এই সংখ্যায় ১০টি গল্পের লেখকসূচি - তাপসকিরণ রায়, সুবীর কমার রায়, ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, অসিতবরণ চট্টোপাধ্যায়, আফরোজা অদিতি, নীহার চক্রবর্তী, শেখর কর, মমতা দাস (ভট্টাচার্য) ও মনোজিৎ কুমার দাস ।

      সূচিপত্রে লেখকে নামে ক্লিক করুন 
শারদোৎসব শেষ হল । আলোর উৎসব দীপাবলী আসন্ন, আসন্ন ‘গল্পগুচ্ছ’র জন্মদিনও । এই সংখ্যাটিই গল্পগুচ্ছর ষষ্ঠ বর্ষের শেষ সংখ্যা । আগামী ১৯শে অক্টোবর গল্পগুচ্ছ শুরু করবে তার সপ্তম বর্ষের পথচলা । একটি ওয়েব পত্রিকার জীবনবৃত্তে ছটা বছর বড় কম নয় । ‘গল্পগুচ্ছ’র এই ছয় বছরের পরিক্রমা সম্ভব হয়েছে তার লেখক-লেখিকা ও পাঠক-পাঠিকা শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় । গল্পগুচ্ছ কখনোই কোন গোষ্ঠীর পত্রিকা হয়ে ওঠেনি, আর এটাই তার শক্তি ।


‘গল্পগুচ্ছ’র সমস্ত লেখক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীকে আসন্ন দীপাবলীর শুভেচ্ছা জানাই । আমাদের জীবন আলোকময় হোক, ভালো থাকুন ।
 ধারাবাহিক

জবলপুর, হান্টেড কাহিনী--১২

অভিশপ্ত বসন্ত


একটা ছেলে নিচে দাঁড়িয়ে, সে যেন কারও সঙ্গে কথা বলছিল আর মুচকি মুচকি হাসছিল। ব্যাপারটা তখন আমাদের কাছে স্পষ্ট ছিল না। এটুকু জানা ছিল, যে কোয়াটারের জানলার সামনে দাঁড়িয়ে ছেলেটা কথা বলে তাতে কেউ থাকে না। তবে, তবে ছেলেটা কার সঙ্গে কথা বলে ? ঘটনাটা পরিষ্কার হল কয়েক দিন পরে। সন্তোষ লেখা নগর কলোনির বাইরে থাকে ও এখানে কাজ করতে আসে। ও গ্যাস সিলিন্ডার এনে দেয়, লোকের ফাই ফরমাশ খাটে, দোকান-পাট হাত বাজার করে দেয়। ও ওর ফুরসত সময়ে আমাদের এখানে ঘুরতে এসেছিল। উদ্দেশ্য কিছু কাজ-কর্ম করার আছে কি না তা জানতে। আমি বললাম, না সন্তোষ, আজ তো কিছু কাজ নেই !
সন্তোষ বলল, তা হলে যাই, ঘরে যাই, নিজের ঘরের কাজ করি গিয়ে--
সন্তোষ এ কলোনির খবরাখবর রাখে। আমার একটা কথা ওকে জিজ্ঞেস করার ছিল, ওকে জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা সন্তোষ, এই সামনের ব্লকের গ্রাউন্ড ফ্লোরে তো কেউ থাকে না ?
সন্তোষ জানলার কাছে গিয়ে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বলল, কোন ঘরের কথা বলছেন ? ওই যে সামনের খোলা জানালা দেখা যাচ্ছে সেটার কথা ?
আমি ওর পাশে এসে দেখে বললাম, হ্যাঁ।
সন্তোষ বলল, আপনারা এ কুয়াটারে আসার কদিন আগেই ওরা চলে গেছে। সে বিরাট ঘটনা সার, এই ঘরের মেয়েটা তো ফাঁসি দিয়ে মরেছে। ওই যে সামনে নতুন কলোনি তার কুয়াটারে একটা ছেলে আছেতার সঙ্গে মেয়েটার ভাব-ভালবাসা ছিল। মেয়েরা মুসলমান আর ছেলেরা হিন্দু। এ নিয়ে ভীষণ গণ্ডগোলছেলেটাকে তার বাড়ি থেকে ইন্দোরে পাঠিয়ে দিলো। মেয়েটাকে তার কলেজ ছাড়িয়ে দিয়ে ঘরে আটকে রাখত। তাই মেয়েটা ছেলেটার বিরহে আত্মহত্যা করলো।
আমি বললাম, সব তো বুঝলাম কিন্তু রোজ দেখি নিচে একটা ছেলে এসে অনেক ক্ষণ ধরে ওই জানলার সামনে দাঁড়িয়ে কারও সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছে ?
সন্তোষ বলল, ওই তো মেয়েটার প্রেমিকা, ওর মাথার নাকি কিছু গণ্ডগোল হয়ে গেছে। ও নাকি রোজ সন্ধ্যায় এখানে আসে। ছেলেটা কারও সঙ্গে নাকি কথা বলছে না, ও নাকি শুধু তার প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলে, গল্প করে,  হাসে। অনেকে নাকি শুনেছে ওর কথা, কেমন আছো ? কাঁদছ কেন ? বা বা, খুব ভালো--এস না একবার জানলার কাছে--এমনি সব কথা বলে চলে ছেলেটা।
সন্তোষ একটু থেমে আবার বলল, আমি ওই খোলা জানলা দিয়ে উঁকি মেরে     দেখেছি। দেখেছি মেয়েটার একটা লাল ওড়না ঝুলে আছে। লোকে বলে ওই ওড়না গলায় দিয়েই নাকি নগমা ফাঁসি দিয়েছে !
আমি বলি, ভেতর থেকে মেয়েটার কথা কেউ শুনতে পায় না ?
--না, তা কেউ পেয়েছে বলে তো শুনিনি ! সন্তোষের কাছ থেকে গল্পটা মোটামুটি জানা হয়ে গিয়ে ছিল আমার। গল্পটা গুছিয়ে বললে এমনি দাঁড়ায়---

প্রীতম ও নগমা প্রেমিক-প্রেমিকা। ওরা জবলপুরের ডিফেন্স কলোনি, লেখা নগরের বাসিন্দা ছিল। অনেকেই জানে, ওদের প্রেম কথা।  কলোনিতে এসে ওরা উভয়েই এক প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি হয়ে ছিল। সাধারণত ছোট বয়সের ছেলে মেয়েরা বড় উদার-উদাস থাকে। ওদের মনে সংকীর্ণ ভাব থাকে না। স্থানকালপাত্র জাতপাত উচ্চনীচ ধনী-দরিদ্র সব তাদের চোখে সমান  হয়ে থাকে। নিষ্পাপ ভালবাসার ভাবনায় ওরা সদাই আপ্লুত থাকেআর বড়রাও ছোটদের ভাবনার মাঝে এত জটিলতার মারপ্যাঁচ খুঁজে দেখতে যায় না।
সময়ের ধারায় প্রীতম ও নগমা এক সাথে বড় হতে লাগলো।  ঘরের গার্জিয়ানরা কেউ তাদের জীবনযাত্রার মেলামেশায় বিশেষ একটা বাধার সৃষ্টি করেনি। উভয়ের বাবা-মার মধ্যে সাধারণ মেলা মেশার কোন বাধা ছিল না। এমনি ভাবেই ওপরে ওপরে চলছিল উভয় পরিবারের মেলামেশা। কোন পক্ষই গভীর ভাবে ব্যাপাটাকে গ্রহণ করতে যায় নি। আর তা ছাড়া কোন জটিল পরিস্থিতির সামনাসামনি ওদের কারও আসতে হয়নি। এমনি ভাবে দীর্ঘ  সময় পার হয়ে গেলো।  এক সংগের পড়া শেষ করে  উভয়ের আলাদা আলাদা কলেজ হল।  এত দিনে প্রীতম ও নগমা বুঝতে পারলো যে ওরা উভয়ে উভয়কে ভালবাসে। ওরা কেউ  কাউকে ছেড়ে থাকতে পারছে না। এক জনের অনুপস্থিতি অপর জনকে বেশ পীড়া দিচ্ছে। ওরা ঘন ঘন একে অন্যের বাড়ি হাজির হচ্ছে। ঠিক এমনি সময় বোধহয় উভয়ের বাড়ির বাবা-মাদের টনক নড়ে উঠলো। ছেলে মেয়েদের মধ্যে প্রেম ভাবনার আঁচ করতে পেরে, তার পরিণতির কথা ভেবে ওরা যেন শিউরে উঠলো। নিজেদের জাতি ধর্মের পার্থক্যের ব্যাপারটা ওদের কাছে প্রধান হয়ে দাঁড়ালো। মেয়ের বাবা মা, ছেলের বাবা মা, উভয় পক্ষ ছেলে ও মেয়ের উভয়ের মেলামেশায় বাধা দিল। এ দিকে প্রীতম ও নগমা বুঝতে পেরেছে যে ওরা উভয়ে উভয়ের দিকে অনেকটা এগিয়ে গেছে। ওরা পরস্পর পরস্পরকে সত্যি ভালবেসে ফেলেছে।  কিন্তু তা হলে কি হবে, ঘরের প্রচণ্ড চাপে ওরা তখন দিশাহারা হয়ে পড়েছে।
কেউ কাউকে ছেড়ে থাকতে পারছিল না, তবু থাকতে হচ্ছিল। ওদের কলেজের পড়াশুনা হচ্ছিল না। প্রীতম নিজের কলেজ ছেড়ে নগমার কলেজের আশপাশে ঘুরে বেড়ায়। একটু সময় পেলেই ওরা লুকিয়ে চুরিয়ে দেখা করে। নগমার ঘর থেকে তার বাবা ও বড় দাদা বড় করা হয়, ওরা একদিন নগমার কলেজ যাওয়া বন্ধ করে দেয়। নগমাকে তার বাবা শাসিয়ে দেয়, প্রীতম হিন্দু,  আমরা মুসলমান, আলাদা জাত ধর্মের। হিন্দুর সঙ্গে মুসলমানের মেয়ের বিয়ে হতে পারে না। তোর পড়া লেখার দরকার নেই। ঘর থেকে বের হলে তোর ঠ্যাং ভেঙে দেব ইত্যাদি ইত্যাদি। নগমার দাদা আরও রগচটা, বলে, নগমা বেশী বাড়াবাড়ি করলে প্রীতমের জান থাকবে না কিন্তু বলে দিচ্ছি !
এদিকে প্রীতমের মা বাবা ছেলেকে আটকাতে চেষ্টা করে। কিন্তু পারে না, সে সময়, সুযোগ পেলেই চলে যায় নগমার খোঁজে। এর মধ্যে নগমার বাবা ও দাদা তাদের বাড়ি এসে ধমকে গেছে, তোমরা জানো, মুসলমান হিন্দুর মধ্যে কখনও বিয়ে হয় না। তোমাদের ছেলে যেন আমাদের বাড়ির ধারেকাছে না আসে।  তাকে সাবধান করে দিও। জান তো, আমার বড় ছেলে বড় গুণ্ডা, ও কারও কথা মানে না। নগমার দাদা কোন কথা বলে না। সে কঠোর চেহারা বানিয়ে টানটান দেহ নিয়ে  প্রীতমদের ঘর থেকে বেরিয়ে আসে
বাবা মার অনেক অনুনয় বিনয়ে প্রীতম বাধ্য হয়ে জবলপুর ছেড়ে ইন্দোরে চলে গেল। ঠিক হল প্রীতম ওখানের কলেজেই পড়াশুনা করবে।
তারপর এক দিনের ঘটনা, মায়ের একটু আস্কারা থাকবে হয়ত, নগমা সে দিন লুকিয়ে প্রীতমদের ঘরের গিয়ে ছিল। ওর বাবা আর দাদা জানতে পেরে ভীষণ রেগে গিয়ে নগমাকে ঘরে বন্ধ করে রাখে। দিন ভর তাকে নাকি খেতে দেওয়াও হয়নি। আর সেদিন রাতেই ঘটে গেল ঘটনাটা। নগমা রাতেই ফাঁস নিলোসকালে জানা গেল, নগমা আর বেঁচে নেই।
পরদিন আর দেরী না করে চুপচাপ নগমার দেহর অন্তিম সংস্কার হয়ে গেল।  লোক জানাজানির ভয়ে, পুলিশের হুজ্জতের ভয়ে, নগমার দাদা ও বাবা মিলে এ ব্যাপারটা তড়িঘড়ি করে সেরে ফেলেছিল। আর দুদিন চুপচাপ কলোনিতে থেকে একদিন হঠাৎই নগমার পরিবার কলোনি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে গেল।
একটা ভালবাসার সমাধি এমনি ভাবেই ঘটে গিয়েছিল। জাতি বিদ্বেষের বিষম চেহারায় ভালবাসার বলি হয়ে গিয়েছিল।
প্রীতম তার প্রেমিকার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে আর চুপ বসে থাকতে পারেনি। সে কাউকে না বলে ইন্দোর ছেড়ে ঘরে চলে আসে। ঘরে এসে সব ঘটনাই সে শুনতে পায়। প্রীতমের বাবা মাও মনে মনে খুব দুঃখ পেয়েছিলেন। তাঁদের দুঃখ ছেলের দুঃখের ভেতর দিয়ে আরও মর্মস্পর্শী হয়ে উঠেছিল। ছেলেকে তাঁরা কিছুই বলেননি, বরং সান্ত্বনা দিয়েছিলেন, ভবিতব্যের ওপর মানুষের হাত নেই, বাবা, তোমার মনকে শক্ত করতে হবে, বাবা !
প্রীতম একটাও কথা বলেনি, রাতভর চুপ থেকে শেষ রাতেই সে গিয়ে হাজির হয়েছিল নগমার ঘরে। নগমার বাবা দাদা জানতে পারে ওকে পিটিয়ে ঘরের বাইরে বের করে দিয়েছিলো ওকে শাসিয়ে দিয়ে ছিল, এ দিকে দেখতে পেলে ওকে ওরা জানে মেরে ফেলবে--
প্রীতম একটি কথাও বলেনি, ও শুধু কেঁদেছে, কখনও ও হাউমাউ করে, কখনও চীৎকার করে কেঁদে উঠেছে। বন্ধুদের কোন কথার সে জবাব দেয় নি--ও ইন্দোর থেকে আসার পরে কেউ তার মুখ থেকে একটা কথাও শুনতে পায়নি। কলোনির অনেকেই তার এমনি নীরব ব্যথায় ব্যথিত হয়ে পড়েছিল। উদভ্রান্ত প্রীতম এখন সারাদিন কোথায় যে ঘুরে বেড়ায়, কি করে, কেউ তা জানে না কেবল সন্ধ্যে হবার আগে ও ঠিক এসে হাজির হয় আমার পাশের নিচের কোয়াটারে। সে নগমাদের খালি ঘরের খোলা জানলা দিয়ে বারবার তাকায়, নগমার সঙ্গে কথা বলে, আপন মনে হাসে।
দিন সাত এমনি চললসবাই তাকে বোঝাতে চাইলো, নগমা মারা গেছে, ওকে তার কথা ভুলে যেতে বলল, আবার পড়ালেখায় মন লাগাতে বললমা বাবার একমাত্র ছেলে প্রীতম। ওর সুখের জন্যে একটা সময় ওরা নাজমাকে বৌ হিসাবে ঘরে নিতে রাজিও হয়েছিল কিন্তু কি হবে তাতে ? নগমার মা একটু নরম থাকলেও তার বাবা-দাদা ছিল ওদের বিয়ের ব্যাপারে চরম বিরোধী।
এমনি চলছিল। নগমা আজ দিন দশ হল মারা গেছে। সাত দিন হল, নগমাদের পরিবার কলোনি ছেড়ে চলে গেছে। আর এত দিন ধরে প্রীতম হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে--রোজ সন্ধ্যার আগে দিয়ে হাজির হচ্ছে নগমার সঙ্গে মিলতে। প্রীতম হয় তো বুঝতে পারছিলো, ধীরে ধীরে নগমার মৃত্যুর ব্যাপারটা তার কাছে পরিষ্কার হয়ে আসছিল। কিন্তু সবচে বড় কথা ছিল, সে এখানে আসার পর থেকে এত দিনে একটা কথাও সে কারও সঙ্গে বলে নি--কেবল নগমার অশরীরী আত্মার সঙ্গে হয়ত তার কথা বিনিময় হয়েছে !
নগমা আজ বার দিন হল মারা গেছে। সে দিন মেঘলা আকাশ ছিল। প্রীতম হঠাৎ হাতে বই নিয়ে ছাদে গিয়ে হাজির হল। খোলা ছাদ হলেও নিচ থেকে তাকে ভাল ভাবে দেখা যাচ্ছিলো না কখনও মনে হচ্ছিলো, ও কিছু পড়ছে, আবার কখনও মনে হল ও বুঝি ব্যায়াম করছে। ব্যায়াম ভঙ্গিমায় সে বার বার ঝুঁকে দাঁড়াচ্ছিল কেন ? ঠিক  সন্ধ্যের আগের মুহূর্ত হবে, চারদিক স্তব্ধ হয়ে ছিল। কলোনিতে যেন নির্জনতা ঘিরে ছিল, আর ঠিক সেই সময় হঠাৎই আশপাশের লোকদের কানে কানফাটা  ভয়ংকর এক চীৎকার এসে আঘাত করল। সে সঙ্গে ভয়ঙ্কর এক পতনের শব্দ হল। সবাই ঘর থেকে  ছুটে বেরিয়ে এলো, ওরা দেখল, একটা লাশ মাটির সঙ্গে লিপ্টে উপুড় হয়ে পড়ে আছে চারদিক তার  রক্তে ভেসে যাচ্ছে।
প্রীতমের নিষ্প্রাণ দেহটা মুখ থুবড়ে মাটির সঙ্গে লেগে আছে। চারদিকে তার রক্ত আর রক্ত। এদিকে সন্ধ্যের এক করুণ বিষণ্ণ স্তব্ধতা নেমে এসেছে, আকাশে ধোঁয়াটে মেঘ কুণ্ডলী পাকিয়ে আরও, আরও ওপরের দিয়ে উঠে যাচ্ছে। তারই ফাঁকে ফাঁকে কেউ বা করা যেন সারা আকাশ জুড়ে হিংস্র রক্তের হোলী খেলে গেছে !
সমাপ্ত




   মধু বোঁদে

প্রতিদিন কতো যে অদ্ভুত সব ঘটনার সাক্ষী হতে হয়, অদ্ভুত সব মানুষের সাথে পরিচিত হতে হয়, ভেবে হাসিও পায় আবার দুঃখও হয়। এদের কে ভুলতে চাইলেও কিন্তু ভোলা যায় না। মনের গভীরে বাসা বেঁধে রয়েই যায়। আজ এরকমই একজন আপাত নিরীহ গোবেচারা মানুষকে দীর্ঘ দিন পরে রাস্তায় হঠাৎ দেখে এক যুগ আগের এক ভয়ঙ্কর দুর্যোগের রাতের কথা মনে পড়ে গেল। ভদ্রলোকের সাথে প্রত্যক্ষ পরিচয় না থাকলেও, তাঁকে রাস্তাঘাটে প্রায়ই দেখতাম।
মার্চ মাসের একটা দুপুর, অফিসে কাজের ভয়ঙ্কর চাপ, হঠাৎ এক অত্যন্ত ঘনিষ্ট বন্ধুর ফোন, তার মা মারা গেছেন। ওর মাকে মাসিমা বলে ডাকতাম। তিনি আমাকে পুত্রসম স্নেহ করতেন, কতোবার ওদের বাড়ি গিয়ে কব্জি ডুবিয়ে খেয়ে এসেছি, একসাথে বেড়াতে গেছি। যদিও বন্ধুর বাড়ি, আমার বাড়ির কাছেই তবু সহকর্মীদের ওপর হাতের কাজ চাপিয়ে সোজা তার বাড়ি গিয়ে উপস্থিত হলাম। আকাশের অবস্থা খুব ভালো বলে মনে হলো না, তাই প্রাথমিক শোক সামলে নিয়ে একসময় একটা ম্যটাডোরে শবদেহ নিয়ে নিকটতম শ্মশান ঘাটে নিয়ে যাওয়া হলো। উল্লিখিত ভদ্রলোককে ওই পাড়ার বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে সঙ্গে যেতে দেখলাম। তখনও নিমতলা, কেওড়াতলা, ইত্যাদি মহাশ্মশান ছাড়া আর সব শ্মশানেই কাঠের চিতায় শবদাহ করা হতোহাওড়ার শ্মশান ঘাটগুলোয় বৈদ্যুতিক চুল্লি হয়তো স্বপ্নের পর্যায়েই ছিল। যাইহোক, তখনও শবদাহ করতে যাওয়াটা এখনকার মতো ঠিক জুলে রিমে ট্রফি জয়লাভের আনন্দানুষ্ঠানের পর্যায়ে পড়তো না, হরিধ্বনি দিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো বটে, তবে সেই ধ্বনির তীব্রতা কখনই সহনীয় ডেসিবেল মাত্রা অতিক্রম করতো না।
সে যাহোক্, যেকথা বলছিলাম, রওনা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মুষলধারে শিলাবৃষ্টি শুরু হলো। চশমা খুলে রেখে হাত দিয়ে মাথা বাঁচিয়ে আমরা কোনমতে শ্মশান ঘাটে গিয়ে হাজির হলাম। এই শ্মশানটায় গোটা চারেক চুল্লির  ব্যবস্থা থাকলেও, বৃষ্টির জন্য আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় ছিলো না। শ্মশান চত্বরে একটা মন্দির, তার সামনে বেশ খানিকটা জায়গা উঁচু করে লাল সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানো চাতাল। শ্মশান যাত্রীরা ও ভক্তরা সেই চাতালে বসে পূজা দেখেন, বিশ্রাম নেন। আমরা ভিজে পোষাকে সেই চাতালের ওপর দাঁড়িয়ে আছি, কারণ লাল তেলতেলে বাঁধানো চাতালটা এখন আর বসার মতো অবস্থায় নেই। চাতালের ঠিক নীচে শবদাহের চুল্লির অঞ্চলটি জলমগ্ন, জলের হাত থেকে বাঁচতে কয়েকটা কুকর সেই চাতালে আশ্রয় নিয়েছেভিজে কর্দমাক্ত নোংরা চাতালে মাছি ভনভন্ করছে। অবশেষে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে ধীরে ধীরে জল নেমে গেলে, শবদাহর জন্য প্রস্তুতি পর্ব সমাপ্ত হলো। কিছুক্ষণের মধ্যে মুখাগ্নি ও চিতায় অগ্নিসংযোগ করা হলে, আমরা ভিজে পোষাকে ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপত    চাতালের ওপর দাঁড়িয়ে রইলাম। অবস্থার গভীরতা অনুভব করে বন্ধুর বাড়ি থেকে বেশ কয়েকটা গরম চাদরও ইতিমধ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শ্মশানের কাজ মিটতে বেশ রাত হয়ে গেলো। গাড়িটাকেও চুক্তিমতো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর
বেশ অনেকটা পথ হেঁটে গঙ্গার ঘাটে গিয়ে অস্থি ভাসিয়ে স্নান করা, বন্ধু ও তার ভাইকে কাছা ধারণ করতে সাহায্য করা, ইত্যাদি মিটিয়ে যখন বাড়ির পথ ধরলাম, তখন অনেক রাত। মনে একটাই চিন্তা, আমার নিজের কোন সংস্কার না থাকলেও, সঙ্গে অনেক লোক থাকলেও, বন্ধুর বাড়ি একবার যেতেই হবে। সেখানে লোহা ছুঁয়ে, দাঁতে নিমপাতা কেটে, আগুনের তাপ নিয়ে, নিজের বাড়ি ফেরার পথে কুকুরের আক্রমণের মুখে না পড়তে হয়।
যাইহোক বেশ ফিরছিলাম। রাস্তায় যত্রতত্র কুকুর শুয়ে থাকলেও, তারা বোধহয় আমাদের আজ এই দুঃখের দিনে তেড়ে আসতে সংকোচ বোধ করে একবার মুখ ঘুরিয়ে দেখে আবার শুয়ে থাকলো। কিন্তু ফেরার পথে অনেকক্ষণ পরপর অনুচ্চ স্বরে হরিধ্বনি দেওয়া হলেও, অল্প বয়সী যুবকরা মাঝেমাঝেই সুর করে উচ্চৈঃস্বরে মধু বোঁদেবলে চিৎকার করছিল। কেন করছিল বা কার উদ্দেশ্যে করছিল বুঝতে না পারলেও, একটা আসন্ন ঝামেলার আঁচ অনুভব করছিলাম।
কিছুক্ষণ পরেই মধু বোঁদে চিৎকারের সাথে সাথেই সামনে থেকে তোর বাপকে গিয়ে বল্উত্তর শুনতে পেলাম। এরপর থেকে মধু বোঁদে চিৎকারের পর্দা ও সংখ্যা, উভয়ই বেড়ে গেল। বেড়ে গেল সামনে থেকে ওই ভদ্রলোকের মুখ থেকে চোখা চোখা উত্তরের সংখ্যা। ক্লান্ত অবসন্ন দেহে কাঁপতে কাঁপতে সারাদিন পর ফেরার পথে, এমন একটি দিনে শ্মশান বন্ধুদের এই আচরণ ক্রমশঃ বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল।
বেশ ফিরছিলাম, আর হয়তো আধ ঘন্টার মধ্যে পৌঁছে যাবো, এমন একটা সময় অতি নিরীহ ভদ্রলোকটি অতি হিংস্র রূপ ধারণ করে শালা, তোদের বাপরা আমাকে দাদা বলে ডাকে আর তোরা কাল কা যোগী, আমায় নাম ধরে ডাকছিস? এসব কথা তোদের বাপেদের গিয়ে বলগে যাসাথে সঙ্গী যুবকদের বাপেদের উদ্দেশ্যে চোখা চোখা বিশেষণ উচ্চরণ করে একজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। মারামারি, ধস্তাধস্তি, চিৎকার করে গলিগালাজের বন্যা বইতে শুরু করায়, শুয়ে থাকা কুকুররা পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে দলবদ্ধ হয়ে অন্যান্য পাড়ার সঙ্গীদের ডেকে এনে প্রতিবাদ শুরু করে দিলো। কয়েকজন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেও বিফল হলো। বাধ্য হয়ে আমরা কয়েকজন বাস রাস্তার ওপর বসে একটা আশঙ্কা নিয়ে যুদ্ধ বিরতির অপেক্ষা করতে লাগলাম। রাতদুপুরে এই চিৎকার চেঁচামিচিতে না স্থানীয় লোকেরা বিরক্ত হয়ে ঝামেলা শুরু করেন। যাহোক্, অনেক চেষ্টার পর পরিস্থিতি ঠান্ডা হওয়ায় আমরা বন্ধুর বাড়ি অক্ষত দেহে ফিরে এসে প্রয়োজনীয় নিয়ম কানুন সুসম্পন্ন করে যে যার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
পরে মধু বোঁদে রহস্য উদঘাটন হয়েছিল। জানা গেল কোন এক উৎসব বাড়িতে মধু নামক ওই ভদ্রলোক বোঁদে পরিবেশন করেছিলেন, তারপর থেকে তাঁকে মধু বোঁদেবললেই তিনি ওইরকম উত্তেজিত হয়ে পড়েন। জানি না যে উৎসব বাড়িতে মিষ্টি হিসাবে একমাত্র বোঁদেই হয়েছিল, সেখানে তাঁর দোষটা কোথায়? তিনি সেখানে বোঁদের পরিবর্তে কিভাবে রসগোল্লা পরিবেশন করবেন, ভেবে পেলাম না।



বদরু 


বদরুদ্দীন সবে পাখীর খাঁচাটা নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে, সোনাপট্টির ছগন শেঠ আর কাপড়গলির নিত্য বসাক সামনে এসে দাঁড়াল। বদরু ওদের দেখে একটা সেলাম ঠুকে দাঁড়িয়ে রইল। ভাবখানা এমন, এবার আজ্ঞা করুন হুজুর, নইলে ঘরে ফিরতে দেরী হবে যে!
ছগন শেঠ বাঁদিকের খাঁচায় কতগুলো টিয়া আছে,গুণে দেখছিলেন। হিসাব করে দেখলেন ঠিক তেরোটা। গুণেই মুখটা বাঁকালেন-- এ হেঃ হেঃ ...একি করেছ মিঞা, তেরোটা আবার কেউ রাখে, একটা বেচে দাও। তেরোর গুণতি ভাল নয়, জানো না!
বদরু খুব জানে। তেরো যত না খারাপ, ছগন শেঠ যে তার চেয়েও খারাপ তা সে জানে বৈকি! কয়েকদিন  আগে চকবাজারে আন্ডা বেচতে এসেছিল রহিমা, তাকে চোখের ইশারা করেছে এই বদতমিজ! একটু তাড়া দেখিয়ে বদরু বললেঘর যাব হুজুর, আপনি যদি পাখি  নেবেন তো নেন,নইলে পা বাড়াই।
নিত্য বসাক এতক্ষণ বদরুর পাখির খাঁচা দেখতে দেখতে ওদের কথা শুনছিলেন। ছগনের হয়ে মেজাজ  দেখালেন বদরুকে--তোর কিসের এতো তাড়া রে! দেখছিস, ছগন বাবু পাখি দেখছেন, কিনবেন  বলে...আর তুই ঘর যাবার কথা কইছিস! ভাত জোটে  তো পাখি বেচে, তাও চুরি করে জাল ফেলে পাখি ধরিস। ভাবিস আমরা কেউ জানি না? পুলিশে খবর দিলে কত টাকা গচ্চা দিতে হবে, তা জানিস? পাখি বেচার যেন কোন গরজ নেই, নাকি মাসকাবারীর খরচা ঐ বাবুদের বাড়ি থেকেই পাস?
বিরক্ত হল বদরু--অত কথা কেন হুজুর,পাখি বেচব বলেই তো সারাদিন জলে-ঝড়ে হাটে বসে আছি। নেবেন তো বলুন, ঝাঁপ খুলি...
 --ছগন বাবুকে বেচবি কিরে? উনি দয়া করে নিচ্ছেন, সেই তো অনেক। ঐ বাঁদিকের পাখিদুটো কি রে, নীলকন্ঠী মনে হচ্ছে...দে, ঐ দুটো আমায় দিয়ে দে।খাঁচায় নীলকন্ঠ পাখীদুটোর দিকে নজর পড়ে নিত্য বসাকের।
--না হুজুর,ও পাখি বেচবার পাখি নয়, বায়না করা আছে। ও পাখি তো আমি বেচব না হুজুর
--পাখি আবার কে বায়না করল?
--আছে হুজুর, ঐ বাবুদের বাড়ি প্রতি বছর নেয়, ওদের এনে দেই হুজুর, ওরা পাখি কেনেন, কিন্তু পাখি ধরে রাখেন না হুজুর, উড়িয়ে দেন, তাই বড় ভাল লাগে। আর হুজুর দুগ্‌গা ঠাকুর ঠিক আমার জন্যে পাখি ধরিয়ে দেয় হুজুর।
  --বটে! তোর আবার দুগ্‌গা ঠাকুর হল কবে থেকে, হ্যাঁ?বদরুর দিকে ত্যারছা চোখে তাকান নিত্য বসাক। কত দাম বল, ডবল দিয়ে দেব...দে পাখিজোড়া
নিত্য বসাকের কথায় অনড় বদরু, কিন্তু মুখে সেকথা প্রকাশ করে না।
 --তা হুজুর আপনাদের দুগ্‌গা ঠাকুর তো  আপনাদের মাঈই আছে...বড় ভালবাসায় কথা বলে বদরু।
--বটে বটে! তা দুগ্‌গা মায়ের আর কি কি কাজ করা হয়, শুনি?
--কাজ আর কি হুজুর, বাবুরা ফি বছর পাখি দুটো এনে দিতে বলেন হুজুর, বখশিস মেলে, পাখি দেই,  কিন্তু পাখি তো আবার বনে যায় হুজুর...তেনারা তো আর পাখি শিকার করেন না, তাই দিই হুজুর, পাখি ধরি বটে কিন্তু মারধর করলে বড় লাগে হুজুর
বদরুর এতেই আনন্দ। সে পাখি বেচে খায় বটে, কিন্তু মনে বড় লাগে। এনারা পাখিকে উড়িয়ে দেন, তাই  ভাল লাগে। আর অবাক কান্ড! ফি বছর বাবুরা পাখি উড়িয়ে দেন, কিন্তু ফি বছরই সে ঠিক কোথাও না কোথাও একজোড়া পাখি খুঁজে পায়, ধরে এনে বাবুদের হাতে দেয়। তাই বাবুদের কাছে বদরুর কদরও আছে। বাবুরা তার বদলে পুজোর মিষ্টি, খাবার-দাবার, একখানা লুঙ্গি এমন কি গতবছর রহিমাকে একখানা ছাপা শাড়িও দিয়েছিল। তবে সেই বা কেন বাবুদের সঙ্গে অধর্ম করবে!
--কই রে, দে পাখি দুটোনিত্য বসাকের এক গোঁ।
ওই পাখিজোড়া আমায় দে, আর টিয়াটা ছগন বাবুকে দিয়ে দে।
--ও পাখি আমি বেচব না হুজুর, আপনাদের তো বলেইছি অনড় বদরু। আল্লাহ্‌! বাড়ির পথ তো ধরেই ফেলেছিলাম, আর একটু মেহেরবানি করলে তো ঘরেই ফিরে যেতাম, এই বদতমিজ...... মনে মনে ভাবে বদরু।  
ছগন এবার ভুরু কুঁচকে বদরুর দিকে তাকান।আচ্ছা, বসাকবাবুর পাখি দুটা দিয়ে দাও আর হামি ভি তুমাকে কুছু পয়সা দিব, আমাকে টিয়া দিয়ে দাও
এবার রীতিমত রুষ্ট হল বদরুআপনার টিয়া আপনি কিনলে কিনুন হুজুর, কিন্তু ও পাখি আমি বেচব না। আমি জান থাকতে নিমকহারামি করব না হুজুর। আমি বাবুদের বাড়ি কথা দিয়েছি
হঠাৎ ক্ষেপে ওঠেন নিত্য বসাকতুই কি দুগগা ঠাকুর দেখাচ্ছিস রে? শালা...চোর! তাও আবার লেড়ে...আমায় দুগগা দেখাস। খাস তো চুরি করে। পুলিশে দিলে কত টাকা তোর আছে, যে ছাড়ান পাবি? দে শালা...দে তোর পাখি...কেমন না দিস দেখি!বলে জোর করে কেড়ে নিতে যান খাঁচা থেকে পাখি দুটো। বদরু হাত দিয়ে আগলে ধরে থাকে খাঁচা। জোর-জবরদস্তি...শেষে লোহার খাঁচার একটা কোণায়  লেগে বদরুর গালে একটু রক্তপাত আর এই ধস্তাধস্তিতে খাঁচা খুলে একটা পাখি উড়ে পালায়, তাকে ধরতে গিয়ে খাঁচা উলটে আরো একটা । বদরু দু হাত দিয়ে এতো বড় খাঁচা ধরে রাখতে পারে না, টাল সামলাতে গিয়ে মাটিতে উলটে পড়ে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে কি যেন ঘটে যায়। টিয়াগুলোও  ঝটপট ঝটপট করতে করতে দু একটা বাদ দিয়ে বাকি গুলো সব উড়ে পালায়। নিত্য বসাক পাখি দুটো উড়ে পালানোয় হতভম্ব হয়ে যান। বাকি টিয়াগুলোকে খাঁচা থেকে বার করে উড়িয়ে দিতে দিতে অকস্মাৎ জোরে জোরে হেসে ওঠে বদরু...ও আপনাদের দুগগা ঠাকুরের  কাছেই পলালো হুজুর...ধরেন ধরেন...যদি পারেন ধরতে...
বদরুর সঙ্গে পাখি নিয়ে আকচা-আকচিতে কয়েকজন মুটেমজুর, রিকশাওয়ালা দাঁড়িয়ে মজা দেখছিল। তারাও হেসে ওঠে বদরুর হাসি দেখে।
--ধম্মে সইবে না হুজুর, গরীবের মা-বাপ আছেন, আছেন মা দুগ্‌গা...পাখি নিজেই পালালো হুজুর। কি করবেন এবার, বুঝুন!
ধীরে ধীরে মাটি থেকে উঠে দাঁড়ায় বদরু। চোখে এবার জল এসে পড়ে তার। বাবুদের পাখি না দিতে পারলে বদরুর  নিমকহারামি হবে, বদনাম হবে। তার চেয়ে বাবুদের সব কথা খুলে বলাই ভাল, কিন্তু হায় আল্লাহ্‌!  আর কি পাখি এসে ধরা দেবে?
শূন্য খাঁচা কাঁধে ঝুলিয়ে বাবুদের বাড়ি রওনা হল বদরু।


About