এই সংখ্যায় যাদের লেখা ঃ সুবীর কুমার রায়, ফারহানা খানম, শ্যামশ্রী চাকী, অসিতবরণ চট্টোপাধ্যায়, নীহার চক্রবর্তী, সোনালি ভট্টাচার্য মুখার্জী, মনোজিৎ কুমার দাস ও উত্তম বিশ্বাস
রনি মাসিমার বিদেশ ভ্রমণ

মুহুর্তের মধ্যে খবরটা গোটা পাড়ায় রাষ্ট্র হয়ে গেল, রনি মাসিমা বিদেশ যাচ্ছেন। গোটা অঞ্চলের তিন প্রজন্মের একজনকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে রনি মাসিমাকে চেনে না। সেই চোদ্দ বছর বয়সে পাল পরিবারের তিনতলা বাড়িতে তিনি বড় বউ হয়ে এসে, আজ পঁষষট্টি বছরের বৃদ্ধা। তিন ছেলে, চার মেয়ে ও এগারোটা নাতি নাতনি নিয়ে তাঁর সাধের বিরাট সংসার।

সকাল থেকেই পালা করে দলে দলে প্রায় সব বাড়ি থেকেই প্রতিবেশীরা খোঁজ নিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে যাচ্ছে, কোন কিছু প্রয়োজন আছে কী না জেনে যাচ্ছেআর আসবে নাই বা কেন, গত একান্ন বছরের মধ্যে কেউ তাঁকে কখনও কোথাও যেতে দেখে নি। দুই কিলোমিটার দূরত্বে তাঁর ননদের বাড়ি। বাবার মৃত্যুর পর নন্দাই এই ননদটিকে নিয়ে সাত দিনের জন্য দেশের বাড়ি গেলে, রনি মাসিমা তাঁর স্বামীর সাথে সেই ফাঁকা বাড়ি পাহাড়া দিতে যানবলা যায় এটাই তাঁর মধুচন্দ্রিমা যাপন। তাঁর স্বামীর সাথে বিয়ে হয়ে এসে অবধি সংসারের কাজ কে সামলাবে, শ্বশুর শাশুড়িকে কে দেখবে, মোচা বা ডুমুর কে কুটবে, ভাবতে ভাবতেই জীবনটা প্রায় শেষ হয়ে গেল, কোথাও আর যাওয়া হয়ে ওঠে নি। স্বামী মারা গেছেন অনেকদিন, আজ তাঁর প্রথম বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ হল। বিদেশ মানে দেওঘর। রনি মাসিমার মতে বিদেশ মানে তো পশ্চিমে ভ্রমণ শুনি, তা দেওঘরও তো ঐ পশ্চিমেই বলে শুনি, তাহলে দেওঘর যাওয়াটা কেন বিদেশ ভ্রমণ নয়?
পাড়ার এক ভদ্রলোক, মুকুন্দবাবু তাঁর স্ত্রী, মা, ও শাশুড়িকে নিয়ে বাবা বিশ্বনাথ দর্শনে যাচ্ছেন। তাই শুনে রনি মাসিমা তাঁদের দলে ভিড়ে গেলেন। রনি মাসিমাকে সবাই ভালোবাসেন, শ্রদ্ধা করেন, তাই মুকুন্দবাবু ও তাঁর সঙ্গী তিনজন আপত্তি করা তো দূরের কথা, বরং খুশিই হলেন। খুশি হলেন রনি মাসিমাও, বিদেশ ভ্রমণের আনন্দে থোর, মোচা, াতির দুধ গরম, লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ ভুলে গোছগাছ শুরু করে দিলেন। পুরাতন বাঁধানো দাঁত জোড়া ত্যাগ করে, চীনাদের দোকান থেকে বেশ খরচ করেই এক জোড়া বাঁধানো দাঁত তৈরি করে ফেললেন, আর এতেই যত বিপত্তির সুত্রপাত শুরু হল। ঝাঁ চকচকে দামী দাঁত জোড়ার রক্ষণাবেক্ষণ, সাবধানতা অবলম্বন, জলে ধুয়ে রোদে শোকানো, আগলে রাখা, ইত্যাদির পিছনে প্রচুর সময় ব্যয় করতে গিয়ে, দুধ উৎলে উঠে শুকিয়ে গিয়ে পাত্র পুড়ে গেল, রোদে দেওয়া হিং-এর বড়ি ছাদ থেকে হনুমানে নিয়ে গেল

নির্দিষ্ট দিনে বাক্স প্যাঁটরা নিয়ে রনি মাসিমা বিশ্বনাথ দর্শনে যেতে অনেক দেরি করে ফেললেনবাবা বিশ্বনাথের জন্য নবীন স্যাকরার দোকান থেকে একটা ছোট রূপোর ত্রিশুলও কিনে এনে সঙ্গে নিয়েছেন। বাড়ি থেকে রওনা হওয়ার আগে মুখের ভিতর হাত দিয়ে পরখ করে নিলেন, নতুন দাঁত জোড়া ঠিক আছে কী না। তাড়াহুড়োয় হাত না ধুয়ে ব্যাগের চেন খুলে ত্রিশুলটা নিয়ে একবার দেখে নিলেন, সেটা ঠিক আছে কী না। ফলে গঙ্গাজল দিয়ে ত্রিশুল ধুয়ে, মুছে, ঠিক জায়গায় আবার রেখে, ব্যাগে গঙ্গাজল ছিটিয়ে রওনা দিতে বেশ দেরি হয়ে গেল।

ট্রেনে উঠে মালপত্র গুছিয়ে রেখে বসার কিছু পরেই ট্রেন ছেড়ে দিল। রনি মাসিমারা চারজন ছাড়া আরও দুটি যুবক ঐ কিউবিকল্-র সংরক্ষিত আসন দখল করে বসেছেতারা নিজেদের মধ্যে হাসি ঠাট্টার মাঝে বারবার রনি মাসিমার দিকে লক্ষ্য করায়, তাঁর ছেলে দুটোকে কিরকম সন্দেহ হল। কিছুক্ষণ সহ্য করার পর তিনি আর চুপ করে থাকতে পারলেন না। স্থান কাল পাত্র ভুলে তিনি মুকুন্দবাবুকে বেশ চিৎকার করেই বলে বসলেন, যে ছেলে দুটোকে তাঁর সন্দেহ হচ্ছে। ওদের উদ্দেশ্য ভালো বলে মনে হচ্ছে না, কিছু হাত সাফাই করার মতলব থাকলেও থাকতে পারে। আশপাশের যাত্রীরা এই কথা শুনে হাসাহাসি শুরু করলে, যুবক দুটি যাচ্ছেতাই ভাবে রনি মাসিমাকে গালমন্দ শুরু করে দিলো। মুকুন্দবাবু অপ্রস্তুত হয়ে তাদের কাছে ক্ষমা টমা চেয়ে, পরিস্থিতি কিছুটা ঠান্ডা করলেন। 

রাতে নিজের বিছানায় শুয়ে ছেলেদুটোর ভয়ে কিছুতেই তাঁর ঘুম না আসায়, তিনি বাথরুমে গিয়ে মুখে চোখে ভালো করে জল দিয়ে নিজের বিছানায় ফিরে এসে ত্রিশুলের ব্যাগটা থেকে গায়ে দেওয়ার চাদর বার করে ব্যাগটা পাশে নিয়ে শুয়ে বেশ দুশ্চিন্তা নিয়েই একসময় ঘুমিয়ে পড়লেন।
অন্ধকার থাকতে কাকভোরে চা বিক্রেতার হাঁকডাকে ঘুম ভাঙ্গতেই ব্যাগের চেন খুলে নতুন একটি শাড়ি বার করতে গিয়ে, সব ঠিক আছে দেখে তিনি নিশ্চিন্ত হলেন। বাথরুম থেকে মুখে চোখে জল দিয়ে, পরনের কাপড় বদল করে ফিরে এসে কাপড় ও চাদর ব্যাগে রেখে, তিনি এক ভাঁড় চা নিয়ে পরম শান্তি ও তৃপ্তিতে পান করলেন। এবার যশিডিতে নামতে হবে।

স্টেশনে গাড়ি এসে থামলে, হড়োহুড়ি করে সবাই নামতে শুরু করলো। ঐ দুই যুবক রনি মাসিমাকে একপ্রকার ধাক্কা দিয়েই সরিয়ে দিয়ে স্টেশনে নামলো, আর ঠিক তখনই রনি মাসিমা আবিস্কার করলেন, যে তাঁর কোমরে গোঁজা পুঁটুলিটা নেই। তাঁর চিৎকার চেঁচামিচিতে দুজন পুলিশ ছুটে আসলো। যুবক দুটি তখনও স্টেশনের গেট পার হয়ে বাইরে যায় নি। রনি মাসিমা পুলিশদের জানালেন, যে ঐ দুই যুবক তাঁর মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নিয়ে পালাচ্ছে। একজন পুলিশ ছুটে গিয়ে ঐ দুই যুবকে টানতে টানতে ধরে নিয়ে এলে, তাঁদের ঘিরে বেশ ভিড় জমে গেল। তাঁর কি খোয়া গেছে জিজ্ঞাসা করায় রনি মাসিমা পুলিশকে জানালেন, যে এই দুই ছোঁড়া তাঁর দাঁত খুলে নিয়েছে। পুলিশ দুটো অবাক হয়ে বললো, “দাঁত তো আপনার মুখের ভিতর ছিল, আর দাঁত খুলে নিলে তো লাগবে, রক্তপাত হবে। আপনাকে দেখে তো মনে হচ্ছে না যে আপনার কোন কষ্ট হচ্ছেউত্তরে রনি মাসিমা হাঁ করে ফোকলা মাড়ি দেখিয়ে বললেন, “দাঁত তো আমার মুখে ছিল না, দাঁত তো ছিল আমার কোমরে। ওদের ভয়ে কাল রাতেই আমি বাঁধানো দাঁত জোড়া খুলে রুমালে বেঁধে আমার কোমরের কাপড়ে গুঁজে রেখেছিলামএই হতভাগা পাজি বেল্লিক দুটো ট্রেন থেকে নামার সময় আমার ট্যাঁক থেকে পুঁটুলিটা নিয়ে নিয়েছে। যুবক দুটিকে খানা তল্লাশ করে কিছুই পাওয়া গেল না। সবাই হাসাহাসি শুরু করলে মুকুন্দবাবু অনেক বুঝিয়ে, যুবকদের কাছে আবার ক্ষমা চেয়ে, তাঁকে মুক্ত করে আনলেন। 

স্টেশনের বাইরেটা এখনও বেশ ঠান্ডা ও অন্ধকার। রনি মাসিমা কয়েক পা এগিয়েই আর্তনাদ করে ভুলুন্ঠিত হলেন। একটা বেশ বড় পাথরের টুকরো তাঁর কপালে এসে আঘাত করায় রক্তারক্তি কান্ড। মুকুন্দবাবু সব বুঝেও চুপ করে রইলেন। পাথরের উৎস সন্ধানে আর আগ্রহ প্রকাশ না করে, রনি মাসিমাকে নিয়ে ছুটলেন স্থানীয় এক নার্সিং হোমেবয়সের ভার, রক্ত ক্ষয়, ও সম্পদ হারানোর শোকে তিনি তখন বড়ই অসহায় ও ক্লান্ত। তাঁকে ভর্তি করে নেওয়া হ'ল। 

দেওঘরের পরিবর্তে যশিডিতেই একটা হোটেল ভাড়া করে, মুকুন্দবাবু তাঁর ভ্রমণ সঙ্গীদের নিয়ে উঠতে বাধ্য হলেন। তিনদিন সকাল সন্ধ্যা হোটেল আর নার্সিং হোম করে, রনি মাসিমাকে নিয়ে বাসায় ফেরার ট্রেনের টিকিট কাটলেন। বাবা বিশ্বনাথের আর রূপোর ত্রিশুল ব্যবহার করা হল না। বাবার নাম করে এতদুর নিয়ে আসা, তাই স্টেশনের পাশে রাস্তার ওপর বট গাছের তলায় একটা ছোট্ট শিব মুর্তির হাতে ত্রিশুলটি সমর্পণ করে রনি মাসিমা ট্রেনে চেপে বসলেন।


পরদিন বাসায় ফিরে বাথরুমে ব্যাগের কাপড়, চাদর ইত্যাদি কাচার জন্য রাখতে গিয়ে রনি মাসিমার চক্ষু ছানাবড়া হয়ে গেল। কাপড়ের ভিতর থেকে ঠক্ করে রুমালে বাঁধা দাঁত জোড়া মাটিতে পড়ে গেল। হাসি মুখে কাপড় ছেড়ে পরিস্কার হয়ে বাথরুম থেকে বেড়িয়েই জয় বাবা বিশ্বনাথ বলে দাঁত জোড়া মুখে পরে কুটনো কাটতে বসে গেলেন। অনেক কাজ পড়ে আছে। কলাই ডাল ভিজিয়ে, বেটে, হিং মিশিয়ে, বড়ি দিতে হবে। ছোট নাতির কাঁথা বানাতে হবে। পূজোয় বসার আসন বোনা শেষ করতে হবে।
ভুতের আশীর্বাদ

প্রতিদিন সন্ধ্যেবেলায় বিনুপন্ডিতের বাড়ী যেতাম টিউশান পড়তে। বিনুপন্ডিতের তোবড়ানো গাল,ভাটার মত চোখ, মাথায় টিকি, পরনে ধুতি আর ফতুয়া। হাতে থাকতো তেঁতুলের চাবুক।

বাড়ি হতে সিকি মাইল দুরে পন্ডিত মশায়ের বাড়ি। পথে পড়তো বাঁশবন, রাস্তার দুপাশে সোনাঝুরি, অর্জুন, আর শ্যাওড়া গাছ। যাওয়ার সময় ঠিকই যেতাম। কিন্তু বাড়ি ফেরার সময় বুক দুরদুর করতো। মনে মনে মায়ের শেখানো ছড়াটা আওড়াতাম।
"ভুত আমার পুত
পেত্নী আমার ঝি
বুকে আছে রাম লক্ষন
করবে আমায় কি?"

এহেন টিউশান যাত্রা হঠাৎই একদিন বন্ধ হয়ে গেলবিনুপন্ডিত ওলাওঠায় মারা গেলেন। সামনে পরীক্ষা। খুব কষ্ট পেয়েছিলাম মনে মনে। কিন্তু কষ্ট হলেও তো এসব মেনে নিতে হয়।

শ্রাদ্ধশান্তি চুকে গেলো দশদিন পরেই।
আমার বাড়ির কাজের দুটো খাতা ছিল ওনার কাছে। একদিন বিকেল বেলায় গেলাম ওনার বাড়ি। ছেলে অমিত কবিরাজ ন্যাড়ামাথায় অনেক খোঁজাখুঁজি করে খাতা দুটো বার দিলেন। ভেবেছিলাম দিন বেলাবেলি  বাড়ি ফিরবো। কিন্তু বিধিবাম। হঠাৎ শুরু হলো ঝড়বৃষ্টি। থামতেই চায় না।

সন্ধ্যে ঘনিয়ে এল। বুক দুরদুর করছে বাড়ি যাওয়ার কথা ভেবে। কিছুক্ষন পরে বৃষ্টি থামতেই বেরিয়ে পড়লাম। আলো আঁধারি রাস্তা। সেই বাঁশবন। কে যেন ফিসফিস করছে। দুটো চামচিকে ফরর করে উড়ে গেলো সামনে দিয়ে। শ্যাওড়া গাছের তলা দিয়ে যেতেই দেখি কে যেন ঝুপ করে গাছ থেকে লাফিয়ে পড়লো। একটা চাঁই পাথরে বসে খ্যানখ্যান গলায় বলে উঠলো
---- কেঁ যাঁয়? বিঁজন নাঁ। বঁস বাঁবা বঁস। ভঁয় পাঁসনে। তাঁ খাঁতাগুঁলো পেঁয়েছিস তোঁ? পঁড়ার টেঁবিলের পাঁশের কাঁঠের আঁলমারীর দুঁ নম্বর তাঁকেই তো ছিঁলো খাঁতাগুলো।

দেখলাম বিনুপন্ডিত। সেই অবিকল পুরোনো পোষাকে।আমার গা ছমছম করতে লাগলো। তবু সাহস করে পাশে বসলাম। পন্ডিতমশায় বলে চলেছেন
---- পঁলাশীর যুঁদ্ধ, স্বাঁধীনতার যুঁদ্ধ, বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের চ্যাঁপ্টার গুঁলো ঠিঁক ভাঁবে মুখস্ত কঁরেছিঁস বাঁবা? তাঁছাড়া (a+b)2, (a-b)2, a3+b3 এঁর ফঁরমুলা মুঁখস্ত কঁরেছিস? ইঁংরাজীর ক্যাঁসাবিয়াঙ্কা, সঁলিটারি রিপারটা ঠিঁক ভাঁবে পঁড়েছিস? বাঁংলার অভাগীর স্বর্গ গঁল্পটা ভাঁলোভাঁবে পঁড়েছিস। ওঁটা পঁরীক্ষায় আঁসবেই।

আমার অবস্থা তখন কাহিল। বললাম
----আমার ভয় করছে মাস্টারমশায়।
----ভঁয় কিঁরে, আঁমি তোঁ আঁছি। চঁল তোঁকে রাঁস্তা পাঁর কঁরে আঁসি। এঁখানে যাঁ ভুঁতের উঁপদ্রব। খোঁড়াভুত, মাঁমদোভুত  শুঁটকি পেত্নী, এঁরা বেঁজায় বঁদ। চঁল তোঁকে রাঁস্তার ঐ ল্যাঁম্পপোষ্ট পঁর্যন্ত এঁগিয়ে দিঁয়ে আঁসি। আঁর ভাঁলো ভাঁবে মাঁথা ঠাঁন্ডা কঁরে পঁরীক্ষা দিঁস বাবা। আঁশীর্বাদ কঁরি বঁড় হঁও। মাঁনুষ হঁও।

রাস্তার ল্যাম্পপোষ্টের আলোর কাছ আসতেই চোঁ চাঁ দৌড়। আর কিছু মনে নেই।



এপার ওপারের গল্প

কাঠি লজেনটা চুষতে চুষতে ফাৎনা হাঁটছিল ফুটবল মাঠটার দিকে। ফাৎনার প্যান্টের পকেটটা ছেঁড়া। গালে জলের দাগ গুলো কালো হয়ে বসেছে, জামার ধুলোগুলো ঝেড়ে ফাৎনা চোখটা মুছেনিল  আবার। এত বড়ো হয়ে গেছে তাও ফাৎনার কান্না পায়,...কেউ কান মুললে কান্না পায়, চোখ গোলা গোলা করে তাকালে কান্না পায়,বকলে কান্না পায়।
এদিক ওদিক তাকিয়ে খুব খানিক্টা কেঁদে নিয়ে হাতের চেটোয় চোখ মুছল ফাৎনা, লজেন্সটা শেষ হয়ে গেছে কাঠির গোড়ায় একটা মিঠেভাব সেটা চিবিয়ে দূরে ওই লাল ঢিবিটার ওপারে ছুঁড়ে ফেলল ফাৎনা।প্যান্টের পকেটটা অনেকটাই ছিঁড়ে গেছে মার্বেল গুলিগুলো পরতে পরতে মাত্র তিনটে পকেটে, আবার কান্না পেল ফাৎনার সকাল থেকে এই সাতবার ওর কান্না পেল।আজ ফুটবল খেলতে গিয়ে পরে গিয়ে খুব লেগেছে হাঁটুতে, একবার হাতবুলিয়ে মাঝমাঠে বসল ফাৎনা। হাতে কাঁচের নীল সবুজ মার্বেল গুলি। দুবার নাচাতেই কড় কড় কড়াৎ আকাশ চিরে বাজ! শাঁ শাঁ হাওয়া ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে সব। দৌড়ে বটতলার কাছাকাছি যেতেই হুড়মুড়িয়ে মোটা গুঁড়ি ওয়ালা পুরো গাছটাই ফাৎনার ওপরে।

ব্লাড টেস্টের রিপোর্ট গুলো ভ্রু কুঁচকে দেখছিল ডাক্তার আংকেল,বার্বির এক হাতে স্যালাইনের নল আরেক হাতে ব্লাডের জন্য চ্যানেল করা,বার্বি চোখ পিটপিট করে দেখছিল ডাক্তার কাকুর বিরাট টাক আর ভুঁড়িটা। বার্বি দেখেছে বেশিরভাগ টাক ওয়ালা মানুষের ভুঁড়ি থাকে, আর যাদের টাক আর ভুঁড়ি দুটোই থাকে তারা খুব মজার মানুষ হয়। এই ডাক্তার আংকেলও খুব মজার মানুষ, খুব মজার মজার কথা বলে তবে এখন মুখ খুব গম্ভীর।এখন বার্বিকে একদম চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকতে বলেছে নার্স আন্টি।
বার্বি তাই পিটপিট করে দেখে নিচ্ছে কে কি করছে, একটা লম্বা চার্টে সব লিখে রাখে নার্স আন্টি বার্বির জ্বর কতটা বাড়ল কমল, 'বার পটি টয়লেট সব। বার্বির খুব ইচ্ছে করছে কাল মাসিমনির নিয়ে আসা বড়ো ডার্ক চকলেট টা খেতে কিন্তু খাওয়া নিষেধ,  অনেক চকলেট জমা হয়েছে বার্বির। ভালো হয়ে বাড়ি ফিরে সব গুলো খাবে। কিন্তু বার্বির মাথাটা এমন করছে কেন? শরীর খুব হালকা লাগছে, একি?? নাক দিয়ে কেমন চটচটে আঠালো গরম কি বেরিয়ে আসছে!! নার্স আন্টি মুছিয়ে দিল, রক্ত!!

ডক্টর আংকেল দৌড়ে এল,  সবাই কি সব বলছে, একবার মায়ের মুখটা এক ঝলক দেখতে পেল বার্বি, আর কিছু দেখতে পাচ্ছেনা, মনিটর মেশিনের একঘেয়ে বিপ বিপ শব্দ কানে আসছিল আস্তে আস্তে থেমে গেল।

ফাৎনা যখন লালরঙা বাড়িটার নীচে এসে দাঁড়ালো আবার খুব কান্না পেল তার হঠাৎ একটা পুতুল পুতুল মেয়ে একটা ইয়াব্বড়ো চকলেট ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল এমা!! এত বড়ো ছেলে কাঁদে নাকি? ফাৎনা লজ্জায় কান্নাটাকে কোনমতে সামলে নিল।
মেয়েটা আর ফাৎনা ঢুকে গেল ওই বাড়িটার ভেতরে। এত্তবড়ো চকলেট ফাৎনা আগে কখনো খায়নি। সে চকলেট খাচ্ছিল আর চারদিকটা তাকিয়ে দেখছিল, ওই মেয়েটার নাম বার্বি, কি বকবক করতে পারে রে বাবা!! লাল বাড়িটা একটা স্কুলের মত কত ছেলে মেয়ে, সবাই ওদের বয়েসী কেউ খেলছে কেউ ছবি আঁকছে কেউ গান গাইছে কেউ গল্প করছে।সবার মুখে একটা আশ্চর্য শান্তির ছাপ।ফাৎনা অবাক হয়ে দেখল কেউ মারামারি করছেনা, ঝগড়া করছেনা। সবাই শুধু হাসছে।সাদা পোশাক পরে এক দাদা এগিয়ে এলো বার্বি আর ফাৎনাকে নিজের ঘর চিনিয়ে দিতে, দাদার নাম সোহম। এক কার এক্সিডেন্টে এখানে.....এখানে কোন তাড়ানেই, হিংসেনেই, গরীব বড়োলোক নেই, ক্ষিদে নেই, কান্না নেই, হিংসে নেই, পড়ে গেলে ব্যথা লাগেনা, হাত পা কাটেনা,হোমওয়ার্কের ক্লান্তি নেই, পরীক্ষার নাম্বার নেই, শুধু হাসি গান আর ভালোথাকা। একটা লম্বা বারান্দা দিয়ে দাদা বার্বি আর ফাৎনা হাঁটতে হাঁটতে এগুচ্ছিল। প্রথম প্রথম মা বাবার জন্য মন কেমন করবে তিন দিন বাদে সব ভুলে যাবে। ফাৎনা অবাক হয়ে দেখল তার আর কান্না পাচ্ছেনা!! বার্বির মাথা ব্যথাটাও এক্কেবারে গায়েব।

বার্বি আর ফাৎনার চোখে কেমন একটা আলো এসে পরল, চমকে তাকিয়েদেখল কত রঙ বেরঙের রাশি রাশি বেলুন উড়েযাচ্ছে আকাশ জুড়ে। আকাশ কত কাছে এখানে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায়।

ধীরে ধীরে ওরা একটা ঘরে এসে পৌঁছলো,খোলা জানালা দিয়ে হু হু বাতাস আর দূরে কোন মন্দিরে সন্ধ্যারতির কাঁসরঘণ্টা বেজে উঠছে, বেলুন ওড়া আকাশটা রঙ বদলে একদম মায়ের শাড়ির আঁচলের মত নরম। সারাঘরে তুলোর মেঘের মত বালিশ, পাখির পালকের মত চাদর ছড়িয়ে আছে। কি এক নাম নাজানা ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা। ঘরটা কি মায়া মায়া ঠিক মায়ের হাসির মত।
ওদের পৌঁছে দিয়ে সোহম ঘুরে দাঁড়ালো কেউ ডাকছে আবার ওকে যেতে হবে লাল বাড়ির একতলায়, কেউ এসেছে তাকে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।


কেটে যায় দিন তবু কাটেনা সময়


 আয়শা বেগম  আদিয়াতের রেজাল্ট কার্ড টা হাতে নিয়ে পাথরের মত বসে আছে, নাম্বারগুলো দেখে খুব  রাগ,দুঃখ উথলে উঠছে রাগ হচ্ছে নিজের ওপরই কেন যে আর একটু খেয়াল করলন  না নাতিটার পড়া লেখার দিকে ! অবশ্য তিনি খেয়াল করার সময়ই বা কখন পান?  সারাদিন ব্যস্ত থাকেন ঘর সামলাতে,আর আদিয়াতকে স্কুল থেকে আনা নেওয়াও বেশীরভাগ সময় তাকেই করতে হয় তার ওপর আর্শির দেখাশোনাও আছে তাঁর ভয় হচ্ছে আজ  আদির নানুভাই, মামা- মামী  অফিস থেকে এসে  এই নাম্বার দেখেই  সুমি মানে আদির মায়ের সাথে হৈ চৈ করবে ;এইসব অশান্তি আয়শা বেগম একদমই পছন্দ করেন না অথচ  মেয়েটাকে তিনি কিছুতেই বোঝাতে পারছেন না যে যা শেষ তা নিয়ে ভেবে লাভ নেই এখন ছেলেটাকে ভালো করে মানুষ করতে হবে, এখন মায়ের আদরের পাশাপাশি বাবার স্নেহ শাসন সব সুমিকেই পুরন করতে হবে   আবার ভাবেন সুমিকেই কি সব কিছুর জন্য দোষ দেয়া যায়? কতই বা বয়স ওর! এই বয়সে কি ভীষণ একা হয়ে গেল  মেয়েটা , জীবনের পথে পা বাড়াতে না বাড়াতেই হোঁচট খেল  

 বেলা অনেক  হয়েছে রোদের তেজ আজ বড্ড বেশি, শুয়ে থেকে থেকে  ঝিমুনি এসে গিয়েছিল চোখ খুলেই সুমি খেয়াল করলো মার  সেই কখন আদিকে দিয়ে স্কুল থেকে ফেরার কথা ,তবে কি ফেরেনি এখনো ?  আর্শিকে নিয়ে যাননি   ,সুমি বিছানা ছেড়ে নামলো অমনি তিন বছরের আর্শি বলে উঠলো ফুপি আমি বাথরুম করব মহা বিরক্ত হয়ে সুমি আর্শিকে বাথরুম করিয়ে এনে  মার ঘরে গেল ; দেখল মা জানালার দিকে মুখ করে বসে বসে চোখ মুছছেন সুমি জিজ্ঞেশ করলো মা কি হয়েছে ? আদি কই ?

আয়াশা বেগম উঠে দাঁড়ালেন আর রেজাল্ট কার্ডটা সুমির হাতে দিয়ে চলে গেলেন আদি আর আর্শিকে স্নান করিয়ে খেতে দিতে হবে আরও অনেক কাজ তার এখনো বাকী  
সুমি পাশে এসে দাঁড়ালো বলল ...মা আমি জানি আজ আমাদের মা - ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে খুব অশান্তি হবে ; তার আগেই আমি নিজের হাতে ওকে শাস্তি দেব তুমি কিন্তু ওকে আজ খেতেও দেবে না , আর মাস্টার কেও জিজ্ঞেশ করবো কি পড়ায় যে এত খারাপ নম্বর পায় ... মা শুধু বললেন কাল স্কুলে তোকে ডেকেছে

সুমি আদিকে ডাকল  অনেক্ষ ধরে, কিন্তু আদি শুনেও কাছে এলনা ভয়ে,   এখন এলে মা খুব মারবে জানে মা একটু  পর আবার ঘুমিয়ে পড়বে তখন নানুর কাছে গিয়ে খেয়ে নেবে 
জানে  আজ এই নম্বর পাওয়ার জন্য মামা -মামীর কাছে বকুনি খেতে হবে মামী মাকে বাবার প্রসঙ্গ তুলে বেশ কথা শোনাবে  আর নানুভাই শুধু বলবেন কাল থেকে বই নিয়ে আমার কাছে বসবে  ছয় বছরের আদিয়াত অনেক কিছু বোঝে যা তার সমবয়সী অন্য বাচ্চারা বোঝেনা জানে ওর বাবা নেই , ওর আর একটা মা আছে অথচ ওর বন্ধুদের একটা মা আর ওরা বাবা মার সাথেই থাকে

 যদিও আদি খুব ভয়ে ভয়ে ছিল কিন্তু  তেমন কিছুই হল না বিকেলে  সবাই বাসায় ফিরল , রেজাল্ট দেখল কিন্তু কেউ তেমন কিছু বলল না , শুধু মামী বললেন মা  এভাবে ঘুমের ওষুধ খেয়ে পড়ে থাকলে ছেলেত  পরীক্ষায় এরকমই করবে , এখনো সময় আছে সুমির ঠিক হওয়া উচিত ছেলের দিকে নজর দেয়া উচিত আদি নির্ভয়ে আর্শির সাথে খেলায় মেতে উঠলো

 সন্ধা হতেই  টিচার এলো কিন্তু আদির পড়ার  ঘরে না ঢুকে   মামা আর নানুর সাথে  কথা বলতে চাইলেন আদির ভয় হল না জানি স্যার কি নালিশ করে আজ নানুভাইএর কাছে !দুপুরে মা স্যার কে ফোন করে খুব বকেছে স্যার কি যে এত কথা বলছে একা দরজা বন্ধ করে, আদিরখুব কৌতূহল হল কিন্তু লাভ নেই এখন কিছুই জানা যাবে না   এক সমর দরজা খুলে গেল আর   আদিয়াতকে  পড়াতে এলো টিচার  

ওদিকে মাজেদ সাহেব, আয়শাবেগম ,শাহেদ আর সোমা গেলেন সুমির ঘরে  তারা সুমিকে  বোঝালেন জীবনটা এভাবে নষ্ট করার কোন মানে নেই ; বিয়ে করে সব কিছু নতুন করে শুরু করুক , কায়েস সব জেনে শুনে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে এতে দুজনেরই ভালো হবে তাছাড়া কায়েস আদিকে পড়ায় ওকে ভালো বাসে খুব
 কিন্তু সুমি কিছুতেই রাজী হল না বলল প্রয়জনে চাকুরী করে একা থেকে আদিকে মানুষ করে তুলবে তবুও বিয়ে করবে নাঅনেকক্ষণ ধরে বুঝিয়েও যখন কাজ হোল না তখন রাগ হয়ে যে যার ঘরে চলে গেলেন আর বাবা সাফ জনিয়ে দিলেন এভাবে দিনের পর দিন যদি ঘুমের ওষুধ খেয়ে পরে থাকে বাবা ওকে মানসিক কোন হাসপাতালে রেখে আসবেন ,এভাবে জীবন চলতে পারেনা  

সুমি কোন উত্তর দিল না ,ওষুধ নিজে খায়না ! আদির বাবা চলে যাওয়ার পর সুমি খুব ডিপ্রেশনে ভুগছিল তখন ডাক্তার ওকে ওষুধ দিয়েছেন ,যন্ত্রণা ভুলে থাকার জন্যই সে এগুলো খায় সে জানে  সবাই ওকে অন্য রকম চোখে দেখে যেন সংসার ভাঙ্গার জন্য সুমিই দায়ী আত্মীয় স্বজন মাঝে মধ্যেই বলেন '' জিবনে স্বামী সংসার নিয়ে সুখে থাকা হোল তোমার  সুমি  বন্ধুরা বলেই বসে স্বামীর ভালোবাসা পেতে হলে তেমন মেয়ে হওয়া চাই কেউ কেউ এও বলে আরে তুই আরেক বিয়ে করলেও সংসার টিকাতে পারবিনা রে সে গুন তোর নেই এত গুডি গুডি গার্ল হয়ে কোন লাভ নেই তার চেয়ে স্মার্ট , সেই স্মার্ট হওয়া যে কি রকম তা সুমি বুঝতেই পারেনা সমাজে টিকে থাকা দায়  এসব কষ্ট আর আদির বাবার করা অপমান ভুলতেই ঘুমের ওষুধ খেয়ে পরে থাকে ...একমাত্র মাইই ওকে কিছু বোঝে বাড়িতে

সুমি আজ আবার নতুন করে নিজেকে নিয়ে ভাবতে লাগলো  কেন কায়েস তাকে বিয়ে করতে চাইছে ? চাইলে সে কত ভালো মেয়ে পেতে পারে , কায়েস অবিবাহিত শিক্ষিত ছেলে হিসেবে ভালই ,শুধু যে ব্যাবসাটা করে তাতে রোজগার খুব বেশি নয় তবুও তার জন্য পাত্রীর অভাব হবার কথা নয় ? সে কেন ওকে বিয়ে করতে চাইছে ? তবে কি   ওর  বাবার টাকার জন্যই কায়েস এই প্রস্তাব দিয়েছে ? পুরুষমানুষকে ওর আর বিশ্বাস হয়না আদির বাবাও ওকে ভালোবেসেই বিয়ে করেছিল ,কিন্তু দুবছর যেতে না যেতেই  আদির জন্মের পরই ওর অফিস কলিগ কে বিয়ে করে আলাদা হয়ে যায় শুধু ওই মহিলার বাড়ি -গাড়ি আর টাকার লোভে ...না হলে কি ছিলনা সুমির ? সুমিও দারুন সুন্দরী ছিল লেখা- পড়া গান -নাচ সবই জানে শুধু চাকরী করেনি প্রয়োজন পড়েনি বলেভাবতে ভাবতে ঘুমিয়েই পড়লো একসময়  

ঘুম ভাংতেই সকালটা কেমন বিবর্ন মনে হল ,মনে পড়লো সুমিকে  আদির স্কুলে  যেতে হবে  স্নান সেরে  সুমি  স্কুলে গেল , ওখানে মিস এর কাছে যা  শুনল তাতে এটাই বুঝল যে ওর গাফিলতির জন্যই আদির আজ এই অবস্থা ! প্রায় দিনই আদি স্কুলে আসেনা , সুমি জানে মা অনেক সময় নিয়ে আসার সময় পায়না  তাতে পড়াশুনায় সে পিছিয়ে পড়ছে ওর বন্ধুরা দূরে সরে যাচ্ছে ,আজকাল সে  কারো সাথে খেলতে চায় না কথা বলতে চায় না
 মিস বললেন এভাবে চলতে থাকলে আদি  মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে তাই সুমিকে আদির বন্ধু হতে হবে পাশে থাকতে হবে ওর সমস্যাগুলো বুঝতে হবে মিস আশ্বাস দিলেন আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করবো ওকে স্কুলের সময়টুকু আনন্দে রাখার  

 স্কুল থেকে বেরিয়ে বাসায়  আসতে আসতে সুমি  দৃঢ়  সিদ্ধান্ত নিল যেকোনো মূল্যে আদিকে ভালো রাখতে হবে , মানুষের মত মানুষ করে তুলতে হবে আর সেই জন্য  এখন ওকে  নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে  আর নয় ...বাবা ভাইয়ের বোঝা হয়ে আর থাকবে না সুমি

 বাড়ি ফিরে সুমি সব সার্টিফিকেটগুলো বের করে জেরক্স কপি করল  তারপর একের পর এক দরখাস্ত করতে থাকে আর অপেক্ষায় থাকে কবে একটা ভালো খবর আসবে  এদিকে দিনে দিনে  বাড়িতে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে ওঠল  বিয়ের প্রস্তাব মেনে নেয়নি বলে ঘরে থাকলেই সোমা কথা শোনায়  এমন কি বাবাও আজকাল দুই একটা কথা শোনাতে ছাড়েন না সুমির অসময় যেন কিছুতেই ফুরোয় না সুমি দিন গোনে কবে চাকরী হবে ...কবে আদিকে নিয়ে আলাদা থাকবে আর মা ছেলের একটা ছোট্ট সুন্দর সংসার  হবে



About