পরিতাপ
জানালা দিয়ে সরু পথের দিকে তাঁকিয়ে আছে সঙ্গীতা। এই তো সেদিন তার বিয়ে হলো। হাতের
মেহেদীর রঙগুলোও তেমন ধোঁয়াশা হয়ে যায় নি। কলেজের ফাংশনে কত কত সংঘটন করে ছুটোছুটি করেছে। অথচ,
আজ জানালার চৌকাঠে চিবুক ঠেকিয়ে বসে আছে! পড়ন্ত বিকেলে সামনের রাস্তা ধরে বাড়ির দিকে হেঁটে আসছে তার কলেজ ফেরত ননদ। লিপু।
এদিকে, সূর্যটাও ক্রমশ হেলে পড়ছে
পশ্চিমা আকাশে।সূর্যের
ছায়া অনেকটা এসে পড়েছে তার উপর। লিপুর ছায়ামূর্তিটা ঝুলে
পড়েছে বিটুমিন দেয়া রাস্তায়। ধীরে ধীরে হালকা আলোছায়ায় ভরে
উঠলো চারপাশের পুরো
পরিবেশ।
সঙ্গীতা
জানালার গ্রিল ধরে তবুও লিপুর আগমন পথের দিকে তাঁকিয়ে
আছে। পেছন পেছন আরো একটা ছায়ামূর্তি দীর্ঘায়িত হয়। অচেনা
একজন পুরুষের ছায়ামূর্তি।
লোকটার ছায়ামূর্তিটা ধীরে ধীরে হঠাত সম্পূর্ণভাবে মুড়িয়ে নিলো লিপুর ছায়ামূর্তি। দু'টো ছায়ামূর্তি আর অন্ধকার করা যায় না আলোছায়ায়।
ক্রমাগতভাবে ছায়ামূর্তিগুলো মিলিয়ে যায় অন্ধকারে। সঙ্গীতা
বসে আছে জানালায়। আলো-ছায়াগুলোকে সে খুব ভালো করে চিনে। অল্পদিনেই সেগুলো অনুভব
করছে গভীরভাবে। একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে সঙ্গীতার শ্বাসনালী ফুঁড়ে। জানালাটা বন্ধ করার আগে শেষবার সে তাঁকায়
জানালার বাইরে। সেখানে, বিরাজ
করছে শুধুই ঘোর
অন্ধকার!