলে সবটা ভিজে একশা হয়ে যাবে। ব্যাগে ছাতা নেই। কাল সকালে আবার আটটা পঞ্চান্ন-র ডাউন নৈহাটি লোকাল। যদি জ্বর আসে? ছোটবাবুর...............! আগা-পাশ-তলা ভাবতে ভাবতেই দুটো পার্ক করা লড়ির মাঝে আশ্রয় নিলো দীপান্বিতা। বাড়তে লাগল বৃষ্টির তোড়। আরও একটু ভিতর দিকে সরে এলো দীপান্বিতা।
    হঠাৎ মৃত অফিস পাড়ার গন্ধটা নাকে এলো দীপান্বিতার। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারটে বলিষ্ঠ হাত জাপটে ধরল তাঁকে। মৃত সরীসৃপের মতো পরে থাকা একটা লড়ি হঠাৎই যেন জীবন্ত হয়ে উঠল। ফাঁক হয়ে গেল ড্রাইভারস কেবিনের দরজা। চারটে হাত একপ্রকার পাঁজাকোলে করে তাঁকে চালান করে দিল কেবিনের ভিতরে। শরীরটাকে যেন ছিঁড়ে নিতে চাইছে বীভৎস ক্ষুধার্ত হায়নার দল। সমস্ত চিৎকার বৃষ্টির সাথে দলা পাকিয়ে আছড়ে পড়তে থাকল কালো পিচে। বয়ে যেতে থাকলো খালের আরো কালো জলের দিকে।
    সমস্ত প্রতিরোধ শেষ হয়ে আসছে দীপান্বিতার। চোখের সামনে ভেসে উঠছে বাবা, মা, অফিসের ছোটবাবু, বাগবাজার স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে দাঁড়িয়ে থাকা এক জোড়া বোকা বোকা চোখ, গানের স্যার.........। হঠাৎ! প্রচণ্ড চিৎকারে একজন কেবিন থেকে ছিটকে পড়ল বাইরে। মুহূর্তটা বোধগম্য হওয়ার আগেই ঝলসে ওঠা বিদ্যুতের আলোয় আর একজনের মাথা থেকে গলগল করে রক্ত বেড়তে দেখতে পেল দীপান্বিতা। কয়েক সেকেন্ড অস্পষ্ট গোঙ্গানি, জল পাড়িয়ে ছুটে যাওয়ার শব্দ, আর তারপর, সব শান্ত। খেয়ালী বৃষ্টিও যেন একদম থেমে গেল কারো এক গোপন নির্দেশে। সময় নষ্ট না করে প্রায় সিটের নিচে সেঁধিয়ে যাওয়া শরীরটা ওপরে টেনে তুলল দীপান্বিতা। গাছের পাতার ছলকে পরা চাঁদের আলোয় সে দেখল, লড়ির সামনে রক্ত মাখা হাঁসুয়া হাতে এক এলোকেশী নারী মূর্তি।
    চাওয়া-পাওয়ার হিসেবটা নিজের হাতে কষতে শেখার সাথে সাথেই ভূত বা ভগবানের প্রতি বিশ্বাসটুকু সযত্নে ট্র্যাঙ্কে তুলে রেখেছিল দীপান্বিতা। কিন্তু সামনে যা দেখছে তা কি? কে এই নারী মূর্তি? দীপান্বিতা অবাক বিস্ময়ে শুধু তাকিয়ে রইল তাঁর দিকে। আসতে আসতে তাঁর দিকে এগিয়ে এলো সে। হাত বাড়িয়ে দিল তাঁর দিকে। এ হাতে বরাভয়। এ হাতে বিশ্বাস। নিজের হাতও বাড়িয়ে দিল দীপান্বিতা। বেড়িয়ে এলো দুঃস্বপ্নের সেই সরীসৃপের জ্বলন্ত জঠর থেকে। আস্তে আস্তে তাঁর হাত ধরে পাশের একটা বস্তিতে ঢুকে এলো দীপান্বিতা। এগিয়ে দেওয়া জলের গ্লাসের সবটুকু এক নিঃশ্বাসে শেষ করে এক দমকায় নিভিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল ভিতরের ঘৃণার আগুন। মৃদু স্বরে মুখ খুললেন সেই নারী। ম্যাঁ মুন্নীবাঈ। খাল পাড় কি সবহি লড়ি ড্রাইভার আওড় খালাসী জানতে হ্যায় মুঝে ইসি নাম সে। ইসহি নাম সে জানতে হ্যায় পুলিশ আউট-পোস্ট ভি। প্রতিটি শব্দে দীপান্বিতা অনুভব করছিল ক্ষোভ, ঘৃণা আর জিঘাংসার কোরাস। প্রতিটি শব্দে অসম্ভব স্পর্ধা আর আত্মবিশ্বাস। একটু থেমে আবার শুরু করল মুন্নীবাঈ – “হাম হার দিন আপকো ইহা সে গুজারতে দেখতে হ্যায় বহিন, তুম যো গাতে হো, বো মেরে দিল তক্‌ ফারাক সে পউছতি হ্যায়। তুম অ্যাঁয়সি হি গাতে র‍্যাহেনা ব্যাহেনা। কিসিকো হিম্মত নেহী কে তুমহে ইহা আঁখ উঠাকে দ্যেখে। কাল সে হাম খুদ খাঁড়ে র‍্যাহেঙ্গে মোড় পে। ম্যাঁ আচ্ছি অউরত তো হু নেহী, পর যো ভি হু, তুমহে ব্যাহেন মানা। তুম ঘর যাও
    বাইরে পা রাখল দীপান্বিতা। দূরের দকানের এফ এম তরঙ্গে ভেসে আসছে আলহাইয়া বিলাবল, হয়নি, করিনি, পারিনি............ মুন্নী.........নাঃ! কোমল নিআর শুদ্ধ নি-এর ফারাকটা খুঁজে পেয়েছে দীপান্বিতা, দূর থেকে ভেসে আসছে বিলাবলের সুরের মূর্ছনা...... “অঞ্জলি লহ মোর, সঙ্গীতে......। ধরে ফেলেছে দীপান্বিতা। ধরে ফেলেছে নি। এবার পা-এর পালা। পা তো তাঁকে সঠিক ভাবে ফেলতেই হবে। আরোহণ আর অবরোহণ নিজের দখলে নেবে সে। বিস্তার করবে নিজের মতো। এ জার্নি তাঁর।
    ছোটবাবুর উত্তরটা আগামীকালের জন্য তুলে রাখল দীপান্বিতা। এখন বাড়ি অবধি রাস্তার প্রতিটি স্টেপে ...... সা রে গা পা । ধা ণি ধা পা । মা্‌ গা রে । গা পা ধা নি সা............... কবন বাটারিয়া ........ গ্যাইলো মাঈ............ আলহাইয়া বিলাবল.........।।